|
নিশাত তামমিম
ধ্যাত্! আর ভাল লাগেনা। নিজের সাথে ছলচাতুরী করে আর কত পারা যায়? হঠাৎ-ই নিজের উপর বিুব্ধ হয়ে ওঠে রাসেল। এমনিতেই মনটাও খুব একটা ভালো নেই। ওর কাসমেট, ওইযে শান্তশিষ্ট ছেলেটা রবিন। গত কয়দিন ধরে স্কুলে আসছেনা। প্রচন্ড মাথা ব্যথায় ভুগতো মাঝে মাঝেই। কে যানে কি হয়েছে ছেলেটার। গুজব যা শোনা যাচ্ছে, ওর বড় একটা ব্যামো হয়েছে। তবে রাসেলের আজকে মেজাজ গরমের কারণটা ঠিক এটা নয় অন্যকিছু যা সাধারণের কাছে অতি নগণ্য ব্যাপার হলেও ওর কাছে মোটেই সামান্য নয়।
স্কুলে আজ রেজাল্ট দিয়েছে- ও এবার সেকেন্ড হয়েছে। বরাবরই ওর রেজাল্ট ভালো হলেও তুলনায় আজকেরটা একটু বেশীই ভালো। আর পালায় কোথায়? বন্ধুরা একেবারে বেড়ে ধরল- ‘চল! ভালো রেজাল্ট করলি, আজকে কিছু খাওয়াতেই হবে।’
পকেটে সযতেœ রাখা ৫০ টাকার আধোছেড়া মলিন নোটখানা বিসর্জন দিয়েই ওদের দাবি পূরণ করতে হলো। ওদের সামনে কিছুই বলতে পারেনি। তবে ফেরার পথে ভোগটা টের পেয়েছে অভাগা পা দুটো। ৪ মাইল পথ হেঁটে আসতে হয়েছে, চাট্টিখানি কথা? গ্রীষ্মের খরতাপে রাঙা মুখ যেন রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে। না, ওর রাগ কারো উপর নয়- সমস্ত ােভ, অভিমান ওর নিজেরই উপর, বিধিলিপির উপর।
মোল্লাহাট হাই স্কুলের কাস এইটের ছাত্র রাসেল। গরীব ঘরের বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান। উদয়পুর গ্রামের শেষ মাথায় মোল্লাবাড়ির পাশেই ওর বাড়ি। ছনে ছাওয়া একখানা ছোট কুটির- মা আর ছেলের সংসার। জন্মের ২ বছরের মাথায় ওর বাবা মারা যায়। স্বচ্ছলতার মুখ ও বেশিদিন দেখেনি। তবুও সেই থেকে আজ অবধি সংসারটাকে আগলে রাখার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন মা মমতা বেগম। ছেলেবেলায় দারিদ্রের তাড়নে লেখাপড়া করতে পারেননি, সেই অপূর্ণ ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে চান রাসেলকে মানুষ করার মধ্য দিয়ে। বাড়ি বাড়ি ঠিকা কাজ করেন ওর মা। সকালে বের হয়ে যান, ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। জীবনযুদ্ধে রাসেলও থেমে থাকেনি। নিজের পড়ার পাশাপাশি এলাকার কাস থ্রি এর দুটি বাচ্চাকে ও প্রাইভেট পড়ায়।
রাসেল জানে তার শিাজীবন আজ এতখানি কেবলই ওর জনমদুঃখিনী মায়ের হাড়ভাঙা শ্রমের ফসল। বাড়ি থেকে স্কুল ঢের দূরে হওয়ায় বন্ধুরা কেউ চেনেনা ওর বাড়ি। তাছাড়া ওরা কখনো আসতে চাইলেও ছলে বলে কৌশলে এড়িয়ে যায় ওদের। জন্ম থেকেই কিছুটা চাপা স্বভাবের হওয়ায় সংসারের এ তীব্র অভাবের কথা কাউকে জানতে দেয়নি ও। মা ও ছেলে- এই দুটো প্রাণীই কেবল জানে। আর হয়তো জানেন অন্তরীরে ঐ একজন......।
সহপাঠীরা সবাই গ্রামেরই বাসিন্দা। ওদের বাবারাও কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী হলেও অন্তঃত প্রাত্যহিক খরচের বিষয়ে ওদের চিন্তা করতে হয়না। আর সে কারণেই হয়ত ওরা বোঝেনা রাসেলের অমতাটা।
‘রাসেল! প্রতিবারই তো ভালো রেজাল্ট করিস। একটাবারও তো কিচ্ছু খাওয়াসনা। এমন কিপ্টামি করলেতো বিধাতাও নারাজ হবেনরে।’
