সম্পাদকীয়

হোম দশদিক সংখ্যাঃ ৬৮


সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক


এবারও জাপানের রাজধানী টোকিও ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঈদ উদ্যাপিত হয়েছে৷ টোকিওতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের নামাজ আদায় করেই ছুটে যেতে হয় কর্মস্থলে৷ রাজধানী টোকিওর বাইরে আরও ৪৬টি জেলাসহ প্রায় দুই শ স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়৷ টোকিওর পাশের জেলা সাইতামা, চিবা, কানাগাওয়া ও ইবারাকিসহ দূরবর্তী হিরোশিমা, নাগাসাকি, ফুকুশিমা, ওসাকা ও গুম্মাতেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়৷ জাপান ইসলাম ধর্মাবলম্বীর দেশ নয়। আর এ কথা কারও অজানাও নয়৷ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই ঈদের জামাত হয় ঈদগার ময়দানে৷ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যে মুসলমান দেশগুলোর মতো ঈদের জামাত হয় খোলা ময়দানে৷ কিন্তু জাপানে ঈদের জামাত হয় সাধারণত মসজিদ বা মোসল্লার ভেতরে জাপানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান মাইক দিয়ে দিতে দেওয়া হয় না৷ কারণ, এ দেশের স্থানীয় আইন অনুসারে নীরব নিস্তব্ধ থাকতে হয় সর্বক্ষণ৷ ঈদগার ময়দানের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও জাপানের প্রবাসী মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেই অনেক খুশি থাকতে হয়৷ আশির দশকে জাপানে মসজিদ ও মোসল্লার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ এর নিচে৷ কিন্তু বর্তমানে দুই শতাধিক নামাজের জায়গা থাকা সত্ত্বেও সংকুলান হচ্ছে না মুসল্লিদের। জাপানে মুসলমানের সংখ্যা ক্রমাগত পাচ্ছে৷ পাশাপাশি মসজিদ বা মোসল্লার সংখ্যাও বেড়েই চলছে৷ কোনো কোনো মসজিদ বা মোসল্লাতে দুইয়ের অধিক জামাতের আয়োজন করা হয়৷ এমনি ধরনের একটি মসজিদ সাইতামা শহরের গামোতে অবস্থিত বায়তুল আমান গামো মসজিদ। এখানে চারটি জামায়াতের আয়োজন করা হয়৷ মহিলাদের জন্য পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকে৷ গামো মসজিদের মুসল্লিরা খানিকটা সৌভাগ্যবানই বলা চলে৷ কারণ এখানে ঈদের নামাজের ইমাম হওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তি থাকেন প্রায় ছয় থেকে সাতজনের মতো৷ তাদের ছয়জনই হাফিজ৷ তাদের মধ্যে অনেকেই আবার কারি, মাওলানা ও মুফতি৷ গামো মসজিদে ছয়-সাতটি জামাতের আয়োজন করার মতো সুযোগ আছে। তাই দূরদূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি মুসল্লি এই মসজিদে আসেন৷ গামো মসজিদের শতকরা ৮০ ভাগ মুসল্লিই প্রবাসী দলমত-নির্বিশেষে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকর্তারা৷ জাপানের বাঙালি প্রবাসীদের এই আচরণটি সত্যি বিরল।

১৮ সেপ্টেম্বর, মুন্সিগঞ্জ- বিক্রমপুর সোসাইটি, জাপান এর ঈদ পুনর্মিলনী মিসাতো পার্কে জাপানের প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক পুনর্মিলনী ও পরিচিত সভার আয়োজন করে। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটির সভাপতি বাদল চকলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম নান্নুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সামাজিক বক্তিত্ব ও প্রবাসীরা। ঈদের কুরবানির গরুর মাংস দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। বিদেশ থেকে আগত বাংলাদেশী অতিথি, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী, দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা সহ বিভিন্ন মেডিয়ার লোকজনও অংশগ্রহন করেন ৷ আগত অতিথিদের মধ্যে মহিলা ও ছোট ছোট শিশুদেরও পরিলক্ষিত হয় ৷ প্রবাসীরা ঈদের শুভেচ্ছা, সৌহার্দ বিনিময়ের পাশাপাশি সোসাইটির সকল কর্মীদের আতিথেয়তা ও আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করেন৷ শিশু-কিশোররাও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। প্রবাসীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে ঈদ পুনর্মিলনী উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ছুটির দিনে প্রবাসীদের এ ধরনের ঈদ আয়োজন একটু হলেও এনে দেয় সবার জীবনে আলাদা এক অনাবিল প্রশান্তি..।


পাতাটি ৭৮২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।