|
বাংলাদেশের প্রকৃতি তিনজন বিশ্ববরেণ্য কবিকে উপহার দিয়েছে। এঁরা হচ্ছেন সোনার বাংলার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ্ থেকে এঁরা বাংলাদেশ ও এদেশের প্রকৃতিকে গভীরভাবে দেখেছেন তারপর চিরভাস্বর করে রেখেছেন তাঁদের উপলদ্ধিকে কবিতা, গানে, গল্পে, উপন্যাসে। যেমনটি আমরা চিত্রশিল্পে খুব কমই খুঁজে পাই। তবে প্রচুর আলোকচিত্র ধারণ করা আছে কতিপয় খ্যাতিমান আলোকচিত্রগ্রাহকদের ক্যামেরায়। যাঁদের ছবির সঙ্গে সামপ্রতিক গ্রামীণ বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্যময়তার অনেক পরিবর্তন লক্ষণীয়। মূলত সুদীর্ঘকালের চরম অযত্ন, অবহেলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ভরাট করে অপরিকল্পিত দালান-কোঠা তৈরি হওয়ার ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি বনউজাড়, বৃক্ষনিধনের কারণে পরিবেশদূষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতায় ধুঁকছে সমগ্র বাংলাদেশ। এই প্রবণতা রোধ করার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এখনো যতটুকু আছে তাও ধরে রাখার জন্য যথার্থ পদক্ষেপ সরকারি বেসরকারি দিক থেকে অপ্রতুল বলা চলে।।
এদেশে রয়েছে আশ্চর্য সুন্দর কতগুলো জায়গা যা পর্যটনশিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম। যেমন খুলনার সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দারবান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, প্রবাল দ্বীপ, মহেশখালি, সোনাদিয়া, নিঝুম দ্বীপ, রামু, টেকনাফ; কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়, ময়মনসিংহের ভাওয়ালের গড়, মধুপুর, সোনার গাঁও, রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমি অঞ্চল উল্লেখযোগ্য। অথবা রাজধানী ঢাকার বলদা গার্ডেন। এসবকে কেন্দ্র করে কত পরিকল্পনাই না গ্রহণ করা যায়। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, মেঘনা নদীতীরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা যেতে পারে বনরাজি ঘেরা নাগরিক উদ্যান, গুলশান হ্রদ হতে পারে সৌন্দর্যের লীলাভূমি শুধু যে বিদেশীদের জন্য তা নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও স্বদেশের সৌন্দর্য দেখার ব্যবস'া করা কি খুবই কঠিন কাজ??
তারপরও বিছিন্নভাবে বাংলােেশর এখানে সেখানে গড়ে উঠছে প্রকৃতিকেন্দ্রিক উদ্যান, যেখানে ব্যস- নগরবাসী দুদন্ডের জন্য ষড়ঋতুর ছায়া ও মায়া উপভোগ করতে পারছেন। ঢাকার উপকেন্দ্রে আশুলিয়া, গাজিপুরে গড়ে উঠছে জাতীয় উদ্যান। শীতের দিনে বনভোজনে মেতে উঠছে শিশু-কিশোর, তরুণ প্রজন্ম। দেশের নাগরিকরা কিভাবে আরও স্বচ্ছন্দে নিজের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আবিষ্কার করতে পারে তার জন্য পর্যটন কর্পোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। খুবই আশ্চর্য লাগে যে, সামপ্রতিককালে ইন্টারনেটে দেশী-বিদেশীরা বাংলাদেশের ছায়াময়-মায়াময় অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য ও অসংখ্য ঐতিহাসিক স'াপত্যকর্মকে তুলে ধরছেন তাঁদের সুন্দর ওয়েবসাইটগুলোতে যা দেখার পর সত্যি চোখ এবং মনের যেমন তৃপ্তি তেমনি গর্ববোধ হয় যে, বাংলাদেশের বুকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে ভিন্ন বৈচিত্র আছে। |