|
Untitled Document
|
|
Untitled Document
|
|
|
|
 |
|
2010-01-22 |
|
জাতীয় পর্যায়ে যে সব কারণে ২০০৯ স্মরণীয় হয়ে থাকবে |
|
|
|
|
|
|
সুফিয়া বেগম |
|
|
|
|
দীর্ঘ দুই বৎসর অনির্বাচিত সরকার এবং এর এক বৎসর জরুরী শাসনের অধীনে থাকার পর বাংলাদেশের জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে দেশের দায়িত্বভার অর্পণের মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি পায় ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে। ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ এর নির্বাচনের মাধ্যমে তারা এই পরিবর্তন ঘটায়। উল্লেখ্য যে, একটি পূর্ণাঙ্গ ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
* এই নির্বাচনটি আরও একটি বিশেষ কারণে উল্লেখযোগ্য এবং ২০০৯ বৎসরটিকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর এই প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সম্ভবত কোন রাজনৈতিক দল বিপুল জন সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে।
* ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ এর নির্বাচনের মাধ্যমে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
* ২০০৯ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারের কাছ থেকে আমরা এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪ জন নারীকে পূর্ণমন্ত্রী ও ২ জন নারীকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। শুধু তাই নয়, এই উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি আমার ২ জন নারীকে। এই দিকের বিচারে সরকারী পর্যায় থেকে নারীর ক্ষমতায়নে ২০০৯ সালটা আমাদের অগ্রযাত্রার মাইলফলক হয়ে থাকবে।
* ২০০৯ সালে নতুন নির্বাচিত সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতাকে অতীতের মতই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পরাজিত দল। বরাবরের মতই তারা নির্বাচনে সূক্ষ্ণ কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু তাদের এই অভিযোগ হালে পানি পায়নি। নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য কোন প্রমাণ দাঁড় করাতে পারেনি তারা।
দ্ব বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের প্রথম সংসদ অধিবেশন বর্জন করেছে বিরোধী দল এবং এখন পর্যন্ত তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বক্তব্য আগের মতই গতানুগতিক ও পরষ্পরবিরোধী।
* ২০০৯ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের মতো আর একটি কলংকজনক অধ্যায় সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বলে খ্যাত বিডিআর বাহিনী তাদের সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহ করে এবং তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। সুপরিকল্পিতভাবে এই দুই দিনে পিলখানায় প্রায় ৭০ জন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। নির্যাতন চালানো হয় তাদের পরিবার পরিজনদের উপর।
* এর পর পরই বিডিআর এর নাম ও পোষাক পরিবর্তনের প্রসংগটি সামনে চলে আসে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ বা বিজিডি (ইএই)। এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। তাদের মতে, নাম মুছে ফেললেই কি কলংক মুছে যাবে? শেষ পর্যন্ত পোষাক পরিবর্তন করা হলেও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যায়। তবে ২৪ নভেম্বর ২০০৯ তারিখ থেকে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার শুরু হয় রাঙ্গামাটিতে বিশেষ আদালত-৪ এ।
* বিডিআর বিদ্রোহ ২০০৯ সালকে যেমন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কলংকজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে তেমনি এটাকে দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বিশ্ব দরবারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী, সময়োচিত ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে অতি অল্প সময়ে এই বিদ্রোহকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সরকার। এতে করে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়। শুধু বিরোধীতার খাতিরে বিরোধীতার কথা বাদ দিলে দেশ-বিদেশে প্রশংসা অর্জন করে সরকারের এই পদক্ষেপ।
* বহু প্রতীক্ষীত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয় আওয়ামী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে ৫ অক্টোবরের, ২০০৯ তারিখে এই মামলার আসামী পক্ষের আপীল আবেদনের উপর চূড়ান্ত শুনানী শুরু হয় এবং এবং শেষ হয় ১২ নভেম্বর। ১৯ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে ঐতিহাসিক এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট তার রায়ে আসামীদের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। বাঙালী জাতি দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজে পায় এই রায়ের মাধ্যমে। এখন শুধু অপেক্ষা এই রায় কার্যকর করার। সরকার পক্ষ বলেছে আইনগত সবগুলো দিকের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন করে এই রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
* দীর্ঘদিন পর ২০০৯ সালে জনগণ নিঃশঙ্কচিত্তে ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ পালন করে। এর আগে ২০০১ সালে রমনা বটমূলে ১ বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা এবং এর ধারাবাহিকতার কারণে সন্ত্রস্ত ছিল জনগণ।
* জানুয়ারী, ০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগর মোকাবেলা করতে হয় এই সরকারকে। ২৫ মে, ২০০৯ তারিখে জলোচ্ছ্বাস ‘আইলা’ এর আঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। কিন্তু সরকারের তড়িৎ ও যথোচিত পদক্ষেপের ফলে ‘আইলা’ উত্তর ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যক্রম অন্যান্য বারের চেয়ে সুসংহতভাবে সম্পন্ন হয়।
* ভারত কর্তৃক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রসংগটি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পরই পুণরায় আলোচনায় আসে। ভারতের আগ্রহ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থনের সামনে প্রতিবাদমুখর হয়ে দাঁড়ায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক শ্রেণী। কারণ, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। যদিও ভারত বলেছে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোন কিছু করার ইচ্ছে তাদের নেই। বিবৃতি আর পাল্টা বিবৃতির যাঁতাকলে পড়ে বিষয়টি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
* বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এমনিতেই লাগামহীন। কারণে অকারণে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠা এখানকার নৈমিত্তিক সংস্কৃতির একটা অঙ্গ। আর রমজান মাস এলেই দ্রব্যমূল্যের গতি যেন হয়ে উঠে পাগলা ঘোড়া। গেলো বছরে রমজান মাসকে এ থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সরকার। এ লক্ষ্যে পূর্ব থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু দেখা গেল যা লাউ তাই কদু। সরকারের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির গতি অন্য সময়কে ছাড়িয়ে যায়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রি পরিষদ বৈঠকে।
* ক্রসফায়ার নামক বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাস নির্মূলের প্রক্রিয়াটি আবারও বাস্তবায়িত হতে দেখা যায় ২০০৯ এর মাঝামাঝি সময়ে। একের পর এক এর শিকার হতে থাকে উত্তরাঞ্চলের চরমপন্থী নেতারা। পাশাপাশি দাবী উঠে এই বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড বন্ধের। কারণ, এই ধরনের হত্যাকান্ড একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দ্ব দিনের আলোর অধিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ১৯ জুন মধ্য রাত থেকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দেয় সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেয়া এই পদক্ষেপের লক্ষ্য প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক হলেও পর্যবেক্ষকদের হিসাবমতে খুব একটা সাফল্য আসেনি এ থেকে। তাই লক্ষ্যে অটল সরকার পরবর্তীতে ১ কোটি ৪৬ লাখ এনার্জি সেভার লাইট বিতরণের উদ্যোগ নেয়।
দ্ব ২০০৯ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীতে। ঘ-১/ঐ-১ নামক ভাইরাসবাহী এই রোগটা মূলত শুকরের শ্বাসতন্ত্রজনিত একটি রোগ। এই রোগের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা যায় চীন, কোরিয়াসহ অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশে। ঘ-১/ঐ-১ জীবাণুবাহী মানুষ বিদেশ ভ্রমণশেষে বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে রোগটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের মৃতের সংখ্যা ৫ এর বেশী নয়। মেডিকেল সূত্রমতে, প্রথম থেকে সাবধানতা অবলম্বন করলে এই রোগ অতটা ভয়ংকার আকার ধারণ করতে পারে না।
* ২০০৯ সালে আমাদের মধ্য থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছেন ভাষা আন্দোলনের এক কিংবদন্তী সৈনিক গাজীউল হক। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি সংগ্রামী চেতনার অবকাশ ঘটে বাংলাদেশে। ১৯৫২ সালে বাংলাকে মাতৃভাষা করার দাবীতে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছিল যে কয়জন তরুণ তাদের মধ্যে গাজীউল হক ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।
* ২০০৯ সালের ৯ মে মৃত্যুবরণ করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ডঃ এম ওয়াজেদ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। সততা আর নির্মোহ চেতনার চির ভাস্বর প্রতিকৃতি ডঃ এম ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুতে দল-মত-নির্বিশেষে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছে দেশের জনগণ।
* এই বছরে আমরা আরও হারিয়েছি আমাদের বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমকে। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গাড়ী চলে না চলে না চলে না রে----, সোনাবন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো, তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো ইত্যাদি গানের মতো অসম্ভব জনপ্রিয় অসংখ্য গানের রচয়িতা ছিলেন আব্দুল করিম। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংগীত জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হবে কি না সেটা সময়ই কেবল বলতে পারবে।
* সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষ ও দেশপ্রেমী নাগরিকদের জন্য আশাব্যঞ্জক উদ্দীপনা নিয়ে ২০০৯ সালে আত্মপ্রকাশ করে মাসিক দশদিক। জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত তথ্যবহুল এই পত্রিকাটি নিরবচ্ছিন্নভাবে তার প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে এবং পাঠক সমাজে একটা নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকাটির সাফল্যের অগ্রযাত্রায় ২০০৯ সালটি জড়িয়ে থাকবে।
* সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও প্রাক্তন মহাসচিব আব্দুল জলিলের মন্তব্যে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। নিজের দল আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা ও দলের সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে আব্দুল জলিলের মন্তব্য হলো যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে অাঁতাত করে ক্ষমতায় এসেছে এই সরকার এবং এর অধিকাংশ মন্ত্রী এমপি হচ্ছে ডিজিএফআই এর এজেন্ট। আব্দুল জলিলের এমন মন্তব্যে সরকার এবং বিরোধী উভয় শিবিরে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মাত্রা পায়। তাছাড়া বিরোধী শিবির এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে। তবে আব্দুল জলিল অসাবধানতাবশত করা তার এই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। যে কারণেই হোক, আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকে অবশ্য আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে কঠিন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়নি।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
 |
|
|
|
Untitled Document
|
|
Designed & Developed by Doshdik
Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com |
| Home | About Us| Advertise
| Terms & Conditions| Contact Us |
| ©Doshdik
Media Limited. All rights reserved. |
|
|