|
Untitled Document
|
|
Untitled Document
|
|
|
|
 |
|
2010-01-20 |
|
দশদিক জাপান এবং ফুজিসান প্রসঙ্গ |
|
|
|
|
|
|
ফখরুজ্জামান চৌধুরী : কথাসাহ |
|
|
|
|
নিপ্পনকোকু কিংবা নিহোনকোকু’র আধুনিক নাম জাপান যার আভিধানিক অর্থ সূর্যোদয়। জাপানকে সেই ছোটবেলায় যে সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে জেনেছি, তার চাক্ষুষ প্রমাণ ভোর ৪টায় সূর্যের আলোয় চারদিক উদ্ভাসিত হওয়ার মধ্যে পেয়েছি প্রতিদিন।
সে এক অনির্বচনীয় নৈসর্গিক ল্যান্ডস্কেপ! নির্মেঘ আকাশ থাকলে টোকিও, সাইতামা, চিবা থেকে দূরে আবছা দেখা যায় মাউন্ট ফুজি, জাপানিরা যাকে মান্য করে বলেন ফুজিসান। ফুজিসান অগ্নিগিরি, এখন ঘুমন্ত। যেদিন তার ঘুম ভাঙবে, লাভা আর তপ্ত ছাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফুজিসান জাপানবাসীর সুখী-সমৃদ্ধ জীবনে মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।
ফুজিসানকে জাপানিরা কী পরিমাণ সম্মান করে তার নজির পেয়েছিলাম শিন্কান্ছেন-বুলেট ট্রেনে প্রাচীন রাজধানী কিয়োতো থেকে টোকিও ফেরার পথে।
টোকিও থেকে সকালে রওনা হওয়ার সময় খেয়াল ছিল না ফুজির কথা। হয়তো জীবনে প্রথম ব্যয়বহুল দ্রুততম ট্রেন সার্ভিসে ওঠার আনন্দ আর শিহরণের কারণেই তা হয়েছিল।
ভুলেছিলেন আমাদের মেজবান টোকিও নগরীর অন্যতম তরুণ বাঙালি আইটি ব্যবসায়ে সফল বিনিয়োগকারী টাঙ্গাইলের সন্তান সানাউল হকও। সানাউল হক টোকিও থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘দশদিক’ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক। টোকিও অবস্থানকালীন ‘দশদিক’ পত্রিকার আতিথেয়তা এবং পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক লেখক-গবেষক প্রবীর বিকাশ সরকারের আন্তরিকতা ভোলার নয়। টোকিও থেকে কিয়োতো যাত্রায় আমাদের সহগামী হয়েছিলেন সানাউল হকের স্ত্রী ও সন্তানেরা। যাত্রার আগে অবশ্য সানাউল মাউন্ট ফুজির কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে বিস্মৃত হয়ে যান কোনো কারণে।
ঝকঝকে উজ্জ্বল সকালে কিয়োতোগামী শিন্কান্ছেন যখন ফুজিকে বাঁয়ে রেখে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে যায়, তখন আমরা অন্য বিষয়ে আলাপচারিতায় মগ্ন!
ফেরার পথে ট্রেনে উঠেই সপ্রতিভ তরুণী স্টুয়ার্ডেসকে যখন ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করি কখন কোন্ দিকে ফুজিসানকে দেখতে পাব, মুহূর্তের মধ্যে জবাব এলো, এ্যাট সিক্স-ফিফটি সেভেন। অন দিস সাইড, স্যার! বলেই মাথা ঝুঁকালেন। মুখস্থ জবাব। পরক্ষণেই জানান দিলেন, তবে আজ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, তাই ফুজিসানকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কথা শেষ করে অদৃশ্য ফুজিসানের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধায় আবারও মাথা নত করলেন তরুণী।
শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
জাপানে যতবার গেছি, ফুজিসানকে দেখার সুযোগটি কোনো না কোনোভাবে হারিয়েছি।
টোকিওর পশ্চিমে শিজুওকা আর ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের (জেলা) সীমায় মাউন্ড ফুজির অবস্থান। জাপানিদের কাছে দেবতাতুল্য ফুজি থেকে সর্বশেষ লাভা উদ্গিরণ হয়েছিল ১৭০৭-০৮ সালে। তারপর থেকে ঘুমিয়ে আছেন দেবাত্মা ফুজিসান। ফুজিসানের এই নিদ্রা যেন না ভাঙে তার জন্য জাপানিদের পূজা-অর্চনার কমতি নেই। পরিব্রাজক জাপানিরা পূজার কাজটি সারতে ভোলেন না কখনও। নানা ধর্মমতের মানুষ যার যার রেওয়াজমাফিক পূজার কাজটি সারেন।
জাপানিরা বিশ্বাস করেন ৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে অজ্ঞাতনামা এক মঠাধ্যক্ষ শান্তির সন্ধানে পরিব্রাজনে বের হয়ে দর্শন পান ফুজিসানের। দেবতাজ্ঞানে পূজা দিতে সেখানেই তিনি থেকে যান আমৃত্যু।
এই পবিত্র পাহাড়টি নারীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল বহু বছর। মেইজি শাসনকালে এটি সর্বপ্রথম মহিলা পুণ্যার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, মেইজি শাসনকালে (১৮৬৮-১৯১২) জাপানের আধুনিকায়নের শুরু।
মাউন্ট ফুজির উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮৮ ফুট। জাপানিদের কাছে দেবাত্মা হিসেবে আর যে দুটি পাহাড়চূড়া বিবেচিত সেই দুটি হল মাউন্ট হাকু আর মাউন্ট তাতে। তবে ফুজিসানের অবস্থান সবার উপরে। জাপানের জাতীয় প্রতীক হল ফুজিসান। বছরের বেশিরভাগ সময় ফুজিসানের চূড়া বরফে ঢাকা থাকে। ফুজিসানে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৩২ ডিগ্রি।
ফুজিসানের সম্মানজনক অবস্থানের কথা জাপানের সীমানা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে অনেক আগেই। মনে আছে একবার ঢাকায় ফুজির ভূগর্ভ থেকে আহরিত কথিত পানির দেড় লিটার বোতল সর্বরোগের ধন্বন্তরি হিসেবে কিনেছিলাম ২০০ টাকা দিয়ে।
জাপানে জিজ্ঞেস করেছিলাম মাউন্ট ফুজির পানি সম্পর্কে।
জেনেছিলাম এই ব্র্যান্ড নামে মিনারেল ওয়াটার অন্যান্য ব্র্যান্ড পানির সঙ্গে সমানে বিক্রি হয় তবে শুধুই পানীয় হিসেবে। ধন্বন্তরি ওষুধ হিসেবে নয়।
সেই ব্র্যান্ডের পানিই ‘ওয়ান টাইম’ ব্যবসা হিসেবে ঢাকায় এনে বিক্রি করেছিলেন কোনো প্রতিভাবান আমদানিকারক!
ঘড়ির ডায়ালে চোখ দিয়ে বসে আছি, কখন ছয়টা সাতান্ন বাজে!
ঠিক সময়ে সেই সমপ্রতিভ স্টুয়ার্ডেস এসে হাজির।
জানালার বাইরে আঙুল নির্দেশ করে বললেন, ওন দ্যাট সাইড স্যার! কিন্তু মেঘলা আকাশ।
দেখা যাবে না ফুজিসান।
এবারও দেখা হল না ফুজিসান!
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
 |
|
|
|
Untitled Document
|
|
Designed & Developed by Doshdik
Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com |
| Home | About Us| Advertise
| Terms & Conditions| Contact Us |
| ©Doshdik
Media Limited. All rights reserved. |
|
|