দশদিক মাসিক

হোম কিশোর দশদিকআমি হব সকাল বেলার পাখি

আমি হব সকাল বেলার পাখি

ড. আহসান হাবীব ইমরোজ

সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। গত বছর গিয়েছিলাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নিভৃত পারিল গ্রামে। যেখানকার ২৬ বছরের টগবগে যুবক রফিক উদ্দিন আহমদ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে ‘মায়ের মুখের ভাষা’র জন্য সর্বপ্রথম জীবন দিয়ে ছিলেন। সিংগাইরের ভাষা শহীদ রফিকের লাশ তার মা-বাবা খুজে পায়নি, তাকে বেনামী দাফন করা হয়েছিল আজিমপুরের গোরস্থানে। পুত্রশোক আর লাশ না পাওয়ার সে বেদনায় রফিকের বাবা সংসারধর্ম ত্যাগ করেন এবং ১০ বছরের মাথায় ইন্তেকাল করেন আর মা হয়ে যেন নিশ্চল বোবা। রফিকের বড় ভাই নিবির মমতায় চা খাওয়াতে খাওয়াতে আমাদের বলেছিলেন এই সব করুণ কাহিনী।
গত ২১ জুন ২০১৩ একটি জাতীয় দৈনিকে একটি চমৎকার খবর বের হয় যার শিরোনাম ছিল; “ নতুন আইনস্টাইন!”
মাত্র ১০ বছর বয়সে অবিশ্বাস্য মেধার জোরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিষয় পড়তে যাচ্ছে এক বিস্ময়-বালক। লুই রবার্তো রামিরেজ নামে ওই বালকের বাড়ি মেক্সিকোর জামোরায়। সে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শিখেছে। এখন ফরাসি ও চীনা ভাষা শিখছে।
বার্তা সংস্থা আইএএনএস জানায়, দুই বছর আগে তার বুদ্ধিমত্তার বিস্ময়কর পর্যায়টি বাবা-মায়ের নজরে পড়ে। অভিভাবকেরা লক্ষ করেন, লুই তার সমবয়সী অন্য শিশুদের মতো নয়। অন্য শিশুদের সঙ্গে রুচি, আগ্রহ, চিন্তা-ভাবনায় তার তফাত রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বুদ্ধিমত্তার পর্যায় (আইকিউ লেভেল) ১৫২-১৬০-এর কোঠায়। এটা পদার্থ বিজ্ঞানের মহা বিস্ময় আইনস্টাইনের বুদ্ধিমত্তার পর্যায়ের।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে লুই বলেছে, আমার স্বপ্ন একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে নিজের উদ্ভাবিত জিনিস বিক্রি করা। বাবা রবার্তো রামিরেজ জানান, ছেলের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা দেখে তাঁরা বেশ গর্বিত। এটা তাঁদের জন্য একটা বড় দায়িত্বও বটে।
বন্ধুরা, এই ‘নতুন আইনস্টাইন’ লুই সম্পর্কে বলার সাথে সাথে আসল আইনস্টাইনের শৈশব নিয়েই কিছু কথা বলে নেই, কেমন ?
ঊ = সপ^২ আমরা আইনস্টাইনকে এই ফর্মূলা দিয়ে চিনি কিন্তু তার অনেক মজার বিষয় আছে। এসো না, তার সেই মজার কাহনীর চা চামচের দু-এক চামচ চেখে নেই।
ড় সে খুব মোটা শরীর ও মস্ত বড় মাথা নিয়ে জন্ম নেয়, তার মা খুবই চিন্তিত ছিল এটি কোন সমস্যা কিনা এই ভেবে। তার দাদী শৈশবে তাকে দেখে বলতো,Ñ ‘বাবা, কত মোটা রে’!
ড় সে শৈশবে তেমন কথা বলতোই না । এক রাতে খাওয়ার টেবিলে সে বলে উঠলো, সুপটা খুব গরম। সবাই আশ্চর্য হলো, বাবা-মা বললো, এতদিন কথা বলো নি কেন ? সে বললো- এতদিন সব ঠিক ঠাক মতো হয়েছে তাই।
ড় সে জটিল বিষয়ে অনেক ভাল করলেও সাধারণ বিষয়াদিতে একবারে যাচ্ছে-তাই অবস্থা ছিল। জন্মতারিখ এমনকি নিজের বাসার নাম্বারটা পর্যন্ত মনে রাখতে পারতো না।
ড় তার বয়স যখন পাঁচ, সে ছিল রোগ শয্যায় এমতাবস্থায় তার পিতা তাকে আকৃষ্ট করার জন্য একটি কম্পাস দিয়েছিল এটিই তার চিন্তা জগতে ব্যাপক আলোড়ন তুলে।
ড় বর্তমানের জনপ্রিয় লেখকদের মতো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর প্রতি তার কোন আগ্রহ ছিল না। তার ধারণা ছিল এতে করে মানুষের ভিতর বিজ্ঞানের প্রতি ভুল ধারণা তৈরী হবে।
ড় ১৮৯৫ সালে ১৭ বছর বয়েসে Swiss Federal Polytechnical School (Eidgenössische Technische Hochschule or ETH) এ ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার সে অকৃতকার্য হয়।
সাইকেল চালনারত আইনস্টাইনের ছবিটি এখানে জুরতে গিয়ে মনে পড়ে গেল আরেক সাইক্লিস্টের কথা। বিশেষ করে যখন শুনি কিশোর পত্রিকা আজকাল আর শুধু কিশোর, তরুণরাই নয় বরং বুড়োরাও পড়ে, স্যরি বলছি, বয়েসে তারা বুড়ো হলেও মনের দিক হয়তো টাটকা যুবক।
যাক আসল কথায় আসি, রবার্ট মারচান্ড নামক একজন ফরাসীর কান্ড দেখে তাবৎ বিশ্বের সবাই নড়েচড়ে বসেন। ভদ্রলোকের বয়স ১০২ বছর। তিনি ১ ঘন্টায় প্রায় ২৭ কিলোঃ সাইকেল চালিয়ে নিজের পূর্বতন রেকর্ড ভঙ্গ করেন। আর এতে করে তার পুরস্কার মাত্র ৭৫০ কোটি টাকা। বুড়ো পাঠকদের জন্য আজকের এক চিমটি তথ্যই যথেষ্ট নয় কি? আল্লাহ হাফিজ।


পাতাটি ৩২০৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।