ও মুচকি হাসি দিয়ে এড়িয়ে যায়, তবে বন্ধুদের এ টিটকারি সরাসরি ওর অন্তরে গিয়ে বিধেঁ। ও জানে, আর কেউ না বুঝুক ওর ভাগ্যবিধাতা ঠিকই জানেন ও জন্মগতভাবে কৃপণ নয়। ওকে যে প্রতারিত করেছে তা হলো দারিদ্র্য, নির্মম বাস্তবতা।
আজকের দিনের ঘটনাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এই ভালো রেজাল্টের মাশুল যে তাকে কমপে এক সপ্তাহ দিতে হবে। ওই ৫০ টাকাটা তো ওকে পুরো সপ্তাহের খরচ বাবদ দেয়া হয়েছিলো। দুঃখে ও কিছুই বলতে পারেনা। কাকেই বা বলবে? ওর বিধবা মা দিনশেষে যখন বাড়ি ফেরেন, তার কান্ত অবসন্ন দেহ দেখে যে ওর নিজেরই বুক ফেটে কাঁদতে ইচ্ছে করে! সেই মায়ের কাছে কি আবারো চাইতে পারবে টাকা? বয়স সবে ১৪ হলেও বাস্তবতার নিদারুণ আঘাতে ওর দায়িত্ব জ্ঞানযে ২৪ বছরের যুবককেও হারিয়ে দিয়েছে। জীবনকে ও অনুভব করেছে একেবারে কাছে থেকেই, তাইতো জীবনের সংজ্ঞাটা ওর কাছে আর দশজন ভোগবিলাসী মানুষের মত নয়...
পরদিন যথারীতি আবারো স্কুল। দু’বছর আগে কেনা সাদা শার্টটি অতি আদরের সাথে গায়ে জড়ায়। শার্টটির ইতিহাসও বড় করুণ। এটি দেখে আজ আর অনুভব করা যায়না, কোনকালে এটি আদৌ সাদা ছিল কিনা। তবুও মমতা বেগমের হাতের তলায় পড়ে আবারো যেন জীবন উকি দেয় মৃতপ্রায় সুতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে। এ ছাড়া যে গতি নেই। তলা য়ে যাওয়া স্যান্ডেলটি কোনরকমে পায়ে ঢুকিয়ে ব্যাগ কাধেঁ হেঁটে চলে জলার পথ ধরে। পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ পথ- তাই আধঘণ্টা আগেই রওনা দিয়েছে আজ। -‘সকাল সকাল কই যাইস, বাজান? স্কুল খুলতেতো ম্যালা দেরি।’ -মায়ের দরদভরা জিজ্ঞাসা। -‘না মানে স্কুলে একটা কাজ আছেতো, তাই আগেই যেতে হবে আজ!’ কৌশলে এড়িয়ে যায় মায়ের দৃষ্টি। মাযে কষ্ট পাবে সে কারণেই এই মিথ্যের আশ্রয়। তবে কৌশলে এড়ানোর বিষয়টি আজকাল ও বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে নিয়েছে। কারণ প্রত্যহই কোন না কোন কারণে এ অভিনয় তাকে করতে হয়। এযে ওর ভাগ্যলিপি।
স্কুলে গিয়েই আজ সবার মনে একটা আতঙ্কের ছাপ দেখতে পায়। হেঁটে আসতে দেরী হওয়ায় কাস টাইম ওভার হয়ে গেলেও রাগী কমল বাবু ওর প্রবেশে কোন বাক্য ব্যয় করেননি। নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘটেছে। অবশেষে জানা যায়, রবিন নামের ঐ ছেলেটি ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত। রাসেলের মাথায় সহসা আকাশ ভেঙে পড়ে। রবিন সম্পর্কে ও যতদূর জানে, বাবা বেঁচে আছে যদিও তবুও এই মরণব্যাধি চিকিৎসার মত অর্থ তার চৌদ্দকুল বেচঁলেও জোটাতে পারবেনা। অজান্তেই ওর চোখ ভারী হয়ে ওঠে। রবিন ছেলেটিকে আজ ওর কাছে নিজের চেয়েও অসহায় মনে হচ্ছে- ১৪ বছর বয়সেই যাকে কিনা অর্থের অভাবে প্রহর গুণতে হচ্ছে মৃত্যুর। টিচার্স রুমে টিচারদের জরুরী মিটিং বসে। যে করেই হোক রবিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা স্কুল থেকেই করতে হবে। ওরা এতগুলো মানুষ থাকতে অর্থের অভাবে নিভে যাবে সদ্য জ্বলে ওঠা একটি জীবন প্রদীপ, এ হতে দেয়া যায়না। কাসে কাসে ঘোষণা দেওয়া হলো- আগামীকাল প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা নিয়ে আসবে, একজন ভাইকে বাচাঁনোর দায়িত্ব আজ ওদেরই।
