|
মূল রচনা: এ্যালভিন টফলার ভাষান্তর: স্কোয়াড্রন লিডার আহ্সানউল্লাহ (অব:)
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বৈরীভ্রাতৃ সম্পর্কে, শিশুদের মধ্যকার আনন্দ-উল্লাসে ছেদ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি সম্পর্কে নতুন ধ্যান-ধারণা প্রভৃতি কারণে যৌথ পরিবার ও সামাজিক প্রথা বদলাতে থাকে। অর্থনৈতিক কেন্দ্র ফসলের মাঠ থেকে কল-কারখানায় স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে পারিবারিকভাবে আর যৌথভাবে থাকা সম্ভব হয় না। কারখানার কাজের প্রয়োজনে যৌথ-পরিবারে যা হত তার বদলে নতুন নতুন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান গড়া হতে থাকে। শিশুশিার জন্য শিা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বুড়োদের দেখভাল করার জন্য গড়ে ওঠে প্রবীণ নিবাস বা নার্সিং হোম। এক কথায়, নতুন সমাজে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজনে মানুষকে আবার নতুন করে ভ্রাম্যমাণ হতে হয়। শ্রম ও কর্মজীবী মানুষকে কাজের প্রয়োজনে স্থান বদলাতে হয় এক জীবনে অনেকবার। বুড়ো দাদা-দাদী, বাবা-মা, অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী স্বজন, একগাদা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে গড়ে ওঠা যৌথ বড় পরিবার নিয়ে বাসস্থান বদল করা অসহনীয় হয়ে পড়ে। ক্রমান্বয়ে এবং বেদনাদায়কভাবে তাই পরিবার কাঠামো বদলে যেতে শুরু করে। গ্রাম থেকে শহরে-নগরে অভিবাসন ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার টানাপোড়েনের ঝড়ে যৌথ পরিবার ভেঙেচুরে অনেক আত্মীয়স্বজনই অবাঞ্চিত হয়ে যায়। ফলে পরিবারের আকার হয়ে যায় ছোট, হয়ে পড়ে বেশি বেশি ভ্রাম্যমাণ এবং নতুন প্রযুক্তি-বলয়ের চাহিদার সঙ্গে মানানসই। এরই নাম ছোট পরিবার (হঁপষবধৎ ভধসরষু)। স্বামী-স্ত্রী, দু-তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে অন্যান্য আত্মীয় স্বজন বাদ দিয়ে এই তথাকথিত ছোট পরিবার শিল্প সমৃদ্ধ পুঁজিবাদী ও সমাজবাদী উভয় সমাজেই আধুনিক আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত। এমনকি জাপানে, যেখানে ময়-মুরুব্বীদেরকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভক্তি নিবেদন করা হয় এবং যে সমাজে বয়োজেষ্ঠদের গুরুত্ব ব্যতিক্রমীভাবে উল্লেখযোগ্য, সেখানেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের অগ্রসরতার ফলে বহুপ্রজন্মের নিবিড়বন্ধনে আবদ্ধ একক সংসার বা যৌথ পরিবার ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট পরিবারে বিভক্ত হয়। এক কথায় ছোট পরিবার জীবাশ্ম জ্বালানী, ইষ্পাত কারখানা বা চেইন স্টোরের মতো দ্বিতীয় ঢেউ সমাজের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয়।
আভ্যন্তরীণ পাঠক্রম (ঞযব ঈড়াবৎঃ ঈঁৎৎরপঁষঁস) ‘মানুষে’র কর্মত্রে যখন বাইরের মাঠ ঘাট ছেড়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল তখন শিশুদের ‘মানুষ’ করার জন্যও শিল্পকারখানামুখী তথা ঘরমুখী পাঠক্রম তৈরির প্রয়োজন দেখা দিল। এ প্রসঙ্গে ১৯৩৫ সনে এনড্রু-উর লেখেন, ‘কৈশোর বা ততোধিক বয়সের ব্যক্তিকে গ্রাম বা কুটিরশিল্প ঘর থেকে তুলে এনে যন্ত্রচালিত বড় বড় কল-কারখানার কারিগরের কাজে নিয়োজিত করা দুঃসাধ্য বা অসাধ্য’। যদি তাদেরকে শৈশবকাল থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেমের উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়, তবে