Untitled Document
Make Doshdik your homepage
Untitled Document
 
 
 
You are visitor number 84722You are visitor number 84722You are visitor number 84722You are visitor number 84722You are visitor number 84722
 
     
 
2010-01-20
জাদুঘর সিরিজ [ ৮] বিজ্ঞান জাদুঘর, শিক্ষার এক অন্যন্য ঘর
 
  মনজুর রশিদ  
  যেসব প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে মানবসভ্যতা আজ এ পর্যায়ে এসেছে তাঁদের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করে আরও সামনে এগিয়ে যাবার দিকনির্দেশনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনবদ্য প্রতিষ্ঠান ‘বিজ্ঞান যাদুঘর’। ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় বিজ্ঞান যাদুঘরটির প্রবেশ মুখে অতিকায়দেহী ডাইনোসরের অট্টহাসি দেখে ভয় পেলে মূল ভবনের ভেতরের ৮ টি গ্যালারিতে প্রদর্শিত নানাবিধ বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নিদর্শন থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আধুনিক যুগের সবচাইতে আলোচিত কম্পিউটারচালিত রোবট থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমির কঙ্কাল সব কিছুই স্থান পেয়েছে যাদুঘরটিতে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের আবিষ্কৃত ফসিল, মহাকাশ থেকে পতিত উল্কা পিন্ড, জাপানের আগ্নেয়গিরির লাভা, বিজ্ঞানের মজার মজার খেলা, মিনি প্ল্যানেটোরিয়াম, বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের ছবি ও তথ্য, দেশের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশ দর্শনের অপূর্ব সুযোগসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা আবিষ্কার ও দুর্লভ প্রদর্শনীর আকর্ষণীয় সমারোহ রয়েছে এখানে। বিশ্বখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যাদুঘর কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ কর্ণার তৈরি করেছেন। ঢাকার বিক্রমপুরে জন্ম বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুই বিশ্বকে প্রথম জানান উদ্ভিদের প্রাণ আছে। তাঁর এ আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত ইউরোপসহ সারা বিশ্বের মানুষের ধারণা ছিল উদ্ভিদ জড় পদার্থ কিংবা সমগোত্রীয় শ্রেণীর। তিনিই প্রথম তারবিহীন বেতার বা রেডিও আবিষ্কার করলেও তাঁর সহযোগী গবেষক ইতালীয় নাগরিক মার্কোনি তা নিজের আবিষ্কার বলে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করেন। ডাইনোসারের মূর্তিটির ঠিক পেছনের অংশে রয়েছে জঙ্গি বোমারু বিমানসহ বেশ কিছু আবিষ্কার। কর্তৃপক্ষ দশনার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন, ডাইনোসার বা প্রকৃতি যত ভয়ংকর বা অপ্রতিরোধ্যই হউক না কেন, মানুষ তার মেধা দিয়ে, বিজ্ঞানের আবিষ্কার দিয়ে তাকে পরাস্ত করে সামনে এগিয়ে যাবেই যাবে। যাদুঘরের নীচতলায় ৩টি এবং দোতলায় ৫টি মোট ৮টি প্রর্দশনী গ্যালারি রয়েছে। প্রথম গ্যালারিটি ‘ভৌত বিজ্ঞান গ্যালারী’। এতে পদার্থ বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে প্রমাণ সহকারে সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের পৃথিবীর উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে দুটি চৌম্বিক ফিল্ড রয়েছে। এই ফিল্ডগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে চৌম্বক বলরেখার মাধ্যমে। এই বলরেখাগুলো কখনই একটি অপরটির উপর দিয়ে যায় না। এই ব্যাপারটি একটি বার-ম্যাগনেট দিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে চৌম্বিক বলরেখা। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন নিউটনের প্রথম ও তৃতীয় গতিসূত্রের প্রদর্শনী বেশ আকর্ষণীয়। ‘প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।’ তৃতীয় গতিসূত্রের প্রদর্শনীতে নির্গমদ্বারের ওপর যখন পানি ঢালা হচ্ছে, তখন পানি যেদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ঠিক উল্টো দিকে চাকাটা ঘুরে যাচ্ছে। নিউটনের বর্ণচক্রে বলা হয়েছে, সূর্যের সাদা আলোতে সাতটি রং বিদ্যমান। লাল, হলুদ, সবুজ, বেগুনী, নীল, কালো রংয়ের সমন্বয়ের চাকতিটি জোরে ঘুরালে সব রং মিলিয়ে তা সাদা বর্ণ ধারণ করে। পদার্থ বিজ্ঞান, মাঝে-মধ্যেই মনের বিজ্ঞান হয়ে ওঠে, যার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ ভরের ধাঁধাঁয়। বিজ্ঞান যাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ শুধু দেখা নয় হাতে-কলমে অনেক কিছুই প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। ভরের ধাঁধাঁর প্রদর্শনী বস্ত্তটির প্রথমে লোহার ছোট অংশটি তুলুন, পরে সম্পূর্ণ অংশ তুলুন। কোন্টি ভারী? সবাই বলে থাকেন উপরের অংশ ভারী এবং দুটি একত্রে হাল্কা। কিন্তু এটি মোটেই ঠিক নয়। কারণ একটির চেয়ে দুটির ওজন বেশি হবে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মানসিক। প্রথমে ছোট অংশ তোলা হয়, তখন মনে হয় বস্ত্তটিতে ১ কেজি ভর আছে, যখন সম্পূর্ণ অংশ তুলতে বলা হয়, তখন আমাদের মস্তিষ্ক মনে করে টুকরো বস্ত্তটি এতটা ভারী, এর চেয়ে নিচের অংশ তিনগুন লম্বা বিধায় ভর আরও তিনগুণ বেশি হতে পারে। উপরের অংশের ১গুণ + নিচের অংশের ৩ গুণ = ৪ গুণ ভর উপরে তুলতে পারা যায়, তার জন্য মস্তিষ্ক হাতের মাধ্যমে একটা বড় ধরনের বল প্রয়োগ করে। যার ফলে দুটি অংশকে একত্রে হাল্কা মনে হয়। আসলে দুটির ভর প্রথমটির চেয়ে বেশি। বিশ্ববীর আলেকজান্ডার বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, কি বিচিত্র এই বিজ্ঞান সেলুকাস! টেক্নোলজি গ্যালারিতে রয়েছে: সাগর বা মহাসাগরের গভীরতা জানার জন্য ‘ফেদোমিটার’, গভীর সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। সাসপেনশন ব্রীজ মূলত দুটি বাঁকা ক্যাবল দ্বারা মূল টাওয়ারের সাথে ব্রীজের সংযোগ রক্ষা করে। সাসপেনশন ব্রীজের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হল: এত লম্বা স্প্যান অন্য কোনো ব্রীজে ব্যবহার করা যায় না। সাসপেনশন ব্রীজের মডেল ছাড়াও এখানে হার্ডিঞ্জ সেতুর মডেল, ইউরিয়া সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা, কর্ণফুলী কাগজ কল, চিনি কলের মডেল দেখানো হয়েছে। বায়ুর স্থানীয় চাপ নির্ণয়ের যন্ত্র, পুরাতন বিমানের ইঞ্জিন, রাডার, অ্যান্টিট্যাস্ক এবং রাডার ডিসপ্লে, লাইফবোট রেডিও গ্যালারির বেশ আকর্ষণীয় প্রদর্শনী। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে দৃশ্যমান আলোর পরিবর্তে ইলেকট্রন ব্যবহার করা হয়। ফলে বস্ত্তটি অনেকগুণ বড় দেখা যায়। একটি আধুনিক ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে বস্ত্তকে ১০ লক্ষ গুণ বড় করে দেখা সম্ভব। জীববিজ্ঞান গ্যালারিতে রয়েছে এককোষী এ্যামিবা থেকে শুরু করে অতি জটিল মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা। ভূমিতে এবং গভীর সমুদ্রে বসবাসরত বিভিন্ন প্রাণীদের মডেল বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাণীখেকো গাছ ড্রসেরা দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকা জেলায় দেখা যায়। এই জাতীয় গাছগুলো আকারে খুবই ছোট। দৈর্ঘ্য এক ইঞ্চি। অবশ্য আফ্রিকার মানুষখেকো গাছগুলো আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে। মানবদেহের মস্তিষ্কের তিনটি ভাগের কার্যক্রমকে সুন্দরভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। (১) সম্মুখ মস্তিষ্ক স্মৃতি, শ্রবণ শক্তি, দর্শন শক্তি, তাপ ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ করে। (২) মধ্য মস্তিষ্ক শ্রবণ ও দর্শন শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। (৩) পেছনের মস্তিষ্ক শরীরের ভারসাম্য, হার্টের চাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে মানব হৃদপিন্ড, রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি, মানুষের জরায়ু, পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ডস মডেলের প্রর্দশনী ও বিস্তৃত বিবরণ দেয়া আছে। ডিএনএ বা ডি-অক্সি-রিবোনিউক্লিক এসিড মডেল প্রদর্শিত হচ্ছে। ডিএনএ বংশগত