Untitled Document
Make Doshdik your homepage
Untitled Document
 
 
 
You are visitor number 84772You are visitor number 84772You are visitor number 84772You are visitor number 84772You are visitor number 84772
 
     
 
2010-02-26
প্রধানমন্ত্রীর বহু প্রত্যাশিত ভারত সফরঃ সফলতা ও ব্যর্থতার খতিয়ান
 
  এম এ নোমান  
  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ থেকে ১৩ জানুয়ারি প্রতিবেশী দেশ ভারত সফর করেছেন। এ সফরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা চলছে এবং এটি চলতে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ মহাজোটভুক্ত রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসমূহ এবং তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঐতিহাসিক এবং শতভাগ সফল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অপরদিকে বিরোধী দলগুলো এবং বুদ্ধিজীবীরা এ সফরকে শুধু ব্যর্থ সফরই নয়, এটিকে দেশ বিকিদ্ধর সফর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতের কাছে দেশ ও দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে এসেছেন। ভারত সফর থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও হিসাব-নিকাশ চলছে। বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রীরা প্রতিবেশী দেশ ভারত এর আগেও সফর করেছেন। কিন' এবারের সফর নিয়ে এত হৈ-চৈ আগে কখনো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসলে জিয়া আন-র্জাতিক বিমান বন্দরেই লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটিয়ে রাজনিক সংবর্ধনা দেয় আওয়ামী লীগ। এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশ সন্ত্রাস দমনে তিনটি চুক্তি, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশ এবং ভারত পরস্পরের সমুদ্র, রেল এবং সড়ক পথ ব্যবহারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রেল ব্যবস'া সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস'া উন্নয়ন ও নদী পুনঃখননের জন্য ১০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিস-ার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশ একমত পোষণ করার পাশাপাশি দ্রুত এ বিষয়ে চুক্তি কার্যকরের জন্য উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। টিপাইমুখে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোন প্রকল্প বাস-বায়ন থেকে ভারত সরকার বিরত থাকার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। হাসিনা এবং মনমোহন সিংয়ের বৈঠকে চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন বৈঠকের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দু’দেশের যৌথ ইশতেহারে, ভারতের গ্রিড থেকে বাংলাদেশকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান- হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে সম্মত হয়েছেন দু’ দেশের শীর্ষ নেতারা। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৪৭টি পণ্য ভারতের বাজারে উম্মুক্ত প্রবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো যদি যথাযথ বাস-বায়ন করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সামগ্রিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এর বিপরীত মতও রয়েছে। রাজনৈরতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন- ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যতগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, তার কোনটিই এখন পর্যন- বাস-বায়ন হয়নি। এতে ধরে নেয়া যায় যে, এবারের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যতও আগেরগুলোর মতোই হয়তো হবে। উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের মধ্য দিয়ে ভারতকে চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এ দু’বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে সহজে সেভেন সিস্টার অন-র্ভুক্ত রাজ্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। বাংলাদেশের আশুগঞ্জ এবং ভারতের শিলঘাট বন্দরকে পরস্পরের ব্যবহারের জন্য পোর্ট অব কল (ট্রানজিট) ঘোষণা করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন উভয় প্রধানমন্ত্রী। তারা রহনপুর-সিঙ্গাবাদ ব্রডগেজ রেল যোগাযোগ চালু করতে একমত হন। একইভাবে ভুটানে পণ্য পরিবহনে ভারতের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রেল ট্রানজিটের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠকে মেঘালয় সীমানে-র কিছু নির্ধারিত এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে সীমান- বাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান- নেয়া হয়। ওই সীমান- বাজারে নির্দিষ্ট পণ্য কেনাবেচা করা হবে। এছাড়া ভুটান ও নেপাল থেকে পণ্যবাহী ট্রাক জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাবান্দা ফুলবাড়ি সীমান- স'ল বন্দরের ২০০ মিটার পর্যন- আসার বিষয়ে সিদ্ধান- হয়। