|
Untitled Document
|
|
Untitled Document
|
|
|
|
 |
|
2010-02-25 |
|
একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা |
|
|
|
|
|
|
সাইফ বরকতুল্লাহ |
|
|
|
|
একুশ হল আমাদের জাতীয় জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মপ্রকাশের এক তরঙ্গ। উত্তাপমুখর সেই সময়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা ভাষার জন্য বাঁচি এবং ভাষার জন্যই আত্মত্যাগ করি।
বাংলা সাহিত্যের ভ্রুনাঙ্কুরও বলা চলে উত্তাপ মিশ্রিত সেই গৌরবমাখা দিনগুলোর একুশের প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা ও ইতিহাসকে। সেই একুশ আজ আবেগ মিশ্রিত বাঙালির মনের মননশীল উচ্চারণে পরিণত হয়েছে।
আপন প্রাণের সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য আর কৃষ্টির সৃজনশীল এক প্রায়াস আমাদের অমর একুশে বইমেলা। বাঙালি’র প্রাণের মাঝে খেলা করা এই ‘বইমেলা’র মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণ অভিব্যক্ত হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।
বইমেলা শুধু বইয়ের প্রচার কিংবা বিক্রি নয়, এটি আজ পরিণত হয়েছে সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মেধাবী মুখদের মহোৎসবে। বাঙালি’র প্রাণের, গানের রাগ-অনুরাগের ফাগুনের প্রেমে ভাললাগার অশেষ যেন অমর একুশে বইমেলা।
বাংলা ভাষার উন্নয়ন, সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধন এবং পরবর্তীতে নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে বাংলা একাডেমী এদেশের ভাষার গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভাষার পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ, সাহিত্য- সর্বোপরি মননের মূল মাধ্যম হল বই। সেই বই নিয়ে ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাংলা একাডেমীর বটতলায় চট বিছিয়ে বিক্রি করার মধ্য দিয়ে এ মেলার সূচনা হয়েছিল। বই বিক্রির সে আয়োজন করেছিলেন প্রকাশনা জগতের কিংবদন-ী পুরুষ মুক্তধারা’র স্বত্ত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা। এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এদেশের প্রথম বইমেলা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় অবস'ান নেয়া এদেশের লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিকদের লেখা মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর ৩২টি বইয়ের আয়োজন নিয়ে ছিল এ মেলা। প্রচারণা ছাড়াই এ মেলার লোক সমাগম হয়েছিল অনেক।
একই বছর বাংলা একাডেমী বিশেষ মূল্য ছাড়ে নিজেদের বই বিক্রি করা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিসেফের সহায়তায় জাতীয় গ্রন'কেন্দ্রও বইমেলার আয়োজন করে। মুক্তধারা’র মুক্ত প্রাণের এই উদ্যোগের সাথে ১৯৭৬’এ ‘আহমদ পাবলিশিং হাউজ’, ৭৭’এ ‘নওরোজ কিতাবিস-ান’ ও ‘চলনি-কা’ যোগ দেয়। ৭৮’এ জাতীয় গ্রন' উন্নয়ন সংস'া’র আয়োজনে বাংলা একাডেমী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইমেলা’র আয়োজন করে। আর পরের বছরই মেলার সাথে যুক্ত হয় পুস-ক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। অবশেষে ৮৪’তে বাংলা একাডেমী বইমেলা নাম বদলে নামকরণ করা হয় অমর একুশে বইমেলা।
একুশে বই মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। আবার শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা-২০১০। গত ১ ফেব্রুায়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেছেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে ভাষা আন্দোলন জাদুঘরেরও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ফেব্রুয়ারির এই এক মাস বাংলা একাডেমীর মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে পাঠক-লেখক তথা গ্রন'ানুরাগী ও সংস্কৃতি-সচেতন লাখো মানুষের অবারিত পদচারণায় মুখর। অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি আবেগ এবং অসামপ্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, উদার চেতনা সম্পৃক্ত হয়ে একুশে বইমেলা রূপ নিয়েছে বাঙালির একটি সর্বজনীন জাতীয় উৎসবে।
এখানে শুধু ক্রেতা-পাঠকেরই সমাগম হয় না, মেলা পরিণত হয় লেখক-পাঠক, ক্রেতা-দর্শকসহ বয়স-শ্রেণী নির্বিশেষে সর্বস-রের মানুষের মিলনমেলায়। ইতিমধ্যেই সারা দেশ থেকে সৃজনশীল প্রকাশকগণ বিভিন্ন বিষয়ের হাজারো নতুন বই নিয়ে হাজির হয়েছেন মেলায়। মেলায় আগত দর্শক সমাগম নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে সারা দেশের অগণিত গ্রন'-পিপাসুর নতুন বই হাতে পাওয়ার আকাঙ্খাকে।
