Untitled Document
Make Doshdik your homepage
Untitled Document
 
 
 
You are visitor number 84750You are visitor number 84750You are visitor number 84750You are visitor number 84750You are visitor number 84750
 
     
 
2010-02-26
সুচরিতার মেয়ে শাবনূর
 
   
  ধীরে ধীরে এগুছে চ্যালেঞ্জের পরিণত রূপায়নের আয়োজন। মুভি ক্যামেরা কেনা হলো (আইমেরা) সাউন্ড গেট নেই ক্যামেরার। তাই কেনা হলো বড় একটি টেপ রেকর্ডার। শুটিং এর সময় ক্যামেরার সাথে চলতে থাকবে এই রেকর্ডার। এতে করে সংলাপগুলো ধারাবাহিক রেকর্ড হয়ে থাকবে। চিত্রনাট্য, ক্যামেরাম্যান সবকিছুরই একটা একটা করে বন্দোবস- হলো। কিন' ছবির ৫২টি চরিত্রের জন্য প্রয়োজন ৫২ জন মানুষ। পুরান ঢাকার অম্বুজ গুপ্ত ‘সুকুমারী’ নামে যে ছবি করার প্রয়াস নিয়েছিলেন, তাতে নারী চরিত্রের একজন পুরুষই অভিনয় করেন। যদিও সেটি মাত্র কয়েক মিনিটের ছবি ছিল। তাও সংলাপহীন। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন ‘দি লাস্ট কিস্‌’ নামে যে ছবি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাতে নারী চরিত্রের জন্য কাউকে না পেয়ে পুরান ঢাকার বাদামতলী পতিতালয় থেকে একজন পতিতাকে অনেক অনুরোধে রাজি করিয়েছিলেন অভিনয়ের জন্য। এটিও কোনো সংলাপযুক্ত চলচ্চিত্র ছিল না। তবে মহৎ প্রয়াস হিসেবে ইতিহাসের অনিবার্য অধ্যায় হয়ে আছে। তাই ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবি তৈরি করতে গিয়েও একই ধরনের সমস্যায় পড়লেন আবদুল জব্বার খান। তবে সুকুমারী কিংবা দি লাষ্ট কিস্‌ এর সময় আর মুখ ও মুখোশ নির্মাণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাছাড়া এতদিনে নাট্যমঞ্চায়ন, নাট্যচর্চা ও নাট্য আন্দোলন অনেক বিস-ৃতি লাভ করেছে। তবে রক্ষণশীল সমাজ তখনো এইসব অভিনয় সংস্কৃতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কলিম শরাফী এবং তাঁর স্ত্রী ‘এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না, বুবু মনির বিয়ে হবে, বাজবে কত বাজনা’খ্যাত কন্ঠশিল্পী--তখন বেশ খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পীও কামেলা শরাফী তাঁদের বসবাস চট্টগ্রামে। একটি ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন কলিম শরাফী। জব্বার খান প্রথমেই ছবির প্রধান চরিত্র অর্থাৎ নায়ক-নায়িকা নির্বাচনের জন্য ছুটে গেলেন চট্টগ্রামে। কলিম শরাফী দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের নায়ক চরিত্রের অনুরোধ শুনে খুবই উৎসাহিত হলেন। কিন' তাঁর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শ শুনে পরদিন জানিয়ে দিলেন তাঁকে পারিশ্রমিক দিতে হবে। যা তখন দেয়া সম্ভব নয়। এই কথা শুনে হতাশ হন জব্বার খান। ফিরে আসবেন ঢাকায় এমন সময় একজন এসে খবর দিলেন চট্টগ্রামের পাথর ঘাটায় পূর্নিমা সেনগুপ্তা নামে একটি মেয়ে আছে। নাটকে অভিনয় করে। দরকার হলে এই মেয়েকে ছবির নায়িকা করা যেতে পারে। এই প্রস-াবে জব্বার খান ভাবলেন, নায়িকা পাওয়া গেলে একটি বড় সমস্যার সমাধান হবে। তাই তিনি পূর্নিমা সেনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন। ছবিতে অভিনয়ের কথা শুনে খুশিতে লাফিয়ে উঠলেন পূর্ণিমা। কথাবার্তা পাকাপাকি হলো। ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ে পূর্ণিমা তাঁর বাবা-মাসহ ঢাকায় থাকবেন। তাঁদের খরচ বহন করবে মুখ ও মুখোশ নির্মাতা পক্ষ। কারণ পূর্ণিমার বাবা উৎসাহিত বোধ করলেও তাঁদের ঢাকায় এসে থাকার সামর্থ্য ছিল না। তাই তিনি বললেন, ‘আমরা যে গরীব, ঢাকায় গিয়ে থাকা খাওয়ার কোনো জায়গা নেই। জব্বার খান ঢাকায় ফিরে এসে ফরাশগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া করে তাঁদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস- করেন। এতদিনে শুধুমাত্র নায়িকা সংগ্রহ হলো। আরও বাকি ৫১টি চরিত্র। তাই আজাদ, ইত্তেফাক ও মর্নিং নিউজ পত্রিকায় এদেশের প্রথম ছবিতে অভিনয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নেয়া হবে শীর্ষক বিজ্ঞাপন দেয়া হলো। আর এই বিজ্ঞাপন দেখে গোপনে যোগাযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্রী জহরত আরা এবং ইডেন কলেজের আই এ শ্রেণীর ছাত্রী পিয়ারী বেগম (নাজমা)। অবশেষে নায়িকা চরিত্রের জন্য পিয়ারী বেগমকেই নির্বাচন করা হয়। আর পূর্ণিমা সেনগুপ্তাকে