চরিত্র বহন করে। মানবদেহের সকল সেলের সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। সেল বিভাজন মডেল (মেয়োসীস) নিউক্লিায়াস বিভাজন কৌশল যেখানে মাতা নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান ক্রোমজমের সংখ্যা প্রতিটি কন্যা নিউক্লিয়াসে গিয়ে অর্ধেকে পরিণত হয়। মজার বিজ্ঞান গ্যালারিতে মজার আয়না, ছিন্ন মস্তক, বহুরূপী ছবি, রঙিন ছায়া, ঊর্ধ্বমুখী বৈদ্যুতিক আর্ক, সুরেলা টিউব শিশু-কিশোরদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় গ্যালারি এটি। কম্পিউটারচালিত রোবট, জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিউটন, গ্যালিলিও, স্যার জগদ্বীশ ন্দ্র বসু, আলবার্ট আইনস্টাইন, নোবেল বিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুস সালাম সকলের সংক্ষিপ্ত জীবনী একই কক্ষে স্থান পেয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি গ্যালারিতে বাংলাদেশে প্রথম ব্যবহৃত বেশ কিছু মেইনফ্রেম কম্পিউটার প্রদর্শিত হয়েছে। এগুলো মূলত দ্বিতীয় প্রজন্মের ডিজিটাল মেইনফ্রেম কম্পিউটার। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় আণবিক শক্তি কেন্দ্রে প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার স্থাপিত হয়েছিল। ডিজিটাল কম্পিউটারের পাশাপাশি এনালগ কম্পিউটারও প্রদর্শিত হচ্ছে। ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে আসা ইংরেজি মিডিয়ামের স্কুল ও কলেজে পড়ুয়া দুই ভাই মাহদি হাসান ও সাদি হোসেন জানালো, তাদের পাঠ্যসূচিতে বিজ্ঞানের অনেক জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা সচক্ষে দেখতে পেয়ে তারা রীতিমত আনন্দিত ও উদ্বেলিত। নবীন বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রকল্প আছে বলে জানান যাদুঘরের সহকারী কিউরেটর নূর-এ জান্নাত মুক্তা। তিনি জানান, যাদুঘরের সহায়তা পেয়ে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার অর্জন করেছে এমন কয়েকটি প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ‘উন্নয়ন’ গ্যালারিতে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা ব্যবসা বাণিজ্য বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করতে আগ্রহী। অথচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হচ্ছে যে কোনো দেশের উন্নয়নের প্রথম ধারা। সরকারের বিশেষ দৃষ্টি পেলে বিজ্ঞান যাদুঘর বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যাদুঘরের পরিচালক মোঃ মনসুর হোসেন জানান, ‘নবীন বিজ্ঞানী’ নামে তারা একটি জনপ্রিয় ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের করেন এবং বিনামূল্যে তা বিতরণ করেন। এছাড়াও বিজ্ঞান বিষয়ক বেশ কিছু প্রকাশনা তারা বের করে থাকেন। তিনি জানান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ফ্যান্টাসী কিংডম কিংবা নন্দন পার্কের চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব বিজ্ঞান যাদুঘরকে। বিজ্ঞান যাদুঘরা শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জনপ্রতি টিকেট পাঁচ টাকা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এবং অন্যান্য সরকারী ছুটির দিন বন্ধ। টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন চাঁদ, শুক্র, মঙ্গল, শনি, এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি, জোড়া তারা ও তারার ঝাঁক। শুধুমাত্র শনি ও রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সবশেষে ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’ বিজ্ঞান যাদুঘর পরিদর্শন শেষে এ বক্তব্যকে অনেকটাই ম্লান বলে মনে হয়েছে। তাই বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় আজই ঘুরে আসুন বিজ্ঞান যাদুঘর।
 
 
 
     
[Back]  
Untitled Document
 
 
Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com
Home | About Us| Advertise | Terms & Conditions| Contact Us
©Doshdik Media Limited. All rights reserved.