|
উত্তর কোরিয়া এবং চীনের সীমানে- আছে একটি পাহাড় নাম বায়েকদু মাউন্টেন। যার খবর আমরা খুব কমই জানি। এই পাহাড় মূলত একটি আগ্নেয়গিরি। কোরিয়ান ভাষায় একে বায়েকদুসান বা সাদামুখো পাহাড় আর চীনা ভাষায় বলে চাংবাই। এর উচ্চতা ২৭৪৪ মিটার বা ৯০০৩ ফিট। ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এটি বিষ্ফোরিত হয়। শেষ বিস্ফোরণ ঘটে ১৯০৩ সালে। সৃষ্টি হয় পৃথিবীর অন্যতম এক পর্বতশীর্ষ ভূস্বর্গ। যা হিমালয়সি'ত ভারত, নেপাল, তিব্বতের পাহাড়ি সৌন্দর্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রকৃতির লীলা বোঝা বড় দায়। প্রকৃতি সৃষ্টি করে দিয়েছে অপূর্ব এক জলাশয় যাকে মানুষ নাম দিয়েছে হেভেন লেইক বা স্বর্গীয় হ্রদ। শীতের সময় এই হ্রদ হয়ে ওঠে এক আয়না যেখানে নীলাকাশ ও মেঘের প্রতিচ্ছবি অনির্বচনীয় এক সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। শুভ্র বরফ আচ্ছাদিত এই হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা ভিড় করেন প্রতি বছর। এই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন উত্তর কোরীয়, চীনা, মানচু, কাজাখ প্রভৃতি জাতির অধিবাসীরা। তাঁরা মঙ্গোলীয়দের মতোই ণঁৎঃ নামক এক ধরনের অস'ায়ী তাঁবুতে বসবাস করেন। তাঁবুগুলোও নানা রং ও আল্পনায় রঞ্জিত। ঘোড়াই তাঁদের যানবাহন। পর্যটকদের তাঁরা ঘোড়ায় চড়িয়ে পাহাড়ি পথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাহায্য করে। চীনের দিকে অবসি'ত অংশে ২০০৭ সালে এশিয়ান ইউন্টার গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই হ্রদ দেখতে যেতে হলে চীনের সীমান- দিয়ে যেতে হয়। শুধু হ্রদই নয় এখানে রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা, নদী এবং নয়নাভিরাম বনরাজি। এছাড়া আগ্নেয়গিরির কারণে এখানে প্রাকৃতিক ঐড়ঃ ংঢ়ৎরহম বা উষ্ণ-প্রস্রবণও রয়েছে। প্রতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচুর লোক সেখানে যান শীতকালে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। পাহাড়ি ছায়াঢাকা পথ ধরে পর্বতারোহণ একটি জনপ্রিয় প্রবণতা এই অঞ্চলের মানুষের।
|