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস'া উন্নয়নে বাংলাদেশের বিএসটিআইকে সহযোগিতা দিতে রাজি হয়েছে ভারত। দুই দেশের বিনিয়োগকারীদের যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে রাজি হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী সাবরুম-রামগড়, দেমাগিরি-থেমামুগ স'ল বন্দরগুলো অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চালু করতে রাজি হয়েছেন। মূলত এগুলো নিয়ে দু’দেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা হয়। কিন', দীর্ঘদিন যাবৎ ভারতের সাথে বাংলাদেশের অমীমাংসিত প্রধান ইস্যুগুলো এ বৈঠকে কোন প্রকার সুরাহা হয়নি। আন-ঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন-র্জাতিক ৫৪টি নদীতে ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণ, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিতর্ক এবং দ্বন্দ্ব, তিনবিঘা করিডোর, বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপে ভারতের দখলদারিত্ব ইত্যাদি এজেন্ডাগুলো অতীতের বৈঠকের মত উত্থাপিত হলেও চুড়ান- কোন সিদ্ধান- আসেনি। অথচ ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে এগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব পেয়ে আসছিলো। ফলে সফরের মাধ্যমে যে অর্জন তা এ কারণে অনেকটা ঢাকা পড়ে গেছে। বর্তমানে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে ভারতের বাজারে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও তা আমদানির তুলনায় নগণ্য। সাফটার আওতায় ভারত নিষিদ্ধ পণ্যের অবয়ব ছোট করছে এবং ২০০৬ সালে বাংলাদেশকে পোশাক খাতে সীমিত আকারে প্রবেশের সুবিধা দিয়েছে। এত কিছুর পরও এফবিসিসিআই-এর হিসেবে ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ভারতে ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বাংলাদেশি পণ্য রফতানি করা হয়েছে। একই বছর ভারত থেকে আমদানি করা হয় ২৮৬ কোটি ৩৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। ফলে ওই বছর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৫৮ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একইভাবে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৩৩৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করে। ওই বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফানি হয় মাত্র ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য। তিস-ার পানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে তিস-ার পানি কমে যাওয়ায় দু’দেশের মানুষ নানমুখী সমস্যায় আক্রান-। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে দ্রুত তিস-ার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনে দুই দেশের শীর্ষ নেতা একমত পোষণ করেন। এ লক্ষে চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে দু’দেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠানের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এটি যদি সিত্যকার অর্থেই সমাধান করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। নয়তো আগের মতোই সূদুর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কবে ভারত রাজি হয়। তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মাধ্যে বাংলাদেশের অর্জন হয়েছে বলা যাবে। ভারত কিন' সফর থেকে নগদই অর্জন করে নিয়েছে। হাসিনা-মনমোহনের বৈঠকের পর ভারতীয় মিডিয়ার প্রধান শিরোনাম ছিল, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে ভারত তার পূর্ণ সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার উচ্ছ্বাসও ছিল লক্ষণীয়। ভারতের