সেদিন আর কাস তেমন একটা হলোনা, অর্ধকাসেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হলো।
রাসেল আজ ভীষণ খারাপ মন নিয়েই হেঁটে চলল বাড়ির পথে। রবিনের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ির পাশে জলাটির কাছে এসে পড়েছে তা টেরই পায়নি। এই বিপদের দিনে রবিনের পাশে দাঁড়ানো যে ওর মানবিক দায়িত্ব। কিন্তু কাজ হবে কি? ফাঁকা কথায়তো আর চিড়ে ভেজেনা। কি দিয়ে করবে ও সাহায্য? মনটা ওর আকাশ সমান হলে কি হবে, কপালটা যে মাথার উপর এক বিঘত উঠেই ঠেকে গেছে! তবুও অনেক আশা নিয়ে শেষ সম্বল ডায়েরীর পাতা ওল্টাতে থাকে, কোন টাকা পাওয়া যায় কিনা। নাহ, সব মিলিয়ে কুড়ি টাকার বেশি হবেনা। হবেই বা কিভাবে? টাকাতো আর গাছে জন্মায়না! স্কুলের হাজার ফিরিস্তি- আজ খাতা, কাল বেতন,... কতটা বলবে ও মাকে? নিজের জমানো টাকা দিয়েই ওসব ম্যানেজ করে নিতে হয়। হৃদয়ের গভীরে অজান্তে জ্বলে ওঠা মনুষ্যের বাতিটা দপ করে নিভে যেতে চায়, নাহ্, যারা গরীব তাদের বোধহয় মানবতাবোধ থাকতে নেই। যার নিজের পেটেই ভাত জোটেনা, সে কি করে পাশে দাঁড়াবে অন্যের? বিধাতাই যে ওদের বঞ্চিত করেছেন! তবুও কি ফেরাতে পারে সবাই মনুষ্যত্বের আহ্বান?
কাসে টাকা ওঠানো শুরু হলো যথারীতি। সামনের সিটের চকচকে ড্রেস পরা ছেলেটা দিয়েছে পুরো ৫০০ টাকা। আর সবাই ৫০, ১০০, ২০০ টাকার নিচে কেউ দেয়নি। ওই বোধহয় সর্বনিম্নের কোটায়। তথাপি সমস্ত লজ্জাবোধের জলাঞ্জলি দিয়ে নিঃশব্দে ২০ টাকার নোটটি টিচারের হাতে গুঁজে দিয়ে মাথা হেট করে থাকে। এ বিষয়টিও যে ওর কৌতুকপ্রবণ বন্ধুদের দৃষ্টি এড়ায়নি, তা ও খানিক পরেই টের পায়। সবার তাচ্ছিল্যমাখা দৃষ্টি নিিেপত হতে থাকে ওর দিকে। সবচেয়ে ঠোঁটকাটা ছেলেটা শেষমেষ বলেই ফেলে- ‘কিরে? বন্ধুর বিপদের মুখেও কিপ্টামি ছাড়তে পারলিনা? হায়রে!....’ আজ আর এড়িয়ে যেতে পারেনা। চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে অজান্তেই। কিন্তু সে অশ্র“ হয়ত লোকচুর অন্তরালেই থেকে যায়।
স্কুল ছুটির পর জানানো হল আজ ওদের কাসটিচার মাসুদ স্যার ওদের সবাইকে নিয়ে রবিনকে দেখতে যাবেন, সেই সাথে টাকাটাও তুলে দেবেন রবিনের বাবার হাতে। ওদের এই টিমটাতে সদস্য ৩৭ জন- ওরা ৩৬ জন আর মাসুদ স্যার। অন্য কাসের কিছু ছেলে আসতে চাইলেও ঝামেলার ভয়ে নেওয়া হয়নি। এগিয়ে চলে ওরা। সোজা এগিয়ে মেম্বারের বাড়িসংলগ্ন পুকুরের অপর পাশেই রবিনের বাসা। তবে হেঁটে যেতে বিশ মিনিটের কম লাগবেনা। ৩৭ জনের টিমের সর্বাগ্রে আছেন স্যার আর সবার পিছনে আজ রাসেল। পায়ের গতি ওর সবার চেয়ে বেশি হলেও আজ যেন পা চলতে চাইছেনা আর- দারিদ্র্যের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়েও ওযে একজন বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল সমস্তটি উজাড় করে দিয়ে, এও কি ওর অপরাধ? হৃদয়ের সমস্ত আকুতি সত্ত্বেও দারিদ্র্য যে ওকে এগোতে দেয়না, একি ওর নিজেরই দোষ? অর্থ ছাড়া কি পারেনা মানুষ মানুষের পাশে দাড়াঁতে? হৃদয়ের খোলাডাকে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নগুলো প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে।
