|
ঝাড়ুদারের ছেলে ভৎসনা সয়ে জিপিএ-৫ পেল ছোটন |
| Print | |
E-mail |
|
তুই বেটা সুইপারের ছেলে, লেখাপড়া শিখে কী করবি। যা, বাপের সাথে ঝাড়ু দে, প্রতিবেশীদের নিত্য এ ভৎসনা টলাতে পারেনি নাটোরের ছোটনকে। মা-বাবার অনুপ্রেরণায় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সার্থক হয়েছে ছোটনের জিপিএ-৫ পাওয়া। ছোটনের স্কুল নাটোরের দীঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়েই ঝাড়ুদার হিসেবে ৮শ’ টাকা বেতনে কাজ করে তার বাবা বাবু কুমার। ছোটনরা দুই ভাই, দুই বোন। তাদের নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি নেই। বসবাস উত্তরা গণভবনের পাশে দীঘাপতিয়া বাজারে। তিন বেলা যেখানে খাবার জোটে না, সেখানে গ্রামের তীব্র লোডশেডিংয়ে কেরোসিন কিনে লেখাপড়া করা ওর জন্য অসম্ভব। তাই গণভবনের নিরাপত্তার জন্য দেয়া বাতির নিচে বসেই ছোটন বেশি সময় পড়াশোনা করত। বছরের পর বছর ইচ্ছা থাকলেও স্কুল ড্রেস তৈরি করে পরা সম্ভব ছিল না। এজন্য নিয়মিতই ওকে শিকদের হাতে মার খেতে হয়েছে। পড়াশোনার জন্য খাতা-কলম কিনতে বাড়ির পাশের একটি জুয়েলার্সে সহকারী হিসেবে নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করত ছোটন। তার স্কুলের শিক আবদুস সালাম অর্ধেক বেতনে ইংরেজি আর রমজান আলী স্যার বিনা বেতনে ওকে অংক প্রাইভেট পড়াতেন। ছোটন একজন আদর্শ শিক হিসেবে জাতির সেবা করার স্বপ্ন দেখে।
|
|
|
দিনমজুরি করে জিপিএ-৫ পেয়েছে নওগাঁর নাফিকুল |
| Print | |
E-mail |
|
দিনমজুরের কাজ করে এবং নিজের তৈরি কাচের খেলনা বিক্রি করে পঙ্গু বাবাসহ তিন সদস্যের পরিবার চালাতো নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র নাফিকুল ইসলাম। নাফিকুলের বাড়ি নওগাঁ শহরের চকবাড়িয়া মহল্লায়। মা-বাবার একমাত্র সন্তান নাফিকুল ইসলামের বাবা মানু মণ্ডল এক সময় গরুর গাড়ি চালাতেন। কিন্তু ২০০০ সালে এক দুর্ঘটনায় তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এ ঘটনার পরেই সংসারের হাল ধরতে হয় একমাত্র ছেলে নাফিকুলকে। তার মা নাদিরা বেগম বাড়িতে সামান্য সেলাই মেশিনের কাজ করেন এবং বাড়িতে একটি গাভী পালন করেন।
নাফিকুল অসম্ভব পরিশ্রম করে সংসার চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া করে সাফল্য অর্জন করেছে। অদম্য মেধাবী নাফিকুল ইসলাম দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে কখনও বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত থাকেনি। কখনও কখনও তাকে গায়ে জ্বর নিয়েও বিদ্যালয়ে হাজির হতে হয়েছে।
ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘরের বাড়িতে নাফিকুল ও তার মা-বাবা একসঙ্গেই থাকেন। ঘরের ভেতরে একপাশে তার মা-বাবা এবং অপর পাশে নাফিকুলের জন্য দুটি চৌকি পাতা রয়েছে। ওই ছোট্ট ঘরের মধ্যেই তারা স্বামী-স্ত্রী একদিকে ঘুমান অন্যদিকে নাফিকুল পড়াশোনাসহ খেলনা তৈরির কাজ করে। গরিব ও মেধাবী ছাত্র নাফিকুলের ইচ্ছা সে ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ে দেশবাসীর সেবা করতে চায়। কিন্তু একদিকে পঙ্গু বাবা অন্যদিকে তার পারিবারিক অনটনের কারণে তার সে ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা জানে না নাফিকুল।
|
|
|
|
|
|