|
Untitled Document
|
|
Untitled Document
|
|
|
|
 |
|
2010-01-19 |
|
খোলা চোখে:
বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নারী অধিকার |
|
|
|
|
|
|
এডভোকেট লুৎফুন্নেসা ও কাজী মোঃ রফিকু |
|
|
|
|
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার এ চমৎকার উপলব্ধির মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদার প্রতি যতই সম্মান প্রদর্শন করুন না কেন- বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষপটে তার প্রাপ্য অধিকার নিয়ে ভাববার এবং কাজ করবার এক অনিবার্য প্রয়োজনীতা এখানে।
তুমূলভাবে বর্তমান আজকের পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ নারী তাদের পরিবারের ভেতরেই শোষিত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে প্রয়োজনীয় বস'-সামগ্রী, স্বাস' পরিচর্চা ও শিক্ষা থেকে। কখনও কখনও ক্ষমতা পাবার উদ্দেশ্যে নারীদের অধিকার স্বীকার করা হলেও ক্ষমতা লাভের পর তা আবার অবলীলায় উচ্ছেদ করা হয়েছে। কখনও কখনও এমনভাবে দেখানো হয়েছে যা সিদ্বান- গ্রহনের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহনের থেকে কোন অধিকারই নেই।
আসলে ইতিহাসের গোটা পথ পরিক্রমায়, এমন কি আজ পর্যন- নারীদের অধিকার ও জীবন এবং সেই সাথে বিশ্বের সামাজিক ও প্রথাগত রীতি শাসকবর্গের প্রত্যাশার কাছে হার মেনেছে বারবার। কিন' বর্তমান যুগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানব সভ্যতা এবং মানবতার যখন আকর্ষনীয় অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে তখন নারীদের অধিকার ও মর্যাদাকে গুরুত্ব সহকারে ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার একটি বিশাল প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের ভুললে চলবে না। যে, নারী ও তার অধিকারের প্রতি অসম্মান মানেই হচ্ছে নারী পুরুষ নির্বিশেষে গোটা মানব জাতির প্রতিই অসম্মান।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস'া (ঋঅঙ) সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে নারীরা শতকরা পঞ্চাশ ভাগ (৫০%) খাদ্য উৎপাদন করে থাকে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ৮০ ভাগ খাদ্যর উৎপাদক হচ্ছে নারীরা। মজুরী যুক্ত ও মজুরীশূণ্য সব কাজে বিশ্বব্যাপী ব্যাধিত সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর অ্যামেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়া ছাড়া সব দেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশী সময় কাজে ব্যয় করে। ঐ দুটি দেশে নারীদের কাজের সময় পুরুষদের সমান।
পৃথিবীর সবখানেই মহিলাদের কম পরিশ্রমিক দেয়া হয়ে থাকে। একই ধরণের কাজের জন্য মহিলাদের গড়ে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম পারিশ্রমিক দেয়া হয়। বিশ্ব স্বাস'্য সংস'া (ডঐঙ) ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল (টঘওঈঊঋ) নারীদেরকে তাদের অভিহিত করেছে।
নারী অধিকার প্রেক্ষিত বর্তমান প্রেক্ষাপট
সপ্তদশ শতক থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে পাশ্চাত্যে একের পর এক বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক আন্দোলনের এবং সামাজিক সমস্যাবলীর ক্ষেত্রে মানবাধিকার নামে বিভিন্ন আন্দোলন শুরু হয়। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে বিভিন্ন লেখক ও চিন-াবিদ অধিকার সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ চিন-াধারা ব্যাপকভাবে প্রকাশ করেন। জ্যাঁ জ্যাক রুশো, ভলতেয়ার মতেঁষ্কু এদের মধ্যে অন্যতম। পরবর্তীতে তাদের এ চিন-াধারা একটি সুষ্পষ্ট ফল বয়ে নিয়ে আসে। সবচেয়ে প্রথমে বৃটেনে, এরপর অ্যামেরিকায় ও তার পরে ফ্রান্সে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস'া পরিবর্তন ও ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে এসব চিন-াধারার সফল বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং ক্রমান্বয়ে তা অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
উনিশ শতকে মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে নতুন নতুন চিন-াধারার আবির্ভাব হয় এবং ফলে আরো কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুষ্টি হয় যার পরিনীতিতে সমাজতন্ত্রের আত্ম প্রকাশ ঘটে এবং মেহনতী মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভূতি হয় এবং পুঁজিবাদি শ্রেণীর হাত থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিনিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর সমর্থকদের হাতে অর্পিত হয়। যদিও অতি সামপ্রতিক সময়ে সভাপতি ইউনিয়নের বিলুপ্তি এবং চীনের পক্ষ থেকে পুঁজিবাদী অর্থনীতি গ্রহন বিষটি প্রশ্নবিদ্ধ করলেও আজো বিশ্বের কোন কোন দেশে এর উপসি'তি উনিশ শতকের শেষ দিক ও বিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন- মানবাধিকার বলতে সরকারের মোকাবেলায় জনগনের মোকাবেলা শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের অধিকার বোঝাত।
উনিশ শতকের শেষ দিক ও বিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন- মানবাধিকার বলতে সরকারের মোকাবেলায় জনগনের অধিকার বা মালিক ও নিয়োগকারীর মোকবেলায় শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার বোঝাত। এবং বিশ শতকে এসে পুরুষের অধিকারের বিপরীতে নারীদের অধিকারের বিষয়টি উপস'াপিত হলো। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে। জাতিসংঘ ঞযব ঁহরাবৎংধষ উবপষধৎধঃরড়হ ড়ভ ঐঁসধহ জরমযঃং বা আনর্-জাতিক মানবাধিকার ঘোষণায় সর্বপ্রথম সুষ্পষ্ট ভাষায় নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা ঘোষণা করে। সপ্তদশ শতক থেকে শুরু করে চলতি (একুশ) শতক পর্যন- পাশ্চাত্যে সকল সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রিয় বিষয়বস' ছিল দুটি। একটি হচ্ছে ‘স্বাধীনতা’ এবং অপরটি হচ্ছে ‘সাম্য’। এখানকার অন্য সমস- আন্দোলনের পর নারী আন্দোলন শুরু হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতা ও সমতার ক্ষেত্রে ইউরোপের নারী অধিকারের ইতিহাস ছিল বিস্ময়কর ভাবে নৈতিবাচক। একারণে সেখানে যখন নারী অধিকারদের কথাটি উঠল তখন স্বাধীনতা ও সমতা ছাড়া অন্য কোন কথা চিন-ায় আসতে পারেনি। এ আন্দোলনে অগ্রবর্তীরা নারীর অধিকার ও পুরুষের সাথে তার অধিকারের সমতাকে সপ্তদশ শতক সূচিত মানবাধিকার আন্দেলনের সম্পূরক ও পরিপূরক হিসাবে বিবেচনা করতেন। তাদের দাবী ছিল, নারী স্বাধীনতা ও পুরুষের সাথে তাদের সমানধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কথা একেই বারেই অর্থহীন।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
 |
|
|
|
Untitled Document
|
|
Designed & Developed by Doshdik
Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com |
| Home | About Us| Advertise
| Terms & Conditions| Contact Us |
| ©Doshdik
Media Limited. All rights reserved. |
|
|