ওরা চলছিল পথ ধরেই। সকাল থেকেই আজ গুমোট গরম পড়েছে। জৈষ্ঠের শেষ প্রায়। হঠাৎ পুরো আকাশটা অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। এ বুঝি কালবৈশাখীর বিধ্বংসী আগমণী বার্তা। মুহুর্তের মধ্যেই শুরু হলো বাতাসের প্রবল ঝাপটা। প্রবল আক্রোশে সব যেন ভেঙে ফেলতে চাইছে বৈশাখীর বাতাস।
নাহ, আর এগিয়ে লাভ হবেনা। তারচেয়ে বরং দোকানের ছাউনিতে দাড়িঁয়ে বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপো করা যাক- মাসুদ স্যারের পরামর্শ। থেমে গেল সবাই। গাছের ডালগুলো মড়মড় করে ভেঙে পড়ছে। সবাই যার যার দৌড়ে পালাচ্ছে আশ্রয়ের সন্ধানে। এই রাস্তাটার ওপারেই বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঠটার ঠিক মধ্যখানেই উদম গায়ে আনমনে খেলে যাচ্ছে ৫/৬ বছরের একটি ছোট্ট শিশু। ঝড়ের তাণ্ডব, সেদিকে যেন ওর কোন ভ্রুপেই নেই। ঝড় আসলে যে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে- ছোট মানুষ খেলার নেশায় আলবৎ ভুলেই গেছে। হঠাৎ সবার ভয়ার্ত দৃষ্টি আটকে যায় দূরে- দূর থেকে কালো কিছু ধেয়ে আসছে ঠিক ঐ শিশুটির দিকেই।
‘ইয়া আল্লাহ! এত্ত মোটা গাছের ডাল! এই পিচ্চি... সরে যাও... সরে যাও!’ সমস্বরে চিৎকার করে ওঠে।
চিৎকার শুনে ঘোর ভেঙে যায় রাসেলের- আরে! বাচ্চাটাতো নির্ঘাত মারা পড়বে। আর একটি জীবন্ত লাশের বোঝা বইতে হবে মাটিকে... হয়তো এই ছোট্ট শিশুটিও ওর মতই কোন এক নিঃস্ব মায়ের বুকের একমাত্র ধন! আর ভাবা নয়! ওকে বাচাঁতেই হবে। কিছু না বুঝেই দৌড় মারে শিশুটির দিকে।
‘এই রাসেল!... থামো থামো...’ কোনদিকে কান না দিয়ে রাসেল ছুটতে থাকে দিগি¦দিক। বাতাস যেন উড়িয়ে নিতে চাইছে ওকে। ডালটিও এগিয়ে আসছে দ্রুতবেগে। এক ঝটকায় ও শিশুটিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। আর মুহুর্তের মধ্যেই গাছের ডালটি এসে সমস্ত আক্রোশে আঘাত করে রাসেলের মাথার ঠিক বাম পাশটিতে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটতে থাকে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনা বেশিণ, ধপ করে পড়ে যায় মাটিতে।
ঠিক এটিই আশঙ্কা করছিলো ওরা... দৌড়ে ছুটে এলো সবাই। সবার মুখে আতঙ্কের ছাপ! এণি জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে, অবস্থা ভালো নয়। -‘রাসেল! বাবা একি করলে তুমি? কি জবাব দেবো তোমার মা বাবার কাছে?' স্মিতহাস্যে রাসেলের অপ্রকৃতিস্থ উচ্চারণ- ‘স্যার, আমি কি পেরেছি শিশুটিকে বাচাঁতে? আমি কি পেরেছি প্রকৃতির ঋণ শোধ করতে?...’ তারপর... নিরবতা... নিস্তব্ধতা... নিথর হয়ে যায় শীর্ণ দেহটি। সদ্য জীবন ফিরে পাওয়া ছোট্ট শিশুটি ভিড় দেখে দৌড়ে আসে। একবার গাছের ডালটির দিকে তাকায়- এরপর অজ্ঞাত ছেলেটির স্মিত হাস্যোজ্জ্বল নিথর মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে...
|