top
logo


জাপান ও ইসলাম ধর্ম: ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ | Print |  E-mail

প্রবীর বিকাশ সরকার

আমাদের অনেকেরই  জানা  নেই  জাপান এবং ইসলাম সম্পর্কের  
ইতিহাস। এ দেশ হচ্ছে অপূর্ব এক ধর্মীয় বৈচিত্রের দেশ, সেই বৈচিত্রের মধ্যে ইসলাম ধর্মও কম উজ্জ্বল নয়। জাপানের মতো ধর্মীয় সহাবস'ান ও শানি- আর কোনো দেশে কী পরিলক্ষিত হয়? আজকের দিনে অধিকাংশ মুসলিম দেশেই শানি- নেই নানাবিধ কারণে। জাপানে বর্তমানে ৬ লাখ জাপানি মুসলমান --তাঁদের নিজেদের মধ্যেও যেমন কোনো ভেদাভেদ নেই তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও নেই। কেন নেই? এই প্রশ্নটির মুখোমুখি হই প্রায়শ। মনে মনে উত্তর খুঁজে পাই এরা সভ্য এবং শানি-বাদী বলে। ধর্মকে সস-াদৃষ্টিতে দেখার যেমন তাদের কোনো ইচ্ছে নেই তেমনি ধর্মকে অপব্যাখ্যায়িত করার চেষ্টা দৃষ্টিগোচর হয় না। বস'ত সকল ধর্মের প্রতি জাপানিদের শ্রদ্ধা ও আস'া বিদ্যমান। এমনকি প্রতিটি ধর্ম বিষয়ে জাপানিদের কৌতূহল  যেমন  রয়েছে  তেমনি  গবেষণাও  কম  হচ্ছে
না। অবশ্য জাপানি সংবিধানে কোনো ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কটাক্ষ না করার জন্য বিধি অন-র্ভুক্ত আছে। এই বিধির জন্যই কি এদেশের নাগরিকরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন না? তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোতে কী হচ্ছে? যা হচ্ছে সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই সচেতন।

কিন' ধর্মের সঙ্গে যে দেশাত্মবোধের একটি গভীর সম্পর্ক আছে এটা এখন নেই বললেই চলে। ধর্ম আসার আগে যে মানুষের জন্ম এটা আমরা ভুলেই গেছি বর্তমান যুগে। আগের দিনে তা ছিল না। প্রত্যেক ধর্মীয় প্রবর্তক, নেতা ও পন্ডিতরা ধর্মীয় আচার-আচরণের সঙ্গে-সঙ্গে গভীরভাবে স্বাদেশিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। জন্মভূমি তথা দেশ না থাকলে মানুষ থাকবে না, থাকবে না ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস কোনো কিছুই। ধর্ম কারো ব্যক্তিগত জিনিস নয়, এটা পার্থিব বিষয়। একজন মানুষ মারা যাবার সঙ্গে-সঙ্গে তার ধর্মও শেষ হয়ে যায়, যা থাকে সেটা তার জীবদ্দশার গুণগত কাজকর্মের দৃষ্টান---যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এবং শিক্ষণীয় এই বিষয়টি জাপানিরা খুব ভালো বোঝেন বলেই তাদের সমাজে কোনো দ্বন্দ্ব নেই প্রকাশ্যে। কিছু দ্বন্দ্ব, দ্বিধা, অপছন্দ নেই তা বলা যাবে না, তবে সেসব গভীর অন-রালে--দেশ ও জাতির উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তাই জাপানি ইসলামি ধর্মাবলম্বীরাও গভীর দেশাত্ববোধে আপ্লুত।