শিল্পে নিয়ম-শৃংখলা বজায় রাখা অপোকৃত সহজ হয়। এর ফলেই ইংল্যান্ডে আবিষ্কৃত হলো দ্বিতীয় ঢেউ, সমাজের জন্য আরেকটি কেন্দ্রীভূত কাঠামো যার নাম প্রাতিষ্ঠানিক শিা বা গণশিা। ‘ফ্যাক্টরি মডেল’কে কন্দ্রে করে গণশিার পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, মৌলিক বিষয় হিসেবে পঠন, লিখন ও পাটিগণিত এবং অনুষঙ্গ বিষয় হিসেবে খানিকটা সামান্য ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়। একে বলা যায় ‘বাহ্যিক পাঠক্রম (ড়াবৎঃ পঁৎৎরপঁষঁস)’। কিন্তু তার আড়ালে লোকচুর অল্েয প্রণয়ন করা হয় ‘আভ্যন্তরীণ পাঠক্রম (পড়াবৎঃ পঁৎৎরপঁষস)’ যা আরও বেশি বেশি মৌলিক। এর অন্তর্ভুক্ত হয় তিনটি কোর্স যথাক্রমে, (১) সময়ানুবর্তিতা (ঢ়ঁহপঃঁধষরঃু), (২) আনুগত্য (ড়নবফরবহপব) এবং (৩) না বুঝে মুখস্থ করা (ৎড়ঃব) যা আজও বিদ্যমান পৃথিবীর অধিকাংশ শিল্পনির্ভর দেশে। এরকম পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কারণ: (১) কল-কারখানা বা অফিসের শ্রম / কাজের জন্য প্রয়োজন সময়মতো কর্মেেত্র উপস্থিত থাকা, বিশেষ করে এসেব্লি-লাইনে, যেখানে একজনের কাজের ওপর আরেকজনের কাজ নির্ভরশীল; (২) শ্রমিকদেরকে বিনা প্রশ্নে বা আনুগত্যের সাথে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপরে প্রাধান্য অনুসারে আদেশ পালন করার মানসিকতা গঠন করা; এবং (৩) নারী-পুরুষকে মেশিন বা অফিসের বাধ্যবাধকতা বা দাসত্ব মেনে চলতে প্রস্তুত করা এবং নির্মম-নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তিপ্রবণ কাজ বা কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা। এভাবেই ঊনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে দ্বিতীয় ঢেউ দেশের পর দেশ অবিশ্রান্তভাবে এ শিার প্রাগ্রসর ঘটাতে থাকে। শিশুরা খুব ছোট বয়সে স্কুলে যেতে শুরু করে। স্কুলে পড়াশুনার সময়কাল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। স্কুলবর্ষ বাধ্যতামূলকভাবে অপ্রতিহত গতিতে আজ অবধি বেড়েই চলছে। ব্যাপক হারে গণশিার প্রচলন নিঃসন্দেহে একটি মানবিক পদপে। ‘জীবন পাওয়া বা বেঁচে থাকা ও দাসত্ব থেকে মুক্তির পর শিাই মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ’ নিউইয়র্ক শহরে একদল শ্রমিক ও কারিগর ১৮২৯ সালে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও বলা যায়, সভ্যতার দ্বিতীয় ঢেউয়ের স্কুলগুলো তারুণ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাঁড়াশির মতো আটকে রেখে কঠোর নিয়ম-শৃংখলার মাধ্যমে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল টেকনোলজি এবং এসেম্বলি লাইনের চাহিদা অনুযায়ী কর্মশক্তি (ড়িৎশভড়ৎপব) তৈরির চেষ্টায় রত। ছোট পরিবার ও ফ্যাক্টরি স্টাইলের শিা ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে তরুণ সমাজকে শিল্প সমাজের উপযোগী ভূমিকা প্রতিপালনের জন্য প্রস্তুত করার একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এ ধারা বা নিয়ম চলছে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সকল সমাজে, সবদেশে পুঁজিবাদী, সমাজবাদী, সামন্তবাদী; পৃথিবীর উত্তর ও দণি গোলার্ধসহ সর্বত্র।
