|
নষ্ট কাল অথবা হৃদয়ের অসুখ নিরীক্ষা, এবং কাল ও সমাজচেতনার কথাশিল্প |
| Print | |
E-mail |
|
খুরশীদ আলম বাবু
 নাজিব ওয়াদুদের প্রথম গল্পগ্রন' কাক ও কারফিউ বেরিয়েছিল ১৯৯৮ সালে। এতে যে প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর ছিল তার বিকাশ ও উত্তরণ লক্ষ করা গেল দ্বিতীয় গল্পগ্রন' নষ্ট কাল অথবা হৃদয়ের অসুখ-এ (২০০৮)। প্রথম গ্রন'টি পড়লে বোঝা যায় ছিন্নমূল, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পেশাজীবী মানুষ এবং শোষণ-যন্ত্রণাদগ্ধ কৃষক পারস্পরিকভাবে যুক্ত হয়ে এসে ভিড় করেছে তার গল্পে। তবে তিনি তথাকথিত প্রতিবাদী গোষ্ঠীর মতো স্লোগানসর্বস্ব অশিল্পের ক্যারাভানে রথ চালাননি। তার গল্পে থাকে শিল্পের আমেজ, মনে হয় এক ধরনের খুঁতখুঁতে শৈল্পিক অনুভূতিসম্পন্ন গল্পকার নাজিব ওয়াদুদ। নষ্ট কাল অথবা হৃদয়ের অসুখ-এ নাজিব অনেক বেশি উজ্জ্বল ও পরিণত--বিষয়, আঙ্গিক, ভাষা, বাক-ভঙ্গি এবং সর্বোপরি গল্পের ট্রিটমেন্ট বিবেচনায়। এই গ্রনে'র প্রায় প্রত্যেকটি গল্পই মননশীলতা ও বুদ্ধির প্রখরতায় এবং হার্দিক অনুভবে আমাদের শেষাবধি মুগ্ধ করে ছাড়ে, নতুনতর জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ করে। এই অসি'র, বিশৃঙ্খল ও অবিশ্বাসের যুগে তিনি একজন ধ্যানী গল্পকার। তিনি নিখিল নাসি-র (নাসি-কতার ?) পরিবর্তে আসি-ক ধ্যান-ধারণাকে বেশি লালন করেন, প্রতিবাদকে উন্নীত করেন আধ্যাত্মিকতায়। যেমন ‘জীয়নকাঠি’ (কবিতার মতো সুলিখিত ও সংবদ্ধ এই গল্পটি ছাপা হয়েছিল আবু হাসান শাহরিয়ার সম্পাদিত খোলা জানালা-য়)। কখনো কখনো লেখককে নাসি-বাদী (নাসি-কবাদী ?) হতে হয়, সেটা মানার ব্যাপারে তিনি যেন দ্বিধান্বিত। আর অনর্থক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তিনি গল্পকে অযথা জটিল করে তোলেন না। তার অর্থ অবশ্য এই নয় যে, নাজিবের গল্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। নিরীক্ষা তার গল্পের ভাষা ও বিন্যাসকে অবোধ্য বা দুর্বোধ্য করে তোলে না এই যা।
|
|
Read more...
|
|
|
|
|