বৌদ্ধধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম, ইহুদি ধর্ম আসার পর জাপানে ইসলাম ধর্ম আসে সব শেষে মেইজি যুগে (১৯৮৬৮-১৯১২) যখন মহাসংস্কার বা জাগরণের মধ্য দিয়ে মধ্যযুগীয় দেশ জাপান সর্বদিক দিয়ে আধুনিক হতে থাকে। জাপান সম্রাট মেইজির অধীনে একটি সাম্রাজ্য বলে নিজেকে ঘোষণা করে মূলত শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি থেকে নিজকেস্বাধীন রাখতে। তখন এশিয়া মহাদেশে একমাত্র জাপানই ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র। অন্যদিকে মুসলিম অটোমান এ্যাম্পায়ার ছিল ইয়োরোপ-এশিয়া-আফ্রিকা জুড়ে একটি স্বাধীন সাম্রাজ্য কিন' বরাবরই রাশিয়ার সঙ্গে চলছিল যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব। শুধু রাশিয়াই নয়, বৃটিশ, ইতালি, জার্মানী প্রভৃতিও প্রভূত শক্তিশালী তখন। এই শ্বেতাঙ্গ শক্তিকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান দ্বিতীয় আবদাল হামিদ ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নৌপ্রধান ওসমান পাশার নেতৃত্বে ৬শ সেনার একটি দলকে জাপান সফরে পাঠান। তাঁরা সম্রাট, রাজকীয় উচ্চপদস' কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ফ্রান্সের নেতৃত্বে রাজকীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেন। কিন' ফেরার পথে ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ওয়াকায়ামা প্রিফেকচারস' ওওশিমা দ্বীপের কাছে  সামুদ্রিক  ঝড়ে  রণতরী ডুবে গেলে সুলতানের এক ভাইসহ ৫ শতাধিক সেনা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদেরকে রক্ষাকল্পে জাপানি নৌবাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা করে এবং মাত্র ৬৯ জনকে বাঁচাতে সক্ষম হয়। মৃতদেরকে জাপানে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে সমাধিস' এবং জীবিতদেরকে  সম্রাটের নির্দেশে জাপানি রণতরী দিয়ে স্বদেশ পর্যন- পৌঁছে দেয়া হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই প্রথম কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় বলে কথিত আছে।

রুশ-জাপান যুদ্ধের (১৯০৪-৫) পর জাপান আগ্রহ প্রকাশ করে মুসলিম বিশ্বের দিকে। মিশর থেকে কতিপয় সেনা কর্মকর্তা জাপানে এসে রাজকীয় সেনা বাহিনীতে কাজ  করেন এবং জাপানি নারীর সঙ্গে  বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ হন। এই সময় বন্দী রাশিয়ান মুসলিম সেনাদের দ্বারা প্রথম মসজিদ ওসাকা শহরে নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে টোকিওতে একটি আন-র্জাতিক ধর্মীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুসলিম পন্ডিতরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এঁদের মধ্যে মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং শাহ্‌রিয়া আইনজ্ঞ আলী আমেদ আল-জারজাঈও উপসি'ত ছিলেন এবং জাপান ভ্রমণ বিষয়ক একটি গ্রন'ও লিখে রেখে গেছেন। শুধু তাই নয়, জাপানে থাকাকালীন তিনি চীনা ও ভারতীয় প্রবাসী মুসলিমদেরকে নিয়ে একটি মুসলিম সমিতিও গঠন করেন  টোকিওতে যেখানে প্রায় ১২,০০০ জাপানি নাগরিক ইসলাম ধর্মে ধর্মান-রিত হন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে আহমদ ফাদলি নামে একজন মিশরীয় উচ্চপদস' কর্মকর্তা জাপানে বিয়ে করেন এবং আরবি ভাষায় ‘জাপানের উন্নতির পশ্চাৎ কথা’ বিষয়ক গ্রন' প্রকাশ করেন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে। এরপর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আবদুর রশিদ ইব্রাহিম নামে একজন রাশিয়ান পর্যটক ও ধর্মপ্রচারক জাপানে আগমন করেন।