প্রতিশ্রুতি এবং বাংলাদেশের সংশয় মুক্তভাবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ৪৭টি পণ্য প্রবেশের প্রতিশ্রুতি ভারত অতীতে একাধিকবার দিয়েছে। কিন' তা শেষ পর্যন- বাস-বায়ন করা হয়নি। বেশ কিছু পর্যায়ে দেখা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রদত্ত এহেন প্রতিশ্রুতি রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে তা আর বাস-বায়ন করা যায়নি। বর্তমানে ভারতের টিভি চ্যানেলের অধিকাংশ বাংলাদেশে চালু আছে। কিন', বাংলাদেশের সমস- চ্যানেলই ভারতে নিষিদ্ধ। ভারতীয় সাহিত্যিকদের বই বাংলাদেশের বাজারে অহরহ পাওয়া যায়। বিপরীতে, বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের বই পশ্চিমবঙ্গে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর প্রবেশ খুবই সামান্য। ফলে বাংলাদেশি ৪৭ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে ভারতে প্রবেশের বিষয়ে এখনই উচ্ছ্বাসের তেমন কিছু নেই। ভারত যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের বিষয়ে আন-রিক হত তাহলে অন-ত বই বা স্যাটেলাইটের বিষয়ে উদার হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। সামপ্রতিক সময়ে কোপেনহেগেনে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর ব্যবস'া গ্রহণের জন্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সম্মেলনে কার্বন নির্গমনকারী প্রধান পাঁচটি দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয় রাষ্ট্র যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা সমুদ্র তলে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখানে প্রসঙ্গটি নিয়ে আসা হয়েছে ভারতের মনোভাব বুঝার জন্য। সম্মেলন থেকে ভারতীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জয়রাম রামেশ স্বদেশে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, “কোপেনহেগেনে গিয়েছিলাম ভারতীয় পুঁজি রক্ষার জন্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। ভারতের প্রতিশ্রুতি ১০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিয়েও খুশি হওয়ার তেমন কিছু নেই। প্রথমত, ভারত টাকা দিচ্ছে ঋণ আকারে, অনুদান হিসেবে নয়। এ ঋণের সুদ বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে এ টাকা নিকট ভবিষ্যতে সুদ আসলে ফেরত দিতে হবে। তার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এ ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে না। টাকা খরচের পেছনে যেসব শর্ত রয়েছে, তা হল- ভারতের স্বার্থে তাদের জন্যই রেল অবকাঠামো, ব্রডগেজ ইঞ্জিন, যাত্রীবাহী বগি, সৈয়দপুরের রেলওয়ে কারখানা সংস্কার, সিএনজি চালিত বাস কেনা ও নদী পুনঃখননে তা ব্যয় করতে হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রধান যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে, তা হল দু’দেশের বিদ্যমান পানি সংকট। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় টিপাইমুখে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোন ভারতীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলে সে দেশের সরকার ঘোষণা দিয়েছে। কিন', বাঁধ নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধের বিষয়ে ভারত সরকার সুনির্দিষ্ট কোন আশ্বাস দেয়নি। এ টিপাই বাঁধ ভারত সরকারের বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। কারণ, তাদের আগ্রাসী আন-ঃসংযোগ প্রকল্পের একটা অংশ হচ্ছে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ। উদাহরণ হিসেবে ফারাক্কা বাঁধের অতীত প্রেক্ষিত নিয়ে আসা যায়। ১৯৭৫-এ প্রথমবারের মত পরীক্ষামূলক ফারাক্কা বাঁধ চালুর জন্য ভারত বাংলাদেশের সাথে ৪১ দিন পানি প্রত্যাহারের চুক্তি সম্পাদিত করে। চুক্তিতে বলা হয়, একটা স'ায়ী চুক্তি ছাড়া ভারত কোনভাবেই ফারাক্কা বাঁধ চালু করবে না। আর এ অনুমতি অপব্যবহার করে ভারত চুক্তির ৪১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করতে থাকে। যা অদ্যাবধি চলে আসছে। আরও ভয়ানক বিষয় হচ্ছে, ’৯৬-এর ১২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পানি চুক্তিকে এখনো সফল হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। ওই চুক্তিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করেছিলেন। কিন' এ চুক্তি ছিল বিশাল ধরনের