|
সাক্ষাৎকার গ্রহণে: সাইফ বরকতুল্লাহ ১৯৫২ সালে আপনার জম্ম। আর বর্তমান সাল ২০১০! তো সেই সময়ের অবস্থা, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় এবং বর্তমান বাংলাদেশ কিভাবে দেখছেন ? ১৯৫২ হতে ২০১০ এই সুদীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, সফলতা ও ব্যর্থতার অনেক খন্ড খন্ড চিত্র রয়েছে যা একত্রিত করলে এক বিশাল উপাখ্যান হয়ে যাবে- ১৯৬৪ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নির্দেশে ও নেতৃত্বে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্থান “ছাত্র সমিতি” (পরবর্তীতে ১৯৬৬ ছাত্রলীগ এ রূপান্তরিত হয়) ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ এর সভাপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হন প্রফেসর এম. আর. খান এবং সাধারণ সম্পাদক এ. বি. এম সাখাওয়াতউল্লাহ আমি সেই কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত হই, সেই যে সংগ্রামী জীবন শুরু হল তার আর শেষ নাই আজ অবধি চলছে। বাবা মরহুম এম.এন ইসলাম তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানের নৌ-বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন সেই সুবাদে আমার বেড়ে উঠা পাকিস্থানের ভূতপূর্ব রাজধানী করাচী শহরে তাই আমি দেখেছি আইয়ুব শাহীর জোর জুলুম, ইয়াহিয়ার স্বৈরশাসন। দেখেছি ১৯৬৫’র ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ। ১৯৬৯ পূর্ব পাকিস্থানে শুরু হল ৬ দফা আন্দোলন ৬৯/৭০ এর গণ আন্দোলন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের সকল আন্দোলন সংগ্রাম এমনকি মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালীদের জীবনে তা প্রত্য ও পরো ভাবে গভীর প্রভাব বিস্তার করে, সেই যুদ্ধে প্রবাসী বাঙালীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যা আজও আমার স্মৃতিতে অম্লান। স্বাধীনতা লাভের পূর্বের দিনগুলিতে কেবলই মনে হত স্বাধীন দেশে কি অপরূপ প্রশান্তিময় এক জীবন হবে, যে জীবনে কোন পশ্চিমা শাসক/শোষক থাকবে না, থাকবে না ঘৃনা-বিদ্বেশ ও বৈষম্যের বিষবাস্প, কারন আমরা সবাই এক আত্মা, এক অনুভূতি। এক ভাষা, এক সংস্কৃতি। এই সবই ছিল আমার অল্প বয়সের কল্পনা প্রসূত চিন্তা চেতনা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা- ১৯৭২ এর পর হতে সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি আর বিপর্য্যস্থ শাসন ব্যবস্থা, ধসে পড়া অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিয়ে যখন কেবলই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক সেই মুহুর্তে ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট মহান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবার হত্যা করার মাধ্যমে কলঙ্কিত করা হল বাংলার ইতিহাস। এটাই আমার এ যাবৎ যাপিত জীবনে সবচেয়ে কঠিন, নির্মম, বেদনা বিধূর উপলব্ধি। যতই দুঃখ ও বেদনা বোধ থাক না কেন তবে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়েছি, একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখন্ড, একটি লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি বা হতে পারে ? বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উজ্জল সম্ভবনাময় দেশ। এ দেশের তেল গ্যাস ও পোষাক শিল্প ছাড়াও অন্যতম আর একটি দিক হল মানব সম্পদ। আমি স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর, সুস্থ্য সমাজ ব্যবস্থা একটি অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও নারীর মতায়ন যুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ১৯৬৬ সালে ২১শে ফেব্র“য়ারীর দিনে প্রভাত ফেরীতে নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে স্কুল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? বাংলা ভাষা রাষ্ট্র ভাষায় স্বীকৃতি আদায়ের ল্েয ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্র“য়ারী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বাবার মুখে শুনে শুনে ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী প্রোপট জেনেছি তাই ১৯৬৬ সালের ২১শে ফেব্র“য়ারী খালি পায়ে প্রভাত ফেরীর নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে স্কুলের প্রধান শিকিা মরহুমা খয়রুননেসা আশ্রাফ আমাকে তার অফিস কে ডেকে যখন বললেন তোমার এতবড় দুঃসাহস স্কুল চলাকালে সব মেয়েদের নিয়ে মিছিল করেছ ! জানো এর জন্য তোমার কি শাস্তি হতে পারে? উত্তরে বলেছিলাম পূর্ব পাকিস্থানে এই দিবসটি গভীর ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হয়ে থাকে তাহলে আমরা কেন পারব না। বড় আপা (হেড মিস্ট্রেস) রাগত্ব স্বরে বল্লেন তোমার একার কারনে এতগুলো মেয়ের জীবন নষ্ট হবে এটা কি তুমি চাও? যাই হোক মাথা নিচু করে তার বিষাদগার নিশ্চুপ হয়ে শুনলাম পরের দিন আমার অভিভাবক (পিতা) কে স্কুলে ডেকে পাঠানো হলো এবং স্কুল থেকে বহিস্কারের আদেশ বাবার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হল- আমি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী সামনে ফাইনাল পরীা বাবার শত আকুতি-মিনতি সত্ত্বেও “হেড মিষ্ট্রেস” তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন। বাসায় ফিরেই আমার মাকে উদ্দেশ্য করে বাবা বলেন “তোমার মেয়ের লেখা পড়া শেষ, তার জন্য আমি মাথা নত করতে পারব না! অনেক হয়েছে আর নয়”। এর পরের ইতিহাস সেটা হল, শেষ পর্যন্ত আমার পিতাকে মুচলেকা দিয়ে আমার সেই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করাতে হয়েছিল।
আপনি জাগো নারী ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা কিন্তু চাকুরী করেছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এ! তো চাকুরীর পাশাপাশি হঠাৎ নারীদের নিয়ে কাজ করার চিন্তা কিভাবে এল ? আমি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম (নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিন্যস্ত) কর্মজীবনের শুরু হতেই অধিন্যস্ত নারী কর্মচারীদের েেত্রও বৈষম্য ও বঞ্চনার নানা ঘটনা প্রবাহ আমার হৃদয়ের কোমল অনুভূতিগুলোকে ভীষনভাবে তাড়িত করেছে। বিশেষ করে যখন প্রত্য করতাম একই সমান শিাগত যোগ্যতা, মেধা মননশীলতা নিয়ে একজন নারী ও পুরুষ একই পদে কাজে যোগদান করেও পুরুষ কর্মচারী যথাসময়ে পদোন্নতি পেয়ে যায়, মহিলা সহকর্মীকে পেছনে ফেলে তার চেয়ে দুই তিন ধাপ উপরে উঠে গেছে অথবা সহকর্মী মহিলা কর্মজীবি একযুগ ধরে কিংবা তারও বেশী সময় ধরে একই পদে অবস্থান করে আসছে। অবিশ্বাস্য হলেও এই ধরনের বৈষম্যের স্বীকার হয়েও নারীরা মুখ ফুটে তাদের প্রতি কৃত অন্যায় অবিচারের প্রতিকার দাবী করার সাহস পর্যন্ত কেউ কোন দিন সঞ্চয় করতে পারে নাই। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অবশেষে চাকরী হারানোর আশংকায় নিরবে নিভৃতি সকল প্রকার বৈষম্য মেনে নিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে কাজ করে চলছে আপন মনে। এ সব ঘটনা ও বঞ্চনার কাহিনী আমার চেতনাকে শোনিত করে ভেতরের স্বত্তাকে উদ্দীপ্ত করে, উজ্জীবিত করে নারীর অধিকার ও মর্যদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার কে।
এখনতো আপনি নারী স্বাধীনতা নারী অধিকার, নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন ভাবে কাজ করছেন তো কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছেন ? বাংলাদেশের ১৫ কোটি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০% নারী অথচ ৫০% নারী অধ্যুষিত এই দেশটিতে নারী হয়ে আসছে উপেতি অবহেলিত, শোষিত, বঞ্চিত একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম প্রনীত সংবিধান নারীর সমান-অধিকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট ঘোষনা থাকলেও সংবিধানিক এই ঘোষনার সাথে সাথে দেশে প্রচলিত আইনসমূহ যথেষ্ট অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বৈষম্য ও ত্র“টিপূর্ণ আইনগুলো মূলত নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সব চেয়ে বড় বাঁধা। বর্তমানে ‘জাগো নারী ফাউন্ডেশন’ এর বহুবিদ কার্যক্রমের মধ্যে নারী নির্যাতন, যৌতুক নিরোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ অন্যতম কার্যক্রম কিন্তু ত্র“টিপূর্ণ আইন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় আমাদের