top
logo


জীববৈচিত্র্যপূর্ণ একটি পৃথিবীই আমাদের স্বপ্ন (২য় পর্ব) PDF Print E-mail
Written by দশদিক ডেস্ক   
Saturday, 03 July 2010 05:11

প্রথমা চৌধুরী

আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাওরবাসীর জন্য হাওর ও জলাভূমি উন্নয়নে মহাপরিকল্পনার আলোকে সমন্বিত পঞ্চবার্ষিকী প্রণয়ন হাতে নিয়েছেন। আমি অনুরোধ করব হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল রার বাঁধগুলোর উচ্চতা বাড়ানোর সাথে স্থায়ী টেকসই এবং মজবুতভাবে তৈরি করা হয়। হাকালকি হাওরের মতো আরও তিনটি হাওর টাঙ্গুয়ারী হাওর, শনির হাওর এবং সরকার হাওর পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপকূলীয় ও জলাভূমি গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্পটি যেমন হাকালুকি হাওর পাড়ের মানষদের নিয়ে

নোনা মাছনিধন ও পাখি শিকার বন্ধ করেছে। এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠির

জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য হাঁসপালন, গবাদি পশুপালন ইত্যাদি শুরু করেছে। তেমনি ঐ তিনটি হাওরও যেন সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এগার
উপকূলীয় ও জলাভূমি বাস্তবায়নের কারণে হাওরে দেশীয় প্রায় বিলুপ্ত পাখিরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ২০০৮-০৫ সালে জরিপের সময় হাকালুকি হাওরে বেগুনী কালিম পাখি পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে দেখা মেলে দুইটি। ২০০৮ সালে ৭-৮ টি। ২০০৯ সালে হাকালুকি হাওরের হিংগাইজুড়ী ও ফুটবিলে দেখা যায় ২০০ বেগুনী কালিম পাখি।

পৃথিবীতে পাখির সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৮০০। তার মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ টি পরিযায়ী প্রজাতি। এর মধ্যে বাংলাদেশে দেখা যায় প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখি। যার  মধ্যে প্রায় ৩২৫ প্রজাতি কোনভাবে পরিযায়ী অর্থাৎ দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ পাখি পরিযায়ী, বাকিরা স্থানীয়।

শীত মৌসুমে আমাদের দেশে আসে প্রায় দশ লাখ পাখি। বাংলার মাটি, জলরাশি, শ্যামলিমা, পাহাড় পর্বত আর্দ্র বাতাস, বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চল, দিগন্তব্যাপী এদের প্রধান আকর্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয়।

আমাদের দেশে প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখি আছে তার মধ্যে ৫৩টি প্রজাতি আইইউ সিনের বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় বা রেড ডেটাবুকে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে মহাবিপন্ন বা ক্রিটিক্যাল এনডেনজারড সাতটি বিপন্ন বা এনডেনজারড, ২০টি সংকটাপন্ন বা ভালনারেবল এবং ২২টি প্রায়-সংকটাপন্ন বা নেয়ার থ্রেটেন্ড প্রজাতি। এর বাইরেও অনেক প্রজাতি আমাদের মিঠা ও লোনাপানির জলোভূমিতে পরিযায়ন করে। এর মধ্যে রয়েছে সূদুর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, হিমালয়ের পাদদেশ, চীন-তিব্বত ও মিয়ানমার থেকে আসা বহু প্রজাতি।

বার
বিপন্ন প্রজাতিগুলোর মধ্যে আমাদের দেশে প্রধান পরিযায়ীদের ভেতরে আছে পানি কাটা, জলখোর বা পানিচলা, কাস্তেচরা। এদের বড়দল পরিযায়ী। ছোট দল স্থানীয়। হাড়গিলা, বৈকাল হাঁস, বড় ভূতিহাঁস, ভূঁতিহাঁস, চাপাখি। সবচেয়ে দূর পাল্লার পাখির মধ্যে আছে বড় গুলিন্দা, ছোট গুলিন্দা, কালোলেজ জৌরানি।

মিঠাপানি ও লোনাপানির জন্য ভূমিকে বলা জীববৈজ্ঞানিক সুপার মার্কেট। অর্থাৎ এখানে বসবাসকারী পাখি ও অন্যসব প্রাণী এবং এমন এলাকায় পরিযায়ন করে আসা পাখিরা উপভোগ করে নিরাপদ ও শত্র“মুক্ত আশ্রয়স্থল, অমেরুদন্ডী প্রাণী এবং উদ্ভিদের এক ধরনের মিশ্রণ।