একই বছরে ভারতীয় মুসলিম পন্ডিত এবং তুখোড় বিপ্লবী মোহাম্মদ বরকতউল্লাহ্‌ টোকিও ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। উদারপন'ী মুসলিম এই মনীষী জাপান, আমেরিকা, রাশিয়া এবং য়োরোপব্যাপী বিস-ৃত বিপ্লবী কর্মকান্ডে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি জাপান ও এশিয়ার মধ্যে প্যান-ইসলামিক আন্দোলন সমপ্রসারণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য আজও স্মরণীয়। আফগানিস-ানসহ মধ্যএশিয়াকে ‘ভবিষ্যতের জাপান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আধুনিক জাপানেরই প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বিপুলভাবে। তিনি জাপানে অবস'ানকালীন একটি ইংরেজি সাময়িকী ‘ইসলাম ফ্রেটারনিটি’ (ওংষধস ঋৎধঃবৎহরঃু) প্রকাশ করেছিলেন কিছুদিন (১৯১০-১২) কিন' বৃটিশ সরকারের চাপে সেটা বন্ধ করে দেয় জাপান সরকার। মাওলানা বরকতউল্লাহ্‌র মধ্যে সকল ধর্মের অদ্ভুত এক সমন্বয় ঘটেছিল। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর সহযোগী হাসান উ. হাতানাও, তাঁর স্ত্রী এবং হাতানাও এর পিতা ধনশালী ব্যক্তি ব্যারন হিকি কেনতারোকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান-রিত করেছিলেন। কথিত আছে এঁরাই হচ্ছেন প্রথম দিকের জাপানি মুসলিম সমপ্রদায়ের সদস্য। তাঁর পরে ভারত থেকে নূর আল-হাসান পার্লাস উর্দুভাষী পন্ডিত স'লাভিষিক্ত হন ঐ পদে (১৯৩২-৪৯)। এই বছরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, আবদুর রশিদের সঙ্গে জাপানি মুসলিম ওমর ইয়ামাওকা মুসলিম তীর্থস'ান এবং ইস-ানবুল ভ্রমণ করেন।  সম্ভবত  তিনিই  প্রথম  জাপানি  যিনি  মুসলমান  ধর্ম গ্রহণ করে ইসলামের পবিত্র তীর্থস'ান পরিদর্শনে যান।
১৯২০-৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জাপান মুসলিম চিন-া, সংস্কৃতি, অর্থনীতি প্রভৃতির প্রতি আরও দৃষ্টি সমপ্রসারিত করে। পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা জাপানি অনুবাদসহ বিভিন্ন ইসলামি গ্রন' প্রকাশিত হতে থাকে। কমিউনিস্ট রাশিয়া থেকে তাতার মুসলিমরা জাপানে আশ্রয় গ্রহণ করে কোবে, নাগোয়া, টোকিও প্রভৃতি জায়গায় স'ায়ী হন। এঁদের নেতা আবদুল হাই কুরবান আলীর প্রচেষ্টায় টোকিওর প্রথম মসজিদ নির্মিত হয় ১৯৩৮-এ। এই মসজিদ উদ্বোধন উপলক্ষে লন্ডনস' সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল আজিজ আল-সোউদ; ইয়েমেন  থেকে  সাইফ  আল-ইসলাম আল-হোসেইন; মিশর থেকে মাহমুদ ফৌজিসহ বিশিষ্ট জাপানি নাগরিক উপসি'ত  ছিলেন। তাতাররা  আইচি-প্রিফেকচারের  নাগোয়া  
শহরেও সমজিদ নির্মাণ করেন বলে জানা যায়। তাঁদের দেখাদেখি ভারতীয় মুসলমানরাও পিছিয়ে থাকেননি, তাঁরাও ১৯৩৫ এর দিকে কোবে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। কুরবান আলী ছিলেন অত্যন- কর্মঠ এবং জাপানপ্রিয় ব্যক্তি যিনি জাপানে আরবি ভাষার মুদ্রণযন্ত্র পর্যন- স'াপন করেছিলেন। সেখান থেকে ঐ ভাষায় পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ইসলাম ধর্মীয় গ্রন' ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিজেও ‘ইয়াপান মাখবারি’ নামে জাপান সম্পর্কে মূল্যবান গ্রন' লিখে গেছেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্য যখন শ্বেতাঙ্গ শক্তির প্রভাবে অর্থনৈতিক এবং ‘ইয়াং টার্কিস’দের উত্থানে রাজনৈতিকভাবে বিপর্যন- তখন সূচনা হয় তুরস্ক স্বাধীনতা আন্দোলনের। এই সময় কতিপয় তুর্কী নেতা জাপানে আগমন করেন সহযোগিতা লাভের জন্য। তাঁদেরকে আশ্রয় এবং সহযোগিতা প্রদান করেন তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক চিন-াবিদ এবং গুপ্ত সমিতি ‘গেনয়োশা’, ‘কোকুরিইকাই’ এর প্রধান পরিচালক গুরু তোয়ামা মিৎসুরু এবং তাঁর প্যান-এশিয়ানিস্ট সহযোগীরা। প্রকৃতপক্ষে, সেই সময় পরাধীন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ ছাড়াও চীন, রাশিয়া, আফগানিস-ান, মধ্য এশিয়ার মুসলিম সমপ্রদায় সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক তথা সব ক্ষেত্রেই নির্যাতিত, উপেক্ষিত হচ্ছিল যে কারণে শক্তিশালী জাপানের প্যান-এশিয়ানিস্টদের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য যাঁরা এদেশে আগমন করেছিলেন সবাই ছিলেন জাতীয়তাবাদী, মুক্তিকামী মানুষ। এবং তাঁরা অকুন্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী জাপানিদের।