অনেক বাধা বিঘেœর সমুখীন হতে হয় বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়েই পারিবারিক নির্যাতন এক ভয়াভহ সামাজিক সমস্যা যার মূল শিকার হচ্ছে নারীরা। দণি এশিয়ায় এর প্রকোপ সব চাইতে বেশী পাকিস্থানে ৮০% নিজ গৃহে নির্যাতিত হয়। ভারতের কোন কোন স্থানে প্রতি ৬ ঘন্টায় একজন বিবাহিত নারীকে পিটিয়ে কিংবা পুড়িয়ে মারা হয় কিংবা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়। বাংলাদেশে ৪৭% নারী তার পরিবারের অন্তরঙ্গ সঙ্গিদ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়। জাতিসংঘের এক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সঙ্গী হতে নির্যাতিত হওয়ার পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের স্থান ২য় (ঝবপড়হফ চড়ংরঃরড়হ রহ ঃযব ড়িৎষফ) “জাগো নারী ফাউন্ডেশন” নারীর সামাজিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল আন্দোলনের পাশাপাশি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের উপর বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে আর এ বিষয় কাজ করতে গিয়ে সব চেয়ে বড় বাধা হল এর প্রতিকারের সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এর অভাব, পারিবারিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং আইন প্রনয়নের মাধ্যমেই কেবল এর প্রতিরোধ সম্ভব। তাছাড়া সামাজিক ভাবে গণসচেতনতা সৃষ্টির অভাব ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগীতার অভাবই মূলত আমাদের কার্যক্রমকে অনেক েেত্র বাধাগ্রস্থ ও বিঘিœত করে। তাই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমাদের দাবী পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের লে দ্রুত এই অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হউক এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করা হউক।
নারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াগুলোতে সাাৎকার দিয়েছেন। তো বিদেশী মিডিয়া ও দেশী মিডিয়া নারীদের বিষয়ে কতটুকু সোচ্চার ? চাকুরী জীবনে পেশাগত কারনে এবং পরবর্তীতে সামাজিক ও সাংগঠনিক সফরে দণি এশিয়া, ইউরোপ এর বিভিন্ন দেশ ও আমেরিকা সফর করার সুযোগ হয়েছে। ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রনে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ঐরমযবৎ খধনড়ঁৎ খবধফবৎ ঝযরঢ় প্রশিণে অংশ গ্রহণ করি। প্রায় ১৫টি ষ্টেটে আমাদের প্রশিণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় ডধংযরহমঃড়হ উ.ঈ ভার্জিনিয়া, ম্যারীল্যান্ড, ইন্দিয়ানা মিনেসোটা, কেনসাস, এলাবামা, মিজোরী, লুজিয়ানা, ক্যর্লিফোনিয়া ফোরিডা এবং সব শেষে নিউ ইয়র্ক। নিউইয়র্ক থেকে ফেরার প্রাক্কালে ঠড়রপব ড়ভ অসবৎরপধ বিশিষ্ট ভাষ্যকার ইকবাল বাহার চৌধুরী আমার এক দীর্ঘ সাাৎকার গ্রহণ করেন। আজ হতে প্রায় ২৯ বছর পূর্বে যখন আমার বয়স ২৭ বছর... সেই ১৯৮১ সালে জীবনের প্রথম আর্ন্তজাতিক মিডিয়ায় সাাৎকার প্রদান এটা আমার জীবনের একটি “মাইল ফলক”। দীর্ঘ সাাৎকারে আমি আমার দেশের সাধারণ নারী সমাজ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবি, শ্রমজীবি, গৃহিনী নারীদের কথা তুলে ধরেছি। সেই সাথে উন্নত দেশগুলোর উন্নত সমাজের জল, স্থল ও আকাশে নারীদের অবাধ বিচরণ, দৃপ্ত পায়ে পথ চলা, তাদের দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর নির্ভিক চিন্তা চেতনায় সমৃদ্ধ নারী সমাজের সাথে বাংলার অসহায় দরিদ্র, পিড়িত, উপেতি, বঞ্চিত, লাঞ্চিত, নারীদের বেদনাকিষ্ট করুন চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে ভরাক্রান্ত হয়েছিল আমার কোমল হৃদয়ে আর বাংলার ভাগ্য বিড়ম্বিত শোষিত, বঞ্চিত নারীদের কথা ভেবে আবেগআপ্লুত কন্ঠ বাস্পরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে চাকুরীরত অবস্থায় নরওয়েজিয়ান সরকারের আমন্ত্রনে (ঙংষড় টহরাবৎংরঃু ও ঘঙজঅউ) ( ঘড়ৎবিমরধহ অমবহপু ভড়ৎ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় “শিপিং ম্যানেজমেন্ট” এর উপর গ্রাজুয়েশন কোর্স করার সুবর্ণ সুযোগ পাই-বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর ইতিহাসে আমি একমাত্র মহিলা গোটা বাংলাদেশের মধ্যে আমি প্রথম মহিলা ছিলাম যে শিপিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এই ধরনের টেকনিক্যাল বিষয় ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিণ লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করি (তবে একই বছর ইঈঝ ঈধফৎব ঝবৎারপব এর এক কর্মকর্তা ও উক্ত কোর্সে অংশ গ্রহণ করে। আমাদের এই প্রশিণ চলা কালে ঙঝখ ইৎড়ধফপঁংঃরহম ঈবহঃৎব ও ঙঝখঙ ঞবষবারংরড়হ এ এশিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের এক মাত্র ঝঢ়ড়শবংসবহ হিসেবে আমার সাাৎকার গ্রহণ করা হয়। সেই সাাৎকারে এশিয়া তথা দণি পূর্ব এশিয়ার নারীদের এই ধরনের উচ্চ শিা গ্রহণের েেত্র নারীদের প্রশাসনিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতার নানা বেড়াজাল এর কথা অকুতভয় তুলে ধরি, বিশেষ করে এই উপমহাদেশে মুসলিম নারীদের সামাজিক রীতিনীতি ও ধর্মীয় অনুশাসন সেই সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা, নারীদের অগ্রযাত্রার বাঁধাগ্রস্থ করে সেই সব কথা বুঝাতে চেয়েছি। বিদেশে উচ্চ প্রশিণে নারীর অংশগ্রহণ এক দুরহ ব্যাপার। কোন ভাবেই নারী কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম দেয়া হয় না, যদিও বহু চেষ্টা করে নাম অর্ন্তভূক্ত করানো হয় এবং মন্ত্রনালয় তথা ঝবষবপঃরড়হ কমিটিতে টিকে যায় তখনই নানা অপ্রকৌশলে নামটি বাদ দেয়া হয় আর যদি ঝবষবপঃরড়হ ঈড়সসরঃঃবব তে সৌভাগ্য ক্রমে টিকে যায় তখন শুরু হয় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা স্বামী যদি উদার মানষিকতার মানুষ হন তাহলে তার অনুমোদন লাভ সম্ভব নয়ত সে-ই বলে বসবে এত দীর্ঘ সময় একাকী বিদেশ বিভূঁইতে স্বামী সন্তানদের ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়। আগামী দিনগুলোতে কি কি বিষয় নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে? আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা, দরিদ্র কর্মজীবি নারীদের অসহায় বিপর্যস্থ বিপন্ন নারীদের জন্য একটি ঝযবষঃবৎ ঐড়সব করার প্রচন্ড ইচ্ছা ও পরিকল্পনা আছে। যেই নিবাসে নারীদের কেবল আশ্রয় দিয়েই নয় আদের শিা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন প্রকার সৃজনশীল কাজ যথা- হস্তশিল্প, কুটির শিল্পে প্রশিণ দান করার মাধ্যমে তাদের মানষিক ভাবে সচেতন, আত্মউন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করার কর্মসূচী প্রণয়ন করা হয়েছে।
আপনিতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন তো ঐ সব দেশে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি সমাজ অবকাঠামোতে পার্থক্য সম্পর্কে কিছু বলেন। আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে চাকুরীর সুবাদে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে পৃথিবীর বহু দেশ সফর করার সুযোগ হয়েছে জীবনে তম্মন্ধে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে জার্মান, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, দণি পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন মালেশিয়া, শিঙ্গাপুর, হংকং, চীন, থাইল্যান্ড, মধ্য প্রাচ্যের দুবাই, বাহরাইন এবং পাকিস্থান, আফগানিস্থান ও ভারত। ইউরোপের দেশগুলোতে সবচেয়ে লণীয় যে বিষয়টি- সেটি হল তাদের মানবতাবোধ প্রকট মানুষ, “মানুষ মানুষের জন্য” এই উক্তি যেন কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য। মানুষের প্রতি আন্তরিক বিশেষ করে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড এর মানুষগুলো খুব শান্তিপ্রিয় ‘এক কথায় যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ এই শ্লোগানে তারা বিশ্বাসী এই দেশের মানুষ বই পাগল, গল্প-আড্ডার চেয়ে বড় নেশা বই এর মাঝে ডুবে থাকা তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পাঠক বই এর নেশা তাদের সবচেয়ে বড় নেশা। গোটা শহর জুরে ট্রামে, বাসে, ট্রেনে, কারে কিংবা প্লেনে যখন যেথায় গিয়েছি ১০ বছরের কিশোর-কিশোরী কিংবা