top
logo


দূ রে র জা না লা | Print |  E-mail

ইকুয়েটরিয়াল গিনির মাথাপিছু জিডিপি ৫০ হাজার ডলার
কাজী জহিরুল ইসলাম

আরো একটি গিনি আছে, ইকুয়েটরিয়াল গিনি। ওদের মাথাপিছু জিডিপির পরিমান কত জান ? ৫০ হাজার ডলার, বললো সোরি। ‘অবিশ্বাস্য। বিস্ময়কর । কি বলছো তুমি?’ সোরি সাঙ্গারের বাড়ি গিনি কোনাক্রি।

আমাদের বাজেট অফিসার। গিনি সম্পর্কে কিছু লিখতে আরো একবার উৎসাহিত হয়েছিলাম। সেটা ছিল গিনি বিসাউ। আমার আরেক সহকর্মী, এলিস শাখট, গিনি বিসাউয়ের সাবেক ফার্স্ট লেডি। ‘আমার স্বামীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।’ এলিস বলেছিল, আমার জীবনের গল্প শোনাবো তোমাকে।’ কিন' শোনা হয়নি। হুট করে ও বদলি হয়ে যায়। এখন হাইতিতে।

সোরির সঙ্গে প্রায়শই নানান বিষয় নিয়ে খুনসুটি হয়। আফ্রিকার দারিদ্রই এর প্রধান বিষয়। কিন' ইকুয়েটরিয়াল গিনি ? মাথাপিছু জিডিপি ৫০ হাজার ডলার!

২০০২ এ মোট জিডিপির পরিমান ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-এ এসে তা দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। মাত্র তিন বছরে ২০ গুণ প্রবৃদ্ধি! এখন ওদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কুড়ি শতাংশ, বিশ্বে সর্ব্বোচ্চ। কিন' গিনির মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। টাকার পাহাড় বানাচ্ছে দেশের স্বৈরশাসক ইকুয়েটরিয়াল গিনির প্রেসিডেন্ট কর্ণেল টিওডরো অবিয়ঙ গুয়েমা বাসোগো ও তার চেলারা।

১৯৭৯ সালে চাচাকে হটিয়ে দিয়ে অবিয়ঙ ক্ষমতা কেড়ে নেয়। সিংহাসন নিস্কন্টক রাখতে সাবেক প্রেসিডেন্ট, স্বাধীন ইকুয়েটরের জনক, নিজের আপন চাচা ফ্রান্সিসকো মাসিয়াস গুয়েমাকে ঝুলিয়ে দেয় অবিয়ঙ। গুয়েমাও ছিল অত্যাচারী শাসক। অবশ্য তখন দেশে ছিল হতদরিদ্র। ওর পতনে দেশের মানুষ হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। কিন' তার বদলে কি পেল? ফেঙ সমপ্রদায়ের ওই বিশেষ পরিবারটির হাতেই সবকিছু। ইকুয়েটরিয়াল গিনির হতদরিদ্র মানুষগুলো যেন রোদে পোড়া কয়লার ভাস্কর্য একেকটা। কত আশা ছিল, ওই দৈত্যটা যখন গেল, এবার হয়ত এক থাল কাসাভা অথবা দু’বেলা ঠিকমতো আলুকো জুটবে। হযত সপ্তাহে এক আধদিন এক বাটি ঝোল কিংবা কপাল ভালো হলে এক টুকরো ক্যাপিতান মাছও পাতে পড়বে। হলোনা। সেই পুরোনো বোতলে নতুন মদ।