এই প্যান-এশিয়ানিস্ট মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী, ভারতীয় বেদ, দর্শন ও ইসলাম ধর্মে সুপন্ডিত ওওকাওয়া শুমেই (১৮৮৬-১৯৫৭) বার্ধক্যে এসে অসামান্য কাজ করেছেন। তিনি মূল আরবি ভাষা থেকে জাপানি ভাষায় পবিত্র আল-কোরআন অনুবাদ করেন হাসপাতালে অসুস'বস'ায় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে। এটা ছিল তাঁর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। এবং এটাই জাপানি ভাষায় প্রথম অনুবাদ। এছাড়া ‘কাইকিয়ো রোন’ (ইসলাম ধর্মের রূপরেখা) নামেও একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন' লিখে আজও তিনি স্মরণীয়। এরপর অবশ্য ১৯৫৭ সালেও দুখন্ডে পবিত্র কোরআন এর জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেন ইসলাম ধর্ম বিশেষজ্ঞ ইজুৎসু তোশিহিকো। এছাড়াও তিনি ‘মোহাম্মেদো’ (মোহাম্মদ), ‘ইসরামু বুনকা’ (ইসলাম সংস্কৃতি) প্রভৃতি গ্রন'ও রচনা করে ইসলাম ধর্মকে জাপানি সমাজে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন।     

১৯৩৬ সালের দিকে আর একজন ভারতীয় মুসলিম পন্ডিত ও ধর্মপ্রচারক আলীমুল্লাহ্‌ সিদ্দিকী জাপানে আসেন এবং একাধিক বক্তৃতা প্রদান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান যখন এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র দখল করে নেয়, সেসব দেশে অনেক জাপানি নাগরিক বিভিন্ন কর্মোপলক্ষে গমন এবং মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত জাপানি ব্যক্তিরাও ছিলেন। যুদ্ধের পর জাপানের সঙ্গে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে থাকে। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে পাকিস-ান থেকে একাধিক তবলিগ দল ও দলনেতা জাপানে আগমন করেন, আধ্যাত্মিক চিন-া সঞ্চারকারী এই আন্দোলনে বহু জাপানি ইসলাম ধর্মে ধর্মান-রিত হন মূলত শানি-র লক্ষ্যে। এই সময় অনেক মুসলিম পন্ডিত ও ধর্মপ্রচারক এদেশে এসেছেন এবং সভাসম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।

সত্তর দশকের দিকে জাপানের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি তেল উৎপাদনকারী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক স'াপিত হয় এবং আজও তা অব্যাহত। এশিয়ার দুটি মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রভূত উন্নতির পেছনে জাপানের অবদান অনস্বীকার্য।  ১৯৭০ সালে সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ জাপান সফর করেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

৮০-৯০ এর দশকে জাপানের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এশিয়া, আফ্রিকার প্রচুর মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক উচ্চশিক্ষা গ্রহণে জাপানে আসতে থাকেন। অনুরূপ পাকিস-ান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে অসংখ্য শ্রমিক এসে এদেশের কলকারখানা ও সার্ভিস ক্ষেত্রে কাজ করছেন, গড়ে তুলছেন মসজিদ, ছড়িয়ে দিচ্ছেন মুসলিম সংস্কৃতি, রেখে চলেছেন জাপানিদের সঙ্গে মৈত্রবন্ধনে জোরালো ভূমিকা। তবে অধিকাংশই জানেন না যে জাপানের সঙ্গে শতবর্ষের সম্পর্ক রয়েছে উদারপন'ী ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের যাঁরা সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক শানি- প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই জাপানে অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন। এই আমাদের জানার প্রয়োজন রয়েছে যে, ধর্মীয় চেতনার ভিতর দিয়ে আমাদেরকে সেই দেশপ্রেমের শিক্ষা লাভ করতে হবে যা শতবর্ষ সম্পর্কের অন-রালে চিরভাস্বর।

 

 


bottom

Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351, +880-2-8919351, +880-2-8956608, +880-2-8956608, Fax: +880-2-8963402,
E-mail: info@doshdik.com
Doshdik Media Limited. All rights reserved.