আশি বছরের বৃদ্ধ/বৃদ্ধা প্রত্যেকের হাতে বই ! অবাক বিষ্ময়ে কেবলই ভেবেছি আমাদের বাঙালী সাংস্কৃতির কথা আমাদের দেশের মানুষ সুযোগ পেলেই গল্প আড্ডা জমিয়ে বসে কিন্তু ইউরোপ ও আমেরিকার সাংস্কৃতিতে বিনা প্রয়োজনে অথবা বিনা এপ্যায়েন্টমেন্টে কেউ কারো বাসায় যাবে না। শুধুমাত্র ডববশবহফ গুলোতে তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে। আর একটি জিনিস পশ্চাত্যের দেশ গুলোতে ধর্ম, বর্ন, গোত্র নির্বিশেষে দেখা মাত্র ঐধর ঐড়ি ধৎব ণড়ঁ, ভরহব ঃযধহশ ুড়ঁ, সধু ও যবষঢ় ুড়ঁ? এই যে মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ তাদের সৃষ্টি তাদের সভ্যতা এগুলো আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। আর একটি জিনিস পশ্চাত্যের সেটা হল সময়ানুবর্তিতা শৃংখলাবোধ উন্নত দেশ গুলোর সাফল্যের পেছনে সততা, শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা। নরওয়ের একটি ঘটনা স্বরণীয়- একদিন এক বাঙালী পরিবারের বাসায় নিমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি এই বাসার নরওয়ের মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় এই প্রসঙ্গে বললেন একবার মাসের বেতন সমেত তার ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেছেন অর্থাৎ ট্রামে অথবা বাসে ফেলে গিয়েছেন। প্রায় ১৫ দিন পর সোস্যাল সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে কল করে তার ব্যাগটি সম্পুর্ণ অর্থ সমেত (যা ছিল) ব্যাগটি তার বাসায় এসে দিয়ে যায় এবং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে আপনার আই. ডি কার্ড না থাকায় আপনার তথ্য খুজে পেতে বিলম্ব হল বলে দুঃখিত। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করতেই মনটা বিষন্ন হয়ে গেল আমরা কেন পারিনা জীবনের এই মূল্যবোধ ধারণ করতে আমরা কেন মানষিক ভাবে এত দৈন্য ?
“এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম নিয়ে আপনার ভাবনা কি ? মিলেনিয়াম প্রপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো) হলো বিশ্বের প্রতিটি দেশের সর্বস্তরের সরকারের বিধানিক প্রতিষ্ঠানে ও অন্যান্য েেত্র সম-মর্যদায় ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নর-নারী গণতান্ত্রিক মতায়ন সু-নিশ্চিত করার একটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি সেই আলোকে বাংলাদেশে “এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম বাংলাদেশ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করা হয়েছে। ২২টি সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে একত্রিত এটি একটি নেটওয়ার্ক। এই সংগঠনের মূল ল্য নারী পুরুষের সম-অধিকার, সমমর্যাদার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মতায়ন এবং সেই লে ১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন এর লে দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশ যদি জাতীয় সংসদে ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল স্তরে সম-মর্যাাদায়, সম-গুরুত্বে ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নার-নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে তাহলে বাংলাদেশ একটি মডেল কান্ট্রি হিসাবে বিরল সম্মান ও মর্যদার অধিকারী হবে এবং বিশ্বময় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খুবই উজ্জল হবে। আমাদের এই সংগ্রামী অভিযাত্রায় আলোক বর্তিকা নিয়ে পথ প্রদর্শন করছেন- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন গবেষক এবং সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক লোকাল গভর্নেস (সিডিএলজি) এর নির্বাহী পরিচালক জনাব আবু তালেব । আসুন আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সংসদ গুলোতে সমমর্যদায় ১০০/১০০ প্রতিনিধিত্বে নারী-পুরুষের পদ্ধতিগত গণতান্ত্রিক মতায়নের লে অবিরাম দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাই এবং এমপো পদ্ধতির প্রথম বাস্তবায়নকারী দেশ হিসাবে বিশ্বময় বিরল সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হওয়ার গৌরব অর্জন করি।
|