অমর সত্ত্বা (ওসসড়ৎঃধষ ইবরহমং) সকল দ্বিতীয় ঢেউ সমাজে কারখানা ও স্কুলের পরে একটি তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব ঘটল যা প্রথম দুটির সঙ্গে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরও বেগবান করে তোলে। এই আবিষ্কৃত প্রতিষ্ঠানের নাম ‘কর্পোরেশন’ বা ‘যৌথ কারবারি প্রতিষ্ঠান’। এর আগে সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল ব্যক্তি বা পরিবার বা অংশীদারিত্বের মালিকানাধীন। কর্পোরেশন ছিল কদাচিত দৃষ্ট। ব্যবসার ইতিহাসবেত্তা আর্থার ডিউইং এর ভাষায়, ‘এমনকি আমেরিকার বিপ্লবের শেষদিকেও কেউই এই সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যে, অংশীদারী বা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ছাড়িয়ে কর্পোরেসশন প্রধান সাংগঠনিকরূপে আবির্ভূত হবে। ১৮০০ সালের দিকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৩৩৫টি কর্পোরেশন ছিল। এদের অধিকাংশই আধা-সরকারি কাজ যেমন খাল খনন বা সড়ক নির্মাণ করা। শিল্পোৎপাদনের উত্থান সবকিছু পাল্টে দিল। দ্বিতীয় ঢেউ প্রযুক্তির জন্য বিশাল পরিমাণ পুঁজির প্রয়োজন পড়ল যা ব্যক্তি বা ছোট ছোট অংশীদারী কারবারীদের পে বিনিয়োগ করা ছিল অসম্ভব। তাছাড়া ব্যক্তি বা অংশীদারগণ বিপুল মূলধন খাটানোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় বিনিয়োগে নিরুৎসাহী থাকত। এ কারণে তাদেরকে উৎসাহিত করার ল্েয সীমিত দায় (খরসরঃবফ খরধনরষরঃু) ধারণা চালু করা হলো। যদি কর্পোরেশন ব্যর্থ বা পতিত হয় তবে বিনিয়োগকারীকে তার বিনিয়োগকৃত অংশের বেশি দায় বহন করতে হবে না। এই নতুন নিয়ম বিনিয়োগ বানের দরজা খুলে দিল। তাছাড়া আদালত কর্পোরেশনকে ‘অমর সত্ত্বা’ হিসেবে বিবেচনায় আনলো। এর অর্থ কপোরেশনে আদি বা প্রাথমিক বিনিয়োগকারীগণ অনাদিকাল টিকে থাকবে। এর ফলে, ইহা আগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং বিরাট বিশাল প্রকল্পের পরিকল্পনা নেয়ার সুযোগ পেল। ১৯০১ সালের মধ্যেই পৃথিবীর প্রথম বিলিয়ন ডলারের কর্পোরেশন ‘ইউনাইটেড স্টেট্স স্টিল’ ইতিপূর্বে অকল্পনীয় পরিমাণ পরিসম্পদ নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হলো। ১৯১৯ সালের মধ্যে এরকম অর্ধ ডজন বিশাল শক্তিশালী সংস্থা গড়ে উঠল। এই বিশাল কর্পোরেশনগুলো পুঁজিবাদী, সমাজবাদী ও সাম্যবাদী তথা সকল শিল্পোন্নত সমাজের ও দেশের অর্থনৈতিক জীবনে স্থায়ী অঙ্গ হিসেবে পরিগণিত হলো। আকৃতি-প্রকৃতিতে ভিন্নতা থাকলেও মূল বিষয় ছিল একই। ছোট পরিবার, ফ্যাক্টরি-স্টাইলের স্কুল এবং জায়ান্ট কর্পোরেশন এই তিনে মিলে দ্বিতীয় ঢেউ সমাজের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিল। এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিশ্বের সর্বত্র যেমন জাপান, সুইটজারল্যান্ড, ব্রিটেন, পোলান্ড, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ইত্যাদি দেশে মানুষ এই ধারা ও মানের পথ অনুসরণ করতে থাকল। তারা ছোট পরিবার গঠনে উৎসাহ প্রদান, শিশুদের ফ্যাক্টরি স্টাইলে স্কুলে শিা প্রদান এবং কর্মজীবনে সরকারি বা বেসরকারি কর্পোরেশনে চাকরি গ্রহণে ব্যাপক হারে বৃত্তবদ্ধ হয়ে পড়ল। দ্বিতীয় ঢেউয়ের এক চাবিকাঠি হিসেবেই এই ত্রিধারা মানব-জীবনের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে থাকল।
