|
মনজুর রশিদ
“সকাল-দূপুর-সাঁঝে পাহাড় বনের মাঝে শালবন বিহার, তোমায় আমায় ডাকে”
 কুমিল্লার শালবন বিহারে অবসি'ত “ময়নামতি যাদুঘরটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য দেশী-বিদেশী পর্যটক প্রাচীন সভ্যতার নানান নিদর্শন দেখতে এখানে ছুটে আসেন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ময়নামতি সভ্যতা সম্পর্কে ময়নামতি সভ্যতা সম্পর্কে জানার পর অভিভূত হয়ে বলেছিলেনঃ “ইউরোপ যখন গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন তখন এ অঞ্চলের উন্নত সভ্যতা সত্যিই অহংকারের বিষয়।” ময়নামতি অঞ্চলে অর্ধশতাধিক প্রত্নস'ানের সন্ধান পাওয়া গেলেও ২০টি প্রত্নস'ানকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ‘শালবন বিহার’ হচ্ছে প্রত্নস'ানের মধ্যে সব চাইতে বিখ্যাত। তারপরই রয়েছে আনন্দ বিহার, রূপবান কন্যা মুড়া, কুটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া, ইটাখোলা মুড়া। যেগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। প্রত্নস'ানগুলোর দূরত্ব একটি থেকে অপরটির দূরত্ব খুব বেশি নয়। চারপাতা মুড়া বৌদ্ধদের নির্জন পবিত্র স'ান হিসেবে পরিচিত। যা কুটিলা মুড়া থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবসি'ত। এ অঞ্চলের বিভিন্ন পুরাকীর্তি থেকে গৌতমবুদ্ধের মূর্তি, তাম্রলিপি, ব্রোঞ্জের মুদ্রা, অষ্ট ধাতু নির্মিত মূর্তি, স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত মুদ্রা, বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালা সম্বলিত কারুকার্য সমৃদ্ধ পোড়ামাটির ফলক, মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল, নিত্যদিনের ব্যবহার্য আকর্ষনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো ময়নামতি যাদুঘরে স'ান পেয়েছে। যা নিঃসন্দেহে গৌরবউজ্জ্বল সংস্কৃতি এবং কৃষ্টির পরিচয় বহন করে। ময়নামতি যাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ রূপবান কন্যা মুড়ায় প্রাপ্ত ২০/২৫ মন ওজনের অষ্টধাতু নির্মিত বিরাটকায় ঘন্টা। সেই সাথে পাথরে নির্মিত দন্ডায়মান বৌদ্ধমূর্তি, সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত বিভিন্ন বৌদ্ধমূর্তি, প্লেট, অলংকার অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি দেখতে দেখতে কখন যে নিজেই প্রাচীন যুগে হারিয়ে যাবেন নিজেই টের পাবেন না। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৭ম শতকের মাঝামাঝি সময়ে লালমাই ময়নামতি এলাকার সভ্যতা পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়েছিলেন। উত্তর-দক্ষিণে ১১ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ের পূর্ব প্রানে- ও মাঝামাঝি স'ানে অবসি'ত এই সব স'াপনার মনোরম দৃশ্য যে কোন ব্যক্তিকেই আকৃষ্ট করে। দীর্ঘ পাহাড়ের প্রাম্ভিক উপরিভাগে এক সারি ইমারতের অবস'ান, এর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস'াপনা হিউয়েন সাঙকে যেমন মুগ্ধ করেছিলোন, তেমনি আজও বিশ্ববাসীকে একইভাবে অভিভূত করে চলেছে। কারণ আজকের অনেক সর্বাধুনিক শহরেও এতগুলি সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমাবেশ দেখা যায় না।
|