প্রহসন। যা আজ প্রমাণিত। ওই চুক্তির কোথাও স্পষ্ট লেখা নেই, বাংলাদেশ কি পরিমাণ পানি পাবে। কারণ, ’৯৬-এর চুক্তি অনুসারে পানির বণ্টন হবে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে যে পরিমাণ পানির প্রবাহ থাকে তাকে ভিত্তি করে। অর্থাৎ ফারাক্কার উজানে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের উপর দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানি চুক্তির মধ্যে অন-র্ভুক্ত হয়নি। অথচ উত্তর প্রদেশ এবং বিহার অঞ্চলে পানি প্রত্যাহারের কারণে ফারাক্কার পানি সংকট। ফলে এ চুক্তি যে লোক দেখানো তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। চুক্তির দূর্বলতার সুযোগে ভারত গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে তাদের মরু অঞ্চলে নিয়ে সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছে। আর আমাদের প্রমত্ত পদ্মার অববাহিকায় গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিশাল অঞ্চলে মরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বলা হচ্ছে, নেপাল এবং ভুটান চট্টগ্রাম-মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে দেশের নানা মহলে উচ্ছ্বাসও চলছে। কারণ, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজস্ব বাড়বে। কিন', এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে প্রস-াব দেয়া হলে, ওই দেশের কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ ছিল। যদি ভারত হ্যাঁও বলত, তারপরও সংকট নিরসনের সুযোগ নেই। কারণ, এ ব্যবস'া কার্যকরের জন্য ভারতের কাছ থেকে নেপাল-ভুটানের ট্রানজিট দরকার। বাংলাদেশ থেকে ওইসব দেশের ভারতের উপর দিয়ে রেল বা সড়ক পথে যেতে হবে। নেপাল বহুদিন ধরে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সমপ্রসারণ এবং মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে ১৮ কিলোমিটার ট্রানজিট চাইছে, যা আজ পর্যন- তারা পায়নি। আরো বেশ কিছু বিষয়ে অমীমাংসিত থাকা অবস'ায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে সমুদ্র সীমা নিয়ে বিতর্ক, তালপট্টি দ্বীপে ভারতীয় দখলদারিত্ব, তিন বিঘা করিডোর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সমপ্রতি, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানে জরিপ চালাতে গেলে ভারত থেকে বাধার সম্মুখীন হয়। সীমা নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ আন-র্জাতিকভাবে জাতিসংঘের সালিশ নিষ্পত্তিরও উদ্যোগ নেয়। আঙ্গরপোতা- দহগ্রামের ৩০ হাজার মানুষকে বাংলাদেশের মুল ভুখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মরহুম শেখ মুজিবর রহমান চুক্তি করে ভারতকে বেরুবাড়ি দিয়েছেন। কিন' চুক্তি অনুযায়ী ভারত আজোও বাংলাদেশকে তিনবিঘা করিডোরের কর্তৃত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত দাবি উত্থাপন করা হলেও ভারত এ বিষয়ে কর্ণপাতও করছে না। গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুটিও আলোচনা হয়নি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়ে। ১৯৭৪-এর ১৬ মে দিল্লীতে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে দু’দেশের সীমানা নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ওই দিনই ভারত ২ দশমিক ৬৪ বর্গমাইলের বেরুবাড়ি ছিটমহলের মালিক হয়। বিনিময়ে ৩ বিঘা আয়তনের করিডোর বাংলাদেশের কাছে চিরস'ায়ী বন্দোবস- দেয়ার কথা থাকলেও আজও বাংলাদেশ তা পায়নি। দু’দেশের অভ্যন-রে অবসি'ত ১৬২টি (বর্তমানে ১৬৮টি) ছিটমহল চুক্তির ৬ মাসের মধ্যে বিনিময়ের কথা থাকলেও তা অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে এসব ছিটমহলে ২ লাখ লোক মানবেতর দিন যাপন করছে। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে রাতের সময় ডাক্তারি সুবিধা থেকেও ছিটমহলের বাংলাদেশি অধিবাসিরা বঞ্চিত। তাছাড়া, ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে বাংলাদেশ আন-রিক থাকলেও ভারতীয় উদ্যোগ মোটেই সনে-াষজনক নয়। চুক্তি লংঘনের পাশাপাশি ভারত প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।
 
 
 
     
[Back]  
Untitled Document
 
 
Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com
Home | About Us| Advertise | Terms & Conditions| Contact Us
©Doshdik Media Limited. All rights reserved.