করা হয় দ্বিতীয় নায়িকা। ইতিমধ্যে চুক্তি মোতাবেক ঢাকায় চলে আসেন কলকাতার ক্যামেরাম্যান মুরারী মোহন ঘোষ। তাই তড়িঘড়ি করে অন্যান্য চরিত্রের শিল্পীদের ব্যাপারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নির্মাতা পক্ষ। তৎকালীন ঢাকা রেডিওর নাট্যাভিনেতা আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নায়ক চরিত্রের জন্য। তিনি রাজিও হন। কিন' শুটিং এর পূর্বক্ষণে বায়না ধরেন কিছু পারিশ্রমিকের জন্য। তাই জব্বার খান নিজেই নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের সিদ্বান- নেন। অবশ্য আমিনুল হকও শেষ পর্যন- অভিনয়ে আগ্রহী হন। তখন তাঁকে করা হয় দ্বিতীয় নায়ক। আর ছবির মূখ্য চরিত্র শমসের ডাকাতের জন্য নেয়া হয় তখনকার সংবাদ পাঠক ইনাম আহম্মেদকে। চাঁদপুরের একজন রেলওয়ে গার্ড ওয়ারিশ মিয়া যোগাযোগ করেন অভিনয়ের জন্য। তাঁকেও নেয়া হয়। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রের জন্য যাঁরা যোগাযোগ করেছেন তাঁদেরসহ বাকি চরিত্রগুলোতে পরিচিত মহলের মধ্য থেকে লেখক-সাংবাদিক-অফিসারসহ বন্ধু-বান্ধদেরকে নির্বাচন করা হয় চ্যালেঞ্জকে স্বার্থক করার জন্য। শেষ পর্যন- অন্যান্য চরিত্রে নির্বাচিত হন সোনা মিয়া (পরবর্তীতে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা) রহিমা (রহিমা খালা), নূরুল আনাম খাঁ (মাওলানা আকরাম খাঁর ভাই), ভবেশ মুখার্জী, বিনয় বিশ্বাস, মিনার (সিএসপি), সোবান, গওহর জামিল (মরহুম নৃত্যশিল্পী এবং রওশন জামিলের স্বামী) আলী মনসুর (আবৃত্তি শিল্পী), সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান (সাংবাদিক), কামরুজ্জামান (সিলেটের ম্যাজিস্ট্রেট এবং নায়ক সালমান শাহর নানা, কন্ঠশিল্পী নীলা চৌধুরীর বাবা), বিলকিস বারী (নৃত্য শিল্পী আলেয়া বারীর মা), আউয়াল খান (জব্বার খানের ছোটভাই), সাইফুদ্দিন (কৌতুক অভিনেতা এবং জব্বার খানের শ্যালক), জুলু খান (জব্বার খানের শিশুপুত্র) খালেদা ফয়েজা, ফাতেমা (মাত্র ১ মিনিটের একটি দৃশ্য, কলসী কাঁখে দাঁড়াতে রাজি হন), খুশু (ডাক্তার), আতাউর রফিক, আশরাফ, শাহাদাত, আসমত, জহীর চৌধুরী (পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালক), আওলাদ, আবুল খায়ের (পরবর্তীতে প্রখ্যাত টিভি অভিনেতা এবং এফডিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর), সুজাত, বাচ্চু, মঞ্জুর, ইকবাল, সোবহান, আকরাম, জুম্মন, সরদার জয়নুদ্দিন (সাহিত্যিক), কাওসার, সাদেক, আলীম, মোস-ফা, সাফী আবদুল হাই, সেকান্দর, ফজলু, ওয়ার্শী হাফেজ আলমগীর, এফ করিম, (ম্যাজিস্ট্রেট), ইকবাল, লাকী ও জামান। ১৯৫৩ সনের নভেম্বর মাসে শেষ হয় ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনের কাজ। একইসঙ্গে ছবির সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয় সমর দাসকে, কন্ঠশিল্পী আবদুল আলীম ও মাহবুবা হক (মাহবুবা রহমান)। রূপসজ্জায় শমসের আলী, আলোকচিত্রে মেছবাহুজ্জামান, আতাউর রহমান। নৃত্য পরিচালনায় গওহর জামিল, সহকারী পরিচালক এস এম শাহজাহান ও হাবীব মেহেদী, সহকারী সঙ্গীত পরিচালক দারাজউদ্দিন, সহকারী আলোকচিত্রে আমিনুর রহমান, মহিউদ্দিন ও রবিউদ্দিন, সহকারী শব্দগ্রহণে হাশমত আলী এবং সম্পাদকের সহকারী হিসেবে গোলাম মোস-ফা, দাউদ, ও হুমায়ুন দায়িত্ব পালন করেন। আর স্টুডিওবিহীন গান রেকর্ডিং এর জন্য যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হন কানাইলাল শীল, মীর কাশেম খান, আবেদ হোসেন খান, মোহাম্মদ হোসেন খান, ধীর আলী মনসুর, মোবারক এবং মোবারক আলী। পরবর্তীতে সবাই প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। উল্লেখ্য, আবদুল আলীমকে গানের জন্য ৭৫ টাকা এবং যাতায়াত বাবদ ১ টাকা (রুপি), সমর দাসকে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য ১৫০০ (পনেরশ টাকা) এবং মাহবুবা হুমায়ুনকে ৩০০ (তিনশ) টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। সমর দাসকে অগ্রীম দেয়া হয় ২৫০ টাকা। এভাবেই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশের নির্মাণ পর্ব।
 
 
 
     
[Back]  
Untitled Document
 
 
Designed & Developed by Doshdik Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com
Home | About Us| Advertise | Terms & Conditions| Contact Us
©Doshdik Media Limited. All rights reserved.