নব্বুইয়ের দশকের শেষের দিকে উপকূলে আবিস্কৃত হয় তরল সোনা, অফুরন- তেল সম্পদ। আর রাতারাতি বদলে যায়  ইকুয়েটরিয়াল গিনির অর্থনীতি। ১৯৯৭ সালে হঠাৎ করে ৭১ দশমিক ২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। আফ্রিকার একমাত্র স্পেনিশ উপনিবেশ ইকুয়েটরিয়াল গিনি স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬৮ সালে। তখন থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন- গুয়েমা-ই ছিল দন্ডমুন্ডের কর্তা, এরপরে অবিয়ঙ।
তেল আবিস্কারের পরে দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় অবিয়ঙ। তবে জাতীয় সম্পদ, বিশেষ করে তেলের বিষয়টি সম্পূর্ণ নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছে। অবিয়ঙের ভাষায়, তেলের বিষয়টি গোপনীয়। এ বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার নেই। অবিয়ঙ দাবী করেন তিনি অত্যন- জনপ্রিয় নেতা। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ এবং ২০০২-এর নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় অবিয়ঙ।

নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে পশ্চিমারা নানান হাস্যকর রসিকতা করে। গুয়েমার পতনের পর দেশের এক তৃতীয়াংশ লোক পাড়ি জমায় ভিনদেশে। ওরা গড়ে তুলেছে ইকুয়েটরিয়াল গিনির প্রবাসী সরকার। শুরু থেকেই লুটপাটের স্বর্গ ছিল গিনি। তেল আবিস্কারের পরে তা আরো বেড়ে যায়। ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হিসেব মতে এই দেশটি সবসময়ই সেরা দশ দূর্ণীতিগ্রস- দেশের মধ্যে আছে। ৫ লক্ষ ৫১ হাজার (২০০৭) লোকের ছোট্র একটি দেশ ইকুয়েটরিয়াল গিনির  মোট আয়তন ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনগনের শতকরা ৮৫ জন প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত। গড় আয়ূ ৫০ বছর। দাপ্তরিক ভাষা স্পেনিশ এবং ফরাসি হলেও স্পেনিশ ভাষাই বেশিরভাগ লোক কথা বলে। জনসংখ্যার অধিকাংশই ক্যাথলিক খ্রিস্টান।

ইকুয়েটরিয়াল গিনির ভূ-গোল বড় বিচিত্র। দেশের রাজধানী মালাবো আটলান্টিকের বুকে ভাসমান বিয়োকো দ্বীপে অবসি'ত যা মূল ভূ-খন্ড থেকে কয়েক’শ মাইল দূরে। মূল ভু-খন্ডে অবসি'ত লিটোরাল প্রদেশের বাটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বিয়োকো দ্বীপে রয়েছে তিনটি অগ্নিগিরি, যেগুলির উচ্চতা যথাক্রমে ৯৮৭৬, ৭৪১৬ এবং ৬৮৮৫ ফুট।

ইকুয়েটরিয়াল গিনি অসহ্য গরমের দেশ হলেও হাজার হাজার মার্কিনী পর্যটক সারাবছর ধরেই ভিড় করে ওখানে। পৃথিবীর একমাত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে দেশের নাগরিকদের ওখানে যেতে কোন ভিসা লাগে না। পিগমিদের দেশ বলেই খ্যাত ছিল ইকুয়েটরিয়াল গিনি। সপ্তদশ শতকে ফেঙ এবং বুবি সমপ্রদায়ের আগমন ঘটে এখানে। এখন পিগমিদের কোন অসি-ত্বই নেই। ফেঙরা মূল ভূখন্ডে রয়ে গেলেও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বুবিরা পাড়ি জমায় ফার্নান্দো পো দ্বীপে, পরবর্তিতে যে দ্বীপের নামকরণ হয় বিয়োকো। ফেঙ এবং বুবি ছাড়াও আরো বেশ কয়টি সমপ্রদায়ের লোক রয়েছে ইকুয়েটরিয়াল গিনিতে, সংখ্যালঘু এই সমপ্রদায়গুলো হচ্ছে: অন্নোবন, দোয়ে, কোম্বে এবং বুজেবাস। একমাত্র ফেঙ ছাড়া আর কারো কোন পাত্তা নেই, যদিও ইকুয়েটরিয়াল নামে জাতীয়তাবোধ গড়ে তোলার সামপ্রতিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

