সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৬৪


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক


পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পার্থিব লোভ-লালসামুক্ত থাকা, ত্যাগ-সহিষ্ণুতার সাধনা করা এবং মানবিক মূল্যবোধে তৈরি হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। নব জীবনকে সুন্দর ও পারলৌকিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় এই মাসের সিয়াম সাধনা। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সৌর্হাদ্যবোধের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা অনুশীলনে পবিত্র রমজানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব জীবনকে মহীয়ান ও সফল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রমজানের আগমন। এ মাসের ত্যাগ ও সংযমের মহান শিক্ষা আমাদের জন্য রহমত ও বরকতের পাল্লা ভারী করে। অন্যদিকে সমাজ জীবনে সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। তারাবি আদায়, ইফতার, সেহরি, দান-খয়রাত, যাকাত-ফিতরা আদায়, লাইলাতুল কদর, ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে মুসলমন জাতি মহান এই মাসে একাত্ম হয়। পবিত্র রমজানের ফজিলত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নেয়ামত স্বরূপ। এই পবিত্র মাসেই পবিত্র কোরআন শরীফ নাজেল হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, একমাত্র আমারই উদ্দেশ্যে রোজা রাখা হয়। আমি স্বয়ং রোজাদারদের পুরস্কৃত করবো। ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে রোযা তৃতীয় স্তম্ভ। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ এবাদত। এবাদত পালনের মধ্যেই মানুষের সর্বাধিক ত্যাগ-সংযম, ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার প্রমাণ মেলে এবং শারীরিক-মানসিক ও নৈতিক সব ক্ষেত্রে পবিত্র রমজানের রহমত, নেয়ামত ও সওয়াব অর্জন হয়। রমজানের রোজার শিক্ষার মধ্যে রয়েছে গরীব দুঃখিদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হওয়া, আমাদের মধ্যে সামর্থ্যবান, বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করতে পছন্দ করেন। তারা বেশি মূল্যে ইফতারি খাওয়ার প্রতিযোগিতা করে থাকেন। সিয়াম সাধনার নামে ভোজনবিলাসে মেতে ওঠেন। যা সমীচীন নয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে পবিত্র রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয়। মানবতা উপকৃত হয়। সংযমী জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবন পরিশুদ্ধ হউক। হউক পুণ্যস্নাত, পবিত্র। আল্লাহ পাক আমাদের সেই তওফিক দিন। এ আন্তরিক প্রার্থনা ব্যক্ত করে আমরা খোশ আমদেদ জানাই মাহে রমজানকে । আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে রমযান মাসের ফযীলত অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: নতুন দিগন্তের উন্মোচন
....................................
সবসময় জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফলপ্রসূ জাপান সফর ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে।এই সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি-৭ আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেন। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং উন্নত অবকাঠামো বিনির্মাণে সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট চারটি মৌলিক বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান। সম্মেলন পৃথিবীর শিল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহের মুখ্য প্লাটফর্ম। এটা তাদের নিজেদের একান্ত আলোচনার বিষয়। এই প্রথম জাপানের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন বিবেচনায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চাঁদ, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, লাওস, পাপুয়া নিউগিনিসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সমকালীন কয়েকটি মুখ্য উন্নয়ন বিষয়ে জি-৭ নেতৃবৃন্দ খোলামেলা আলোচনা করা হয়।বাংলাদেশ যেহেতু ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা, এলডিসি, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসনের মতো ইস্যুতে সমসাময়িককালে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বজনীন বৈশ্বিক উদ্যোগ বা ফ্রেমওয়ার্কে নেতৃত্ব প্রদান করছে বা অত্যন্ত দৃশ্যমান পর্যায়ে রয়েছে, তাই জাপানের বিশেষ আগ্রহ ও উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মেলনে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাই জি-৭ আউটরিচ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ তার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্ব নেতাদের আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী সফরকালে জি-৭ নেতৃবর্গসহ অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে মতবিনিময় করেন।

১৯৭২ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাপান সফর করেন।জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৪ বছর পূর্তিতে এবং বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতায় দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা ও ব্যাপ্তি এক নতুন উচ্চতা পেয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ভৌত অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন নতুন দ্বার ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত ২০১৪ সালের ২৫-২৮ মে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬-৭ সেপ্টেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে নিবিড়তর করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অবকাঠামোগত সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিবিড়তর ও গতিশীল হবে। প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিসিসিআইজেসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য এবং শিল্প সংস্থাগুলোর বিশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চলমান উদ্যোগসমূহের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এতে দু’দেশেরে আন্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সূদৃড় করবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

পাতাটি ১০৬৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।