এবার মেলায় ৩৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৫০৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংস'াসহ সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সেবামূলক ও গণমাধ্যমের স্টল রয়েছে। গতবারের মতো এবারো মেলাকে একাডেমীর সামনের রাস-ায় সমপ্রসারণ করা হয়েছে। পাঁচ ভাষা শহীদ রফিক, শফিউর, বরকত সালাম, জব্বারের নামে করা হয়েছে ভাষা শহীদ চত্বর। এবারের মেলায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়াও রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মেলা সংক্রান- তথ্য সরবরাহের জন্য রয়েছে ফ্যাক্সসহ ই-মেইলের ব্যবস'া। এছাড়াও এবারই প্রথম মেলা প্রাঙ্গণকে ওয়াইফাই জোনে রূপান-র করায় মেলায় আগত সকলে ল্যাপটপে ফ্রি ব্রাউজিংয়ের সুবিধা পাচ্ছেন।
বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক বলেছেন- মেলায় আগতদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস'া নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেলায় ১৫টি সিসিটিভি স'াপন করার কথাও মহাপরিচালক জানিয়েছেন। তবে প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে মেলার নীতিমালাসহ সব কিছু সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা প্রথম থেকেই দেখতে হবে।
দর্শক সমাগম বেশি হওয়ার জন্য মেলা প্রাঙ্গণ সম্প্রসারণের কথা সকল মহল থেকেই জোরেশোরে আলোচিত হয়। কিন' এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এবার গতবারের চেয়ে কিছু বেশি স্টল বরাদ্দ দেয়া হলেও মেলার পরিসর আগের সমানই রয়েছে। প্রতি বছর লোক সমাগমের আধিক্যে এটা নিশ্চিতভাবেই বুঝা যাচ্ছে যে- এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বিকল্প চিন-া না করলে পাঠক-ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। তাতে উৎসবের আমেজও ম্লান হতে বাধ্য।
বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই কিন' মানসম্মত বই তেমন প্রকাশ হচ্ছে না। যেনতেনভাবে নতুন বই মেলায় আনার প্রবণতার ফলে মানহীন বই, তথ্য ও মুদ্রণত্রুটিযুক্ত বইয়ে বাজার ভরে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে তা প্রকাশনা শিল্প, ক্রেতা-পাঠক সবার জন্যই ক্ষতির কারণ হচ্ছে। বইয়ের মান সংরক্ষণে প্রকাশক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। একটি বিষয় আমলে নেয়া খুবই প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে- প্রকাশনা শিল্পকে মেলাকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বছর জুড়ে নতুন বই প্রকাশনা অব্যাহত রাখলে মেলার সময়ের বাড়তি চাপ থেকে লেখক-প্রকাশক সবাই মুক্ত থাকতে পারবেন এবং প্রকাশনার প্রতি যথাযথ মনোযোগী ও যত্নশীল হওয়ারও সুযোগ থাকে। একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে যেসব আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয় তাকে রুটিন কাজ হিসেবে না রেখে আরো জনসম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণমূলক করার ব্যাপারেও ভাবতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া একুশের চেতনা সমৃদ্ধ এ মেলাকে কীভাবে জেলা-উপজেলাতেও সমপ্রসারণ করা যায়- তা নিয়েও ভাবতে হবে। সময়ের অভিঘাতে সবকিছুই পাল্টাচ্ছে, বইমেলার চেতনা, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। তবে মেলা যেন কোনোভাবেই তার মূল আবেগ ও চেতনাবিচ্যুত না হয় সে দিকটা ঠিক রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে।
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
 |
|
|
|
Untitled Document
|
|
Designed & Developed by Doshdik
Media Ltd.
Japan address:
Akiba Mitaki-kan, 4F,Sotokanda 4-5-5,Chiyoda-ku,Tokyo 101-0021, Japan
Phone: +81-3-3255-5861 Fax: +81-3-3255-5862 E-mail: info@doshdik.com
Bangladesh Address:
House# 2, Road# 7, Sector# 3, Uttara Model Town, Dhaka-1230, Bangladesh
Phone: +880-2-8919351,
+880-2-8956608,Fax: +880-2-8963402,E-mail: info@doshdik.com |
| Home | About Us| Advertise
| Terms & Conditions| Contact Us |
| ©Doshdik
Media Limited. All rights reserved. |
|
|