এদের মধ্যে থেকে কেচোঁ, চিংড়ি কাঁকড়া, জলজ পোকা মাকড়, শামুক-ঝিনুক, মাছ ও তার পোনা, ব্যাঙ ও ব্যাঙ্গাচি, সরীসৃপ, পাখি, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী, প্রাণীকনা বা জ্যু প্ল্যাস্কটন, শেওলা, শৈবাল, ঝাঙ্গি, পানি ঢেকিশাক, কলমিলতা, লজ্জাবতী লতা, শাপলা-শালুক, পদ্ম, মাকনা, নিকনাই বা তিনকাটা পানাসহ নানা জলজ উদ্ভিদকনা ।

জলাভূমির কাদাময় বা বালুবেলা অংশে বসবাস করে অযুত-নিযুত মিঠাপানির বা সামুদ্রিক পানীয় শুঁককীট, কোঁচো জাতীয় প্রাণী। এছাড়া এখানে এক চিমটি চিংড়ি কাঁকড়া থেকে মাছের পোনার বাস যা খাবার জন্য পরিযায়ী পাখিদের সব চেয়ে বড় দল মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলে ভিড় করে।

তের
জলাভূমির ভেতরে বা আশেপাশে হিজল, তমাল, করচ বা করনজ, বরুনা, পিটালী, শিমুল, দেবদারু, গাব, জিকা প্রভৃতি বড় বড় গাছ থাকার ফলে অনেক পারিযায়ী পাখি সারাদিন বা সারারাত জলজ প্রাণী উদ্ভিদ খাওয়ার পর বিশ্রাম নেয় বা ঘুমায় ওই সব গাছে। এই গাছপালা তাদের শত্র“র হাত থেকে রা করে।

এছাড়া চোরা শিকারী, বড় ব্যবসায়িক ভিডিতে পাখি ধরা এবং পথের শিকারীদের সংখ্যা আছে বহু দেশের চেয়ে আমাদের দেশে কম।

চৌদ্দ
সারা  বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবিষ্কার, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বিকাশ ব্যাপকতা লাভ করে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তা যদি মানুষের তি ডেকে আনে সেটা আর এক পরিবেশ বিপর্যয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অবস্থা খুব শোচনীয়।

বাংলাদেশের বর্জ্যদূষণের অন্যতম কারণ হল ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন সুব্যবস্থা  নেই। শহরের এক পাশেই খোলা আকাশের নিচে ময়লাগুলোকে স্তুপাকারে রেখে দেওয়া হয়। ফলে আশেপাশে বসবাসকারী মানুষের জন্য এলাকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

ঢাকা মহানগরীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি-কর্পোরেশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার টন বর্জের স্তুপ জমে। এর প্রায় ৪০ শতাংশ বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন তুলে নিয়ে থাকে। তাও আবার অস্বাস্থ্যকরভাবে পরিবহন করা হয়। শহরের ব্যস্ততম রাস্তা দিয়ে ময়লা আর্বজনার বহনকারী গাড়িটি গন্ধ ছড়িয়ে ছুটে যাচ্ছে। নগরীর সর্বত্র জমে থাকা বর্জ্য নগরীর পরিবেশকে আরো দুর্গন্ধময় করে তুলছে। যদিও মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। অন্যান্য কাজের চেয়ে কাজটির উপর বিশেষ গুরত্ব দেয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সিটি কর্পোরেশন এই দিকটার প্রতি নজর কমই দিয়ে থাকে।

পনের
চট্টগ্রাম নগরীতে কোন পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টনের মতো কঠিন ও তরল বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলি নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় মৎস ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুকমির সম্মুখীন। একারণে নগর ব্যবস্থায় সুপেয় পানির উৎস সারফেস ওয়াটার বা ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহারের সুযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক সমীা রিপোর্ট বলা হয়, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকা, শিল্পাঞ্চল ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরিবেশদূষণের মতো ঘটনা আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে প্রায় এক হাজার ২০০ টি মালবাহী জাহাজ ও ৪০/৫০ টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। এছাড়া হাজারের বেশি লঞ্চ, ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করে। এসব জাহাজ, লঞ্চ ও ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। সমুদ্র উপকূলীয় ভাটিয়ারী ফৌজদার হাটে প্রায় অর্ধশত শিপব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। এ ইয়ার্ডগুলোতে যে জাহাজ কাটা হয় সে সবের তেল, লুব্রিক্যান্ট, মোবিল ইত্যাদি সাগরে ফেলা হয়। এতে সাগরে মৎসসহ উপকূলীয় এলাকার জীববৈচিত্র্য, প্যারাবোন হুমকির মুখে এখন। হাইকোর্টের নির্দেশে দেশে ভাঙ্গার জন্য আমদানি করতে সব জাহাজের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য ম্ক্তুকর সনদ নিশ্চিত করতে সরকারকে এ আদেশ দেন। নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদেশে আদালত বলে, শুধু গ্রিনপিসভুক্ত জাহাজের ক্ষেত্রে নয়, এই আদেশ সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার সাপেে জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে সমুদ্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আনা আপত্তিপত্র দিতে বলা হয়।

সীতাকুন্ডে পরিবেশদূষণ মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। বিভিন্ন কলকারখানা যানবাহন ও ইটের ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোয়া ও বর্জ্যপদার্থ পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার ৪২টি নর্দমা দিয়ে বুড়িগঙ্গার বর্জ্য যাচ্ছে। নগরের ৭০ ভাগ পযঃবর্জ্য চারপাশের ৪ নদীতে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্র থেকে জানা যায়, বুড়িগঙ্গার তুরাগ বালু ও শীতল্যা নদীর পানিদূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য। হাজারীবাগের প্রায় ১৮০ টি চামড়া শিল্প কারখানা প্রতিদিন গড়ে ২১ হাজার ৬০০ ঘন মিটার বর্জ্য মূলত বুড়িগঙ্গার পানি দূষিত করছে। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কার্যক্রমের সারসংপে ঘেঁটে দেখা গেছে ঢাকা বিভাগের ৩৯৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পরিশোধনাগার (হেটিপি বা ইনফুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নেই)। পরিদর্শনের সময় ইটিপি থাকার পরও ১১৩ শিল্প প্রতিষ্ঠানে তা বন্ধ কিংবা অকার্যকর ছিল।

পরিবেশগত সংকটাপন্ন ঢাকার চার নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু-ও শীতল্যা নদী ও নদীর তীর নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যাবলী:

সব ধরনের শিকার।
নদীতে বাস করা জলজ প্রাণী ধরা বা সংগ্রহ।
প্রাণী বা উদ্ভিদের আবাস্থল ধ্বংস করে এমন সব ধরনের কার্যকলাপ।
ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে এমন কার্যকলাপ।
মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণীর জন্য তিকর যে কোন কার্যাবলী।
নদীগুলোর চারপাশের বাসাবাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রণালী সৃষ্ট বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন।

বর্জ্য থেকে জৈবসার প্রস্তুতের মাধ্যমে এটি  দেশের উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা  যেতে পারে। জানা যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতিদিন ২৪০ টন জৈবসার তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে বছরে জাতীয় তহবিল ৩৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তাছাড়া প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

বিশেজ্ঞরা বলেছেন, জৈবসার তৈরির প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল নয় এবং এ জন্যে বড় ধরনের শিল্প স্থাপন করতে হবে না। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রপাতি তৈরি করে জৈবসার উৎপাদন সম্ভব। জৈবসার উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে বিদেশ থেকে সারের আমদানিও কমবে। তিকর রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জমিতে জৈবসার ব্যবহার করলে জমির ফলন যেমন বাড়বে তেমনি আবার পরিবেশের তি হবে না।
ষোল
শিল্পোন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণ করছে। আমরাও সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বর্জ্য জৈবসার তৈরিতে পদপে নিতে পারি।

পরিশেষে, ময়লা-অর্বজনা ব্যবস্থাপনার জন্য এনজিও এবং এলাকাভিত্তিকে সংগঠনগুলো অংশ নিতে পারে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার ল্েয সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারন্টে প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচার করতে হবে। বর্জ্যরে তিকর দিক সম্পর্কে বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করার কাজে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের ব্যবহার করা যেতে পারে।