সঙ্গীত কারখানা (ঞযব গঁংরপ ঋধপঃড়ৎু) দ্বিতীয় ঢেউয়ের উন্মেষকালে এই তিন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অন্যান্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। সরকারি মন্ত্রণালয়, স্পোর্টস কাব, চার্চ, চ্যাম্বার অব কমার্স, ট্রেড ইউনিয়ন, পেশাভিত্তিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গ্রন্থাগার, ুদ্র ুদ্র জাতিসত্ত্বার সমিতি, বিনোদনমূলক গ্র“প ইত্যাদি হাজার হাজার গোষ্ঠির আবির্ভাব ও উত্থান-পতন ঘটে। এসব সংগঠন পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা, সমন্বয়, বিরোধিতা বা ভারসাম্য রার মাধ্যমে এক জটিল সাংগঠনিক বাস্তববিদ্যা সৃষ্টি করে। প্রথম পলকে দেখলে মনে হয় এই গ্র“পগুলো ছাড়া ছাড়া গোলমেলে বিভ্রান্তিকর। কিন্তু একটু নিবিড়ভাবে দেখলে লুকায়িত আদর্শ-রীতিটা বোঝা যায়। দ্বিতীয় ঢেউ প্রভাবিত একের পর এক দেশে সামাজিক উদ্ভাবকরা বিশ্বাস করতে শুরু করলো যে, উৎপাদনের সবচেয়ে অগ্রসর এবং দ সহায়ক হল ফ্যাক্টরি। তাঁরা তাই, ফ্যাক্টরির নীতি নিয়মগুলো অন্যান্য সংগঠনেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করলেন। স্কুল, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি আমলাতন্ত্রসহ অন্যান্য সংগঠনেও; ফ্যাক্টরির মতো শ্রম বিভাজন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর স্তরবিন্যাস এবং এর ধাতব নৈর্ব্যক্তিকতা ধারণ করল। এমনকি নান্দনিক শিল্পকলায়ও কারখানার কিছু কিছু নীতি-নিয়ম দেখা যায়। কৃষি সভ্যতার দীর্ঘ রাজত্বকালে রীতি অনুসারে সঙ্গীতজ্ঞ, শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার বা লেখক-সাহিত্যিকরা পৃষ্ঠপোষকের পরিবর্তে হাটবাজারের খোলা চত্ত্বরে মানুষের দয়াদােিণ্যর ওপর নির্ভর করতে হতো। তারা তাদের সৃজনকর্ম অনিশ্চিত ও অজ্ঞাত ভোক্তাদের উদ্দেশ্যেই নিবেদন করতো। দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবির্ভাবের পর প্রভাবিত প্রতিটি দেশে সৃজনশীল কর্মকান্ডের কাঠামো পাল্টে যায়। সঙ্গীত একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্ম নেয়ার পর অপ্রত্যাশিতভাবে কনসার্ট হলের আবির্ভাব ঘটল লন্ডনে, ভিয়েনায় ও প্যারিসসহ অনুরূপ অন্যান্য শহরে। এরই সঙ্গে সঙ্গে এলো বক্স অফিস, অপেরার কর্মাধ্য বা প্রযোজক। এরা উৎপাদনের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করলো এবং সাংস্কৃতিক ক্রেতা সাধারণের নিকট টিকেট বিক্রির নিয়ম চালু করল। শুরু হলো অর্থের বিনিময়ে সঙ্গীত, নৃত্য, চলচ্চিত্র, নাটক প্রভৃতি উপভোগ করা। যে যত বেশি টিকেট বিক্রি করতে পারতো, স্বাভাবিকভাবেই তার আয়ও বেশি হতো। এ জন্য বেশি বেশি আসন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়ে পড়লো। যার জন্য আবার প্রয়োজন হলো বড় বড় কনসার্ট হলের, উচ্চগ্রামের শব্দের সঙ্গীত, যাতে স্রোতাকুলের সবচেয়ে পেছনের ব্যক্তিও স্পষ্ট শুনতে পায়। এরই ফলস্বরূপ চ্যাম্বার মিউজিক সিম্পনির আকৃতি ধারণ করে। কার্ট স্যাক্স (ঈঁৎঃ ঝধপযং) তাঁর প্রামাণ্য গ্রন্থ হিস্টরি অব মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টস গ্রন্থে বলেন, ‘আঠারোশ শতকে সংস্কৃতি অভিজাত থেকে গণতন্ত্রের আদলে অতিক্রমকালে ছোট ছোট বিদগ্ধ সুধী সামবেশ রূপান্তরিত হয় বিশাল কনসার্ট হলে, যার জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চগ্রামের জোরালো কন্ঠের। যেহেতু তখনও উপযুক্ত প্রযুক্তি ছিল না তাই বেশি বেশি সঙ্গীতযন্ত্র এবং বাদক সংযুক্ত করা হলো উচ্চস্বর সৃষ্টি করার জন্য। এর ফলেই আধুনিক সিম্ফনি অর্কেষ্ট্রার প্রচলন ঘটে। এর জন্যেই শিল্প প্রতিষ্ঠানের আদলে সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়, যার জন্য বিঠোবেন, মেন্ডেলসন, স্যুবাট ও ব্রাহামরা তাঁদের চমকপ্রদ সিম্ফনি বা ঐকতানসঙ্গীত রচনা করেন। (চলবে)
|