লেখক : কবি, জাতিসংঘের আন-র্জাতিক পেশাজীবী দূ রে র  জা না লা

ইকুয়েটরিয়াল গিনির মাথাপিছু জিডিপি ৫০ হাজার ডলার
কাজী জহিরুল ইসলাম

আরো একটি গিনি আছে, ইকুয়েটরিয়াল গিনি। ওদের মাথাপিছু জিডিপির পরিমান কত জান ? ৫০ হাজার ডলার, বললো সোরি। ‘অবিশ্বাস্য। বিস্ময়কর । কি বলছো তুমি?’ সোরি সাঙ্গারের বাড়ি গিনি কোনাক্রি।

আমাদের বাজেট অফিসার। গিনি সম্পর্কে কিছু লিখতে আরো একবার উৎসাহিত হয়েছিলাম। সেটা ছিল গিনি বিসাউ। আমার আরেক সহকর্মী, এলিস শাখট, গিনি বিসাউয়ের সাবেক ফার্স্ট লেডি। ‘আমার স্বামীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।’ এলিস বলেছিল, আমার জীবনের গল্প শোনাবো তোমাকে।’ কিন' শোনা হয়নি। হুট করে ও বদলি হয়ে যায়। এখন হাইতিতে।

সোরির সঙ্গে প্রায়শই নানান বিষয় নিয়ে খুনসুটি হয়। আফ্রিকার দারিদ্রই এর প্রধান বিষয়। কিন' ইকুয়েটরিয়াল গিনি ? মাথাপিছু জিডিপি ৫০ হাজার ডলার!

২০০২ এ মোট জিডিপির পরিমান ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-এ এসে তা দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। মাত্র তিন বছরে ২০ গুণ প্রবৃদ্ধি! এখন ওদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কুড়ি শতাংশ, বিশ্বে সর্ব্বোচ্চ। কিন' গিনির মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। টাকার পাহাড় বানাচ্ছে দেশের স্বৈরশাসক ইকুয়েটরিয়াল গিনির প্রেসিডেন্ট কর্ণেল টিওডরো অবিয়ঙ গুয়েমা বাসোগো ও তার চেলারা।

১৯৭৯ সালে চাচাকে হটিয়ে দিয়ে অবিয়ঙ ক্ষমতা কেড়ে নেয়। সিংহাসন নিস্কন্টক রাখতে সাবেক প্রেসিডেন্ট, স্বাধীন ইকুয়েটরের জনক, নিজের আপন চাচা ফ্রান্সিসকো মাসিয়াস গুয়েমাকে ঝুলিয়ে দেয় অবিয়ঙ। গুয়েমাও ছিল অত্যাচারী শাসক। অবশ্য তখন দেশে ছিল হতদরিদ্র। ওর পতনে দেশের মানুষ হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। কিন' তার বদলে কি পেল? ফেঙ সমপ্রদায়ের ওই বিশেষ পরিবারটির হাতেই সবকিছু। ইকুয়েটরিয়াল গিনির হতদরিদ্র মানুষগুলো যেন রোদে পোড়া কয়লার ভাস্কর্য একেকটা। কত আশা ছিল, ওই দৈত্যটা যখন গেল, এবার হয়ত এক থাল কাসাভা অথবা দু’বেলা ঠিকমতো আলুকো জুটবে। হযত সপ্তাহে এক আধদিন এক বাটি ঝোল কিংবা কপাল ভালো হলে এক টুকরো ক্যাপিতান মাছও পাতে পড়বে। হলোনা। সেই পুরোনো বোতলে নতুন মদ।

নব্বুইয়ের দশকের শেষের দিকে উপকূলে আবিস্কৃত হয় তরল সোনা, অফুরন- তেল সম্পদ। আর রাতারাতি বদলে যায়  ইকুয়েটরিয়াল গিনির অর্থনীতি। ১৯৯৭ সালে হঠাৎ করে ৭১ দশমিক ২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। আফ্রিকার একমাত্র স্পেনিশ উপনিবেশ ইকুয়েটরিয়াল গিনি স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৬৮ সালে। তখন থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন- গুয়েমা-ই ছিল দন্ডমুন্ডের কর্তা, এরপরে অবিয়ঙ।
তেল আবিস্কারের পরে দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় অবিয়ঙ। তবে জাতীয় সম্পদ, বিশেষ করে তেলের বিষয়টি সম্পূর্ণ নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছে। অবিয়ঙের ভাষায়, তেলের বিষয়টি গোপনীয়। এ বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার নেই। অবিয়ঙ দাবী করেন তিনি অত্যন- জনপ্রিয় নেতা। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ এবং ২০০২-এর নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় অবিয়ঙ।

নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে পশ্চিমারা নানান হাস্যকর রসিকতা করে। গুয়েমার পতনের পর দেশের এক তৃতীয়াংশ লোক পাড়ি জমায় ভিনদেশে। ওরা গড়ে তুলেছে ইকুয়েটরিয়াল গিনির প্রবাসী সরকার। শুরু থেকেই লুটপাটের স্বর্গ ছিল গিনি। তেল আবিস্কারের পরে তা আরো বেড়ে যায়। ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হিসেব মতে এই দেশটি সবসময়ই সেরা দশ দূর্ণীতিগ্রস- দেশের মধ্যে আছে। ৫ লক্ষ ৫১ হাজার (২০০৭) লোকের ছোট্র একটি দেশ ইকুয়েটরিয়াল গিনির  মোট আয়তন ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনগনের শতকরা ৮৫ জন প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত। গড় আয়ূ ৫০ বছর। দাপ্তরিক ভাষা স্পেনিশ এবং ফরাসি হলেও স্পেনিশ ভাষাই বেশিরভাগ লোক কথা বলে। জনসংখ্যার অধিকাংশই ক্যাথলিক খ্রিস্টান।

ইকুয়েটরিয়াল গিনির ভূ-গোল বড় বিচিত্র। দেশের রাজধানী মালাবো আটলান্টিকের বুকে ভাসমান বিয়োকো দ্বীপে অবসি'ত যা মূল ভূ-খন্ড থেকে কয়েক’শ মাইল দূরে। মূল ভু-খন্ডে অবসি'ত লিটোরাল প্রদেশের বাটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বিয়োকো দ্বীপে রয়েছে তিনটি অগ্নিগিরি, যেগুলির উচ্চতা যথাক্রমে ৯৮৭৬, ৭৪১৬ এবং ৬৮৮৫ ফুট।

ইকুয়েটরিয়াল গিনি অসহ্য গরমের দেশ হলেও হাজার হাজার মার্কিনী পর্যটক সারাবছর ধরেই ভিড় করে ওখানে। পৃথিবীর একমাত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে দেশের নাগরিকদের ওখানে যেতে কোন ভিসা লাগে না। পিগমিদের দেশ বলেই খ্যাত ছিল ইকুয়েটরিয়াল গিনি। সপ্তদশ শতকে ফেঙ এবং বুবি সমপ্রদায়ের আগমন ঘটে এখানে। এখন পিগমিদের কোন অসি-ত্বই নেই। ফেঙরা মূল ভূখন্ডে রয়ে গেলেও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বুবিরা পাড়ি জমায় ফার্নান্দো পো দ্বীপে, পরবর্তিতে যে দ্বীপের নামকরণ হয় বিয়োকো। ফেঙ এবং বুবি ছাড়াও আরো বেশ কয়টি সমপ্রদায়ের লোক রয়েছে ইকুয়েটরিয়াল গিনিতে, সংখ্যালঘু এই সমপ্রদায়গুলো হচ্ছে: অন্নোবন, দোয়ে, কোম্বে এবং বুজেবাস। একমাত্র ফেঙ ছাড়া আর কারো কোন পাত্তা নেই, যদিও ইকুয়েটরিয়াল নামে জাতীয়তাবোধ গড়ে তোলার সামপ্রতিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

লেখক : কবি, জাতিসংঘের আন-র্জাতিক পেশাজীবী

 

 


bottom

Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351, +880-2-8919351, +880-2-8956608, +880-2-8956608, Fax: +880-2-8963402,
E-mail: info@doshdik.com
Doshdik Media Limited. All rights reserved.