পলিথিনের বর্জ আমাদের দেশের পরিবেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। পলিথিনের কারণে ঢাকা শহর যেন অবরুদ্ধ হয়ে  গেছে। ঢাকার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিন। খোলা মাঠে, নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, বিল, নদী সর্বত্র পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। উল্লেখ করা প্রয়োজন, পলিথিন তৈরি হয় পলিমার বা হাইড্রোকার্ন উপাদান দিয়ে এবং এই পলিমার অনুগুলো এত শক্তভাবে গচ্ছিত থাকে যে ুদ্রতিুদ্র ফাঙ্গাস বা ব্যাক্টেরিয়াও এর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে পলিথিন শত শত বছর ধরে একইভাবে থাকে। পলিথিন পোড়ানোর পর একধরনের বিষাক্ত গ্যাস হাইড্রোজেন সায়ানাইড উৎপাদন হয় এবং এই গ্যাস শ্বাস নালিতে গেলে মারাত্মক ব্যাধি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিউটিটের এক রিপোর্টে জানা যায়, পলিথিন বা প্লাস্টিক যখন মাটির সংস্পর্শে আসে তখন উপকারী ব্যাক্টেরিয়া, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক সেগুলো মরে যায় এবং এর ফলে মাটি তার উর্বরতা হারায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ১৯৮২ সালে ঢাকায় প্রথম পলিথিন ব্যাগ তৈরির কারখানা স্থাপিত হয়। প্রথম অবস্থায় দুটি কারখানা ছিল। বর্তমানে তিনশত পলিথিন ব্যাগ তৈরীর কারখানার সন্ধান পাওয়া যায় এবং এর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন নিরুৎসাহিত করার ল্েয সরকার কাঁচামালের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই পদপে কার্যকর হয়নি। পড়ে ১৯৯৩ সালে সরকার রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের বাইরে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ ল্েয একটি আইন পাসও হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই আইনটিও শেষ পর্যন্ত বলবৎ হয়নি। আইন করেও সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কারণ মানুষ সচেতন নয়। যেহেতু মানুষ সচেতন নয় তাই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার এবং উৎপাদন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা ছাড়া পলিথিনের ঝুঁকি থেকে রা পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন উৎপাদন ও ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করুন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাচাঁন, নতুন প্রজন্মকে বাচাঁন, অধিকার নিশ্চিত করুন।

পরিবেশের উপর কালো ধোঁয়ার প্রভাব
কালো ধোঁয়া হচ্ছে হাইড্রোকার্বনের অসম্পূর্ন দহন, ডাস্ট ও বায়ুর মিশ্রণ। ডিজেল ইঞ্জিনের বিভিন্ন ত্র“টি যেমন, এয়ার ফিল্টারে জমা হওয়া ময়লা, ইনজেক্টর ত্র“টি এবং ইঞ্জিনের অব্যবস্থাপনা প্রভৃতি কারণে জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহন থেকে কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। এছাড়া ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, মিথেন, কাঠ, কয়লা প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে এদের মধ্যে বিদ্যমান হাইড্রোকার্বন বা কার্বন অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনো-অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসে পরিণত হয়। তাছাড়া এই সমস্ত জ্বালানির হাইড্রোকার্বনে বিদ্যমান সালফার, নাইট্রোজন প্রভৃতিও অক্সিজেনের সাথে দহন প্রক্রিয়ায় সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে, এদের মিশ্রণই কালো ধোঁয়া।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে প্রচুর কালো ধোঁয়া সৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস বৃদ্ধি পেয়ে মানুষের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে ফলে গ্রীনহাউজ এর প্রভাব দেখা দিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন বাংলাদেশে যে পরিমাণ কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশেছে তার ৪০% নির্গত হচ্ছে ইটের ভাটা থেকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে মানুষ প্রাণীকুল এবং উদ্ভিদ তথা পরিবেশের উপর কালো ধোঁয়ায় রয়েছে সুদূরপ্রসারী তিকর প্রভাব এ থেকে চোখ জ্বালা পোড়া, হৃদয়যন্ত্র ও ফুঁসফুঁসের তি, মাথা ঘোড়া ও বমিবমি ভাব।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের কালো ধোঁয়া উৎপাদনকারী যানবহন পরিহার করতে হবে। ব্লক ইটের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি। পারমাণবিক শক্তি, বায়ু ও পানিশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে এবং উন্নতি প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে হবে। (অসমাপ্ত)


Last Updated on Sunday, 04 July 2010 06:58
 

 


bottom

Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351, +880-2-8919351, +880-2-8956608, +880-2-8956608, Fax: +880-2-8963402,
E-mail: info@doshdik.com
Doshdik Media Limited. All rights reserved.