দশদিক মাসিক

হোম শিল্প রাজশাহী সংস্কৃতি কেন্দ্রের চড়ুইভাতি

রাজশাহী সংস্কৃতি কেন্দ্রের চড়ুইভাতি

দশদিক প্রতিবেদক
আড্ডা নামটি শুনলেই কেনো যেনো মনের মধ্যে এক অচেনা ভাললাগার জন্ম হয়। আর তা কেনো যে হয় আমি নিজেও জানি না। ছোট থেকে বড় আমরা প্রত্যেকেই যেকোনো ধরনের আড্ডা হলে হই হুল্লোড় করে সারাটি দিন মনের অজান্তে কাটিয়ে দিই। আর সেখানে যদি আড্ডার নামে থাকে কিছু মজার মজার কবিতা পাঠ এবং তার সাথে থাকে যদি সুরেলা কন্ঠের কোনো শিল্পীর গান তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। উচ্ছ্বাসের নীল আকাশে তখন নাটাই বিহীন ঘুড়ির মতো উড়তে থাকে লাল-নীল স্বপ্নের হাজারো পায়রা। যা চোখের ফ্যাকাশে ক্যানভাস ছেদ করে নেমে আসে হৃদয়ের চিলেকোঠায়।
আর তখনি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠে হাজারো উচ্ছলতার প্রাণ, জীবন নামক অথৈ সমুদ্রে আছড়ে পড়ে নব নব সব রঙ্গিন ঢেউ। আর
জীবনের সেই নব নব সব রঙ্গিণ ঢেউয়ের অবতারনা ঘটাতে রাজশাহী সংস্কৃতিকেন্দ্রের সহযোগীতায় গত ১৪ ফেব্র“য়ারী ২০১৪ তারিখের বিশ্ব ভালবাসা দিবসের শিশির সিক্ত সকালে পরিচয় প্রাঙ্গনে এক জমজমাট চড়–ইভাতি কারকের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে চড়–ই ভাতি ও আড্ডা প্রাঙ্গন। আবৃত্তিকারকদের সুন্দর সুন্দর আবৃত্তি ও শিল্পীদের সুরেলা করে আড্ডা’র আয়োজন করা হয়। একঝাঁক তরুণ শিল্পী ও আবৃত্তি কন্ঠ মনোমুগগ্ধকর সব গানে চড়–ইভাতি’র সব বন্ধুরা যেনো ভাসতে থাকে আনন্দের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে। শিল্পী ও উপস্থাপক জনাব মাসুদ রানা এর সঞ্চালনায় গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের সূচনা পর্ব। আর বিকেল অবধি চলতে থাকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম।
নোঙর প্রোডাকশন হাউজ এর চেয়ারম্যান জনাব সোয়াইব হোসাইন এর সভাপতিত্বে এ আড্ডায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেডিও বেতার রাজশাহী এর বিশিষ্ট উপস্থ্াপক জনাব শরিফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন “রাজশাহী ওয়াড ওয়াড গেম” এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- ফাহাদ ফরহাদ।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে : ১৪ ফেব্র“য়ারী ১৪ উক্ত আয়োজনে কবিতা পাঠ করেন- কবি শাহাদত শাহেদ, ছড়াকার আব্দুল মাজেদ, ছড়াকার হাসান আল মামুন, ছড়াকার মাহমুদুল হাসান, ফারজানা আক্তার আনিকা প্রমুখ।
চমৎকার সব আবৃত্তির পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সব গানের পালা। একে একে গান পরিবেশন করেন শিল্পী মাসুদ রানা, রুপা আক্তার, মুক্তাদির আহমেদ স্বাগত, তানিয়া সুলতানা, রুবেল হোসেন, শিরিন আক্তার জলি প্রমুখ। গানের বিমুগ্ধ সুরে সিক্ত হতে থাকে শ্রোতাদের আপন্নত মন। ছড়াকারদের মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি ও শিল্পীদের গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে চড়–ইভাতি প্রাঙ্গন। বিশেষ করে ....গানের সময় যোগ হয় আনন্দের এক ভিন্ন মাত্রা যা অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দ মূখর করে তুলে।
চড়–ইভাতি আড্ডার বন্ধুদের মুখে ধরা পড়ে বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস কিন্তু গানের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে আনন্দকে ডিঙ্গিয়ে এক সময় কড়া নাড়ে বিদায়ের ঘন্টা। আগামী দিন হবে আরো আলোকজ্জ্বল আরো অর্থবহ সকলের চোখে মুখে এ প্রত্যাশা নিয়েই পরিসমাপ্তি ঘটে আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানটির।
- ফাহাদ ফরহাদ


